০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জলদস্যুদের সঙ্গে জিম্মি নাবিকসহ জাহাজ উদ্ধারে মুক্তিপণের বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা হয়নি

 

◉ তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চলছে আলাপ-আলোচনা

◉ ঈদের আগে মুক্তি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা, বিশুব্ধ পানি নিয়ে দুশ্চিন্তা

◉ খাবারের জন্য জাহাজে তেহারি-দুম্বা-ছাগল আনছে দস্যুরা

 

 

ভারত মহাসাগর থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহসহ জিম্মি ২৩ নাবিকের মুক্তিপণের বিষয়ে এখনো সরাসরি সোমালীয় জলদস্যুদের সঙ্গে কোনো ধরনের কথাই হয়নি। তবে সোমালীয় জলদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি ২৩ বাংলাদেশি নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারের বিষয়ে তৃতীয় মাধ্যম হিসেবে জলদস্যুদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ঈদের আগে তাদের মুুক্তি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে খাদ্যের মজুত শেষপর্যায়ে থাকায় এবং বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে আশায় জাহাজের জিম্মি নাবিকরা অনেকটাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খাদ্য ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে উপকূলের তীরবর্তী এলাকা থেকে নাবিকদের আহার যোগাতে জিম্মি জাহাজে দুম্বা-ছাগল আনছে জলদস্যুরা। গতকাল শুক্রবার জিম্মি জাহাজের মালিকপক্ষ ও নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘মুক্তিপণ চূড়ান্ত হয়েছে’ শীর্ষক খবর প্রচারের পর বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন জাহাজটির মালিকপক্ষ। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের (জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপ) সঙ্গে দর কষাকষি করে মুক্তিপণ চূড়ান্ত হয়েছে- এমন খবর প্রচার হচ্ছে। তবে এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। যেহেতু মালিকপক্ষের হয়ে আমি গণমাধ্যমে কথা বলছি, তাই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমি গণমাধ্যমের কাউকে এমন কিছু জানাইনি।

 

মিজানুল ইসলাম বলেন, জলদস্যুরা যে তৃতীয়পক্ষ নিয়োগ করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তবে এখনো তারা মুক্তিপণের বিষয়টি সামনে আনেনি। আমরা মুক্তিপণের এমন কিছু হতে পারে ধরে নিয়ে অগ্রিম কিছু পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি।

 

মিজানুল বলেন, ১৩ বছর আগে এমভি জাহান মনিকে যেভাবে দস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা এগোচ্ছি। নাবিকরা মুক্তি পেলে তাদের বিমানযোগে দেশে আনা হবে। এছাড়া জাহাজ ফিরিয়ে আনার জন্য অপর একটি দলকে পাঠানো হবে, সেটিও ঠিক করে রাখা হয়েছে। আমরা আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দেশনা অনুসারে কাজ করছি। অনেকের মতো আমরাও আশা করছি, ঈদের আগে নাবিকদের ফিরিয়ে আনা যাবে। তবে এটা সম্পূর্ণ জলদস্যুদের হাতে, ওরা না চাইলে আমরা নিজের থেকে কিছু করতে পারব না। ঠিক কার সঙ্গে কোথায়, আলোচনা হয়েছে বা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে এ মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে অনেকের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান মিজানুল ইসলাম।
জাহাজে থাকা খাবারের বিষয়ে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘জলদস্যুরা এখন জাহাজের খাবার তেমন একটা ব্যবহার করছে না। তারা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, বিমাকারী প্রতিষ্ঠান প্রোটেকশন অ্যান্ড ইনডেমনিটি (পিঅ্যান্ডআই) এবং ক্রাইসিস টোয়েন্টিফোর জিম্মি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে কাজ করছে।

 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জিম্মি হওয়া ২৩ নাবিক ও জাহাজ মুক্ত করার জন্য সোমালিয়ার জলদস্যুদের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।

 

জাহাজে নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দেশের সিনিয়র নাবিক ক্যাপ্টেন আতিক উল্লাহ খান। তিনি জানিয়েছেন, নাবিকদের খাবার আর পানির রেশনিং এখনো চলছে। খাবার বলতে ইফতারে চনাবুট, পেঁয়াজু, দুই রকম ফল আর সাহরিতে ভাত দিয়ে ন্যূনতম মাছ-মাংস ও তরকারি খাচ্ছেন। জাহাজে বিশুদ্ধ পানি কমে যাওয়া নিয়ে নাবিকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন। সপ্তাহে মাত্র একবার স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারে অনুমতি দিচ্ছে জলদস্যুরা।

 

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, জলদস্যুরা সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার তীর থেকে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের জন্য দুম্বা ও ছাগল আনছে জলদস্যুরা। এছাড়া তারা নিজেদের জন্য তেহারি ধরনের খাবার আনছেন। অনেক সময় নাবিকদেরও অফার করছেন, আবার নাবিকদের খাবার থেকেও তারা খাচ্ছেন।

