০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পানের মূল্য হ্রাসে হতাশ মহেশখালীর পান চাষীরা

দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর নাম উচ্চারণ হলে মিষ্টি পানের দৃশ্য যেন ভেসে উঠে সবার দৃষ্টিকোণে। মহেশখালীর মিষ্টি পান দেশের পরিধি পেরিয়ে পৃথিবীতে সমাদৃত। চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর যত্নে বরজে বেড়ে ওঠে পান গাছের লতা। মহেশখালী দ্বীপের আবহাওয়া, মাটি এবং পানি ইত্যাদি পান চাষের উপযোগী বলেই প্রতিবছর বিদেশে রপ্তানি হওয়া পানের অধিকাংশ মহেশখালী দ্বীপে উৎপাদিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির পান চাষ হলেও মহেশখালীর পান মানুষের কাছে আলাদা কদর মিষ্টি স্বাদের কারণে।

সার, মজুরি, বাঁশ, চন, গোবর ইত্যাদির দাম বাড়তি তাই পান উৎপাদনে খরচ ও বেড়ে গেছে। সম্প্রতি সারা দেশে মোকামগুলোতে পানের দাম অনাকাঙ্ক্ষিত হ্রাস । এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পান চাষিরা। ছোট মহেশখালীর পানচাষী মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান সারাদেশে খিলি পানের দাম দিগুন হয়েছে অথচ আমরা পানের উৎপাদন খরচ ও পাচ্ছি না। পানের দামের ওঠা-নামা স্বাভাবিক হলেও এ বছর দামটা বেশ কম। ধারদেনা করে আমি ৩০ শতাংশ জমিতে পানের বরজ চাষ করছি। পানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে এখন আমরা পান চাষীরা দিশাহীন হয়ে পড়েছি। তিন আরো বলেন বিক্রির সময় পান তিন ধরনের ভাগ করে বিক্রি করি । এর মধ্যে থাকে ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পান। সে অনুযায়ী এক বিড়া (১৬০ টি) পানপাতার দাম ছোট ৫০থেকে ৮০ টাকা,মাঝারি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা আর বড় সাইজের ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করি। কিন্তু চলতি বছরে বড় সাইজের পান বিক্রি করছি ১৩০ থেকে ২০০ টাকায় পানের যা দাম পান বিক্রি করে শ্রমিক খরচই উঠাতে পারছি না।
মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, এই পাহাড়ি দ্বীপের অনেক মানুষ মিষ্টি পানের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন । এখন প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হচ্ছে। চলিত মৌসুমে চাহিদার তুলনায় পানের উৎপাদন বেশি হওয়ায় দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ অঞ্চলের পান চাষিদেরকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে উত্তম কৃষি চর্চা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তবে দুঃখের বিষয় মহেশখালীর পানের কদর পৃথিবী জুড়ে হলেও বাংলাদেশের জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে রাজশাহীর মিষ্টি পান স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতিটি ২০২৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি জার্নালে প্রকাশিত হয়। তখন জিআই পণ্য হিসাবে মহেশখালীর মিষ্টি পানকে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে কক্সবাজার সহ সারাদেশে আওয়াজ ওঠে।
মহেশখালী দ্বীপের পান চাষীদের দাবী পানের ন্যায্য মূল্য ও জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতী পাওয়া।
এসএস/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

পানের মূল্য হ্রাসে হতাশ মহেশখালীর পান চাষীরা

আপডেট সময় : ০৫:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর নাম উচ্চারণ হলে মিষ্টি পানের দৃশ্য যেন ভেসে উঠে সবার দৃষ্টিকোণে। মহেশখালীর মিষ্টি পান দেশের পরিধি পেরিয়ে পৃথিবীতে সমাদৃত। চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর যত্নে বরজে বেড়ে ওঠে পান গাছের লতা। মহেশখালী দ্বীপের আবহাওয়া, মাটি এবং পানি ইত্যাদি পান চাষের উপযোগী বলেই প্রতিবছর বিদেশে রপ্তানি হওয়া পানের অধিকাংশ মহেশখালী দ্বীপে উৎপাদিত হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির পান চাষ হলেও মহেশখালীর পান মানুষের কাছে আলাদা কদর মিষ্টি স্বাদের কারণে।

সার, মজুরি, বাঁশ, চন, গোবর ইত্যাদির দাম বাড়তি তাই পান উৎপাদনে খরচ ও বেড়ে গেছে। সম্প্রতি সারা দেশে মোকামগুলোতে পানের দাম অনাকাঙ্ক্ষিত হ্রাস । এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পান চাষিরা। ছোট মহেশখালীর পানচাষী মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান সারাদেশে খিলি পানের দাম দিগুন হয়েছে অথচ আমরা পানের উৎপাদন খরচ ও পাচ্ছি না। পানের দামের ওঠা-নামা স্বাভাবিক হলেও এ বছর দামটা বেশ কম। ধারদেনা করে আমি ৩০ শতাংশ জমিতে পানের বরজ চাষ করছি। পানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে এখন আমরা পান চাষীরা দিশাহীন হয়ে পড়েছি। তিন আরো বলেন বিক্রির সময় পান তিন ধরনের ভাগ করে বিক্রি করি । এর মধ্যে থাকে ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পান। সে অনুযায়ী এক বিড়া (১৬০ টি) পানপাতার দাম ছোট ৫০থেকে ৮০ টাকা,মাঝারি ১০০ থেকে ১৬০ টাকা আর বড় সাইজের ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করি। কিন্তু চলতি বছরে বড় সাইজের পান বিক্রি করছি ১৩০ থেকে ২০০ টাকায় পানের যা দাম পান বিক্রি করে শ্রমিক খরচই উঠাতে পারছি না।
মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, এই পাহাড়ি দ্বীপের অনেক মানুষ মিষ্টি পানের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন । এখন প্রায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হচ্ছে। চলিত মৌসুমে চাহিদার তুলনায় পানের উৎপাদন বেশি হওয়ায় দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ অঞ্চলের পান চাষিদেরকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে উত্তম কৃষি চর্চা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তবে দুঃখের বিষয় মহেশখালীর পানের কদর পৃথিবী জুড়ে হলেও বাংলাদেশের জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে রাজশাহীর মিষ্টি পান স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতিটি ২০২৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি জার্নালে প্রকাশিত হয়। তখন জিআই পণ্য হিসাবে মহেশখালীর মিষ্টি পানকে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে কক্সবাজার সহ সারাদেশে আওয়াজ ওঠে।
মহেশখালী দ্বীপের পান চাষীদের দাবী পানের ন্যায্য মূল্য ও জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতী পাওয়া।
এসএস/সবা