পবিত্র মাহে রমজানে বাহারি ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছে রংপুরের ছোট-বড় হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো। নগরের অলিগলি থেকে ফুটপাত ও মোড়ে মোড়ে নজর কাড়ছে টেবিলে সাজানো বাহারি সব ইফতার সামগ্রী। তবে ইফতার ক্রয় করতে দুপুরের পর থেকে রীতিমতো ভিড় করছেন ক্রেতারা। ইফতারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত চলে জমজমাট কেনাবেচা। নানা ধরণ ইফতারের মধ্যে রংপুরের মানুষের খাবার তালিকায় মুড়ি, ভাজাপোড়া আর মুখরোচক খাবার প্রাধান্য পায় বহুকাল ধরে। তবে কয়েক বছর ধরে রোজাদারদের খাবারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মস্কট শাহী হালুয়া। রংপুর মহানগরীর কাচারি এলাকায় নগরীর বড় ইফতার বাজার বসেছে।
ইফতারের সমারোহে রোজাদারদের কাছে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে মৌবন হোটেলের তৈরি মস্কট হালুয়া। আবার অনেকের কাছে শাহী হালুয়া নামেও বেশ পরিচিত এটি। মৌবন হোটেলের কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ময়দা, চিনি, শিরা, অন্যান্য খাদ্য উপকরণ দ্বারা তৈরি হয় এই হালুয়ার ছানা। পরে রুহ আফজা মিশিয়ে অন্য পাত্রে রেখে ঠান্ডা করলেই রুপ নেয় টস টসে লাল রঙের আলতো জমাট বাঁধা হলুয়া। এই জমাট বাঁধা খামির থেকে পিচ পিচ করে কেটে বিক্রয়ের উপযোগী করা হয় রোজাদারদের ইফতারের জন্য। প্রতি পিচ ১০ টাকা করে ছাড়াও ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হয় মস্কট হালুয়া। রোজাদারদের ইফতার পার্টিও বেশ জনপ্রিয় এই হালুয়াটি। মৌবন আউটলেটে ইফতার ক্রয় করতে এসে রংপুর নগরীর আশরতপুর এলাকার আমিরুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর থেকে এই হালুয়া ক্রয় করে নিয়ে যাই ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে।
বাসায় মা এবং ছোট বোন খুব পছন্দ করে এই হালুয়া। মৌবন হোটেলের বিক্রেতা লেবু মিয়া বলেন, দই বড়া, শাহী জিলাপি, বুট বুন্দিয়া, বুটবিরিয়ানী, ছানা পোলাও, পেঁয়াজু আর চপের সঙ্গে রোজাদারগণ ক্রয় কতে রুহ আফজার মস্কট হালুয়া। আর প্রত্যেক রমজানে এমন ব্যতিক্রমী আইটেম তৈরি করে থাকে নগরীর মৌবন হোটেল। গতবারের চেয়ে এবার শাহী মস্কট হালুয়ার চাহিদা বেশি। মস্কট হালুয়া ছাড়াও ৫০ থেকে ৭০ প্রকাশ বাহারি মুখরোচক ইফতার সামগ্রী বিক্রয় হচ্ছে মৌবন হোটেলে। মান ভেদে প্রতিটি ইফতার প্যাকেজ ১০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এছাড়াও নগরীর জাহাজ কো¤পানি মোড়, কাচারি বাজার, পায়রা চত্ত্বর, শাপলা চত্ত্বর, মেডিকেল মোড়, সিও বাজার, লালবাগ মোড়, মর্ডাণ অর্জন মোড়, সাতমাথাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে বসেছে ইফতারের বড় বাজার।