 

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। সে সময় জাহাজটি সোমালিয়া উপকূল থেকে ৫৭০ ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। দস্যুদের কাছে জিম্মি হয় ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। জিম্মি জাহাজটি এখন সোমালিয়ার পান্টল্যান্ড প্রদেশের নুগাল অঞ্চলের জিফল উপকূলের দেড় নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে আছে। অদূরেই মোতায়েন করা আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্সের (ইইউএনএভিএফওআর) আটলান্টা অপারেশনের একটি যুদ্ধজাহাজ। তবে যেকোনো ধরনের অভিযান থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা সে পথে এগোয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জলদস্যুদের সঙ্গে জিম্মি নাবিকসহ জাহাজ উদ্ধারে মুক্তিপণের বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা হয়নি

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০২৪

 

◉ তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চলছে আলাপ-আলোচনা

◉ ঈদের আগে মুক্তি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা, বিশুব্ধ পানি নিয়ে দুশ্চিন্তা

◉ খাবারের জন্য জাহাজে তেহারি-দুম্বা-ছাগল আনছে দস্যুরা

 

 

ভারত মহাসাগর থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহসহ জিম্মি ২৩ নাবিকের মুক্তিপণের বিষয়ে এখনো সরাসরি সোমালীয় জলদস্যুদের সঙ্গে কোনো ধরনের কথাই হয়নি। তবে সোমালীয় জলদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি ২৩ বাংলাদেশি নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারের বিষয়ে তৃতীয় মাধ্যম হিসেবে জলদস্যুদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ঈদের আগে তাদের মুুক্তি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে খাদ্যের মজুত শেষপর্যায়ে থাকায় এবং বিশুদ্ধ পানি ফুরিয়ে আশায় জাহাজের জিম্মি নাবিকরা অনেকটাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। খাদ্য ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে উপকূলের তীরবর্তী এলাকা থেকে নাবিকদের আহার যোগাতে জিম্মি জাহাজে দুম্বা-ছাগল আনছে জলদস্যুরা। গতকাল শুক্রবার জিম্মি জাহাজের মালিকপক্ষ ও নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘মুক্তিপণ চূড়ান্ত হয়েছে’ শীর্ষক খবর প্রচারের পর বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন জাহাজটির মালিকপক্ষ। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে দৈনিক সবুজ বাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের (জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপ) সঙ্গে দর কষাকষি করে মুক্তিপণ চূড়ান্ত হয়েছে- এমন খবর প্রচার হচ্ছে। তবে এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। যেহেতু মালিকপক্ষের হয়ে আমি গণমাধ্যমে কথা বলছি, তাই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমি গণমাধ্যমের কাউকে এমন কিছু জানাইনি।

 

মিজানুল ইসলাম বলেন, জলদস্যুরা যে তৃতীয়পক্ষ নিয়োগ করেছে, তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তবে এখনো তারা মুক্তিপণের বিষয়টি সামনে আনেনি। আমরা মুক্তিপণের এমন কিছু হতে পারে ধরে নিয়ে অগ্রিম কিছু পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছি।

 

মিজানুল বলেন, ১৩ বছর আগে এমভি জাহান মনিকে যেভাবে দস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা এগোচ্ছি। নাবিকরা মুক্তি পেলে তাদের বিমানযোগে দেশে আনা হবে। এছাড়া জাহাজ ফিরিয়ে আনার জন্য অপর একটি দলকে পাঠানো হবে, সেটিও ঠিক করে রাখা হয়েছে। আমরা আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্দেশনা অনুসারে কাজ করছি। অনেকের মতো আমরাও আশা করছি, ঈদের আগে নাবিকদের ফিরিয়ে আনা যাবে। তবে এটা সম্পূর্ণ জলদস্যুদের হাতে, ওরা না চাইলে আমরা নিজের থেকে কিছু করতে পারব না। ঠিক কার সঙ্গে কোথায়, আলোচনা হয়েছে বা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে এ মুহূর্তে বলা ঠিক হবে না। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে অনেকের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান মিজানুল ইসলাম।
জাহাজে থাকা খাবারের বিষয়ে মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘জলদস্যুরা এখন জাহাজের খাবার তেমন একটা ব্যবহার করছে না। তারা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, বিমাকারী প্রতিষ্ঠান প্রোটেকশন অ্যান্ড ইনডেমনিটি (পিঅ্যান্ডআই) এবং ক্রাইসিস টোয়েন্টিফোর জিম্মি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে কাজ করছে।

 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, জিম্মি হওয়া ২৩ নাবিক ও জাহাজ মুক্ত করার জন্য সোমালিয়ার জলদস্যুদের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।

 

জাহাজে নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দেশের সিনিয়র নাবিক ক্যাপ্টেন আতিক উল্লাহ খান। তিনি জানিয়েছেন, নাবিকদের খাবার আর পানির রেশনিং এখনো চলছে। খাবার বলতে ইফতারে চনাবুট, পেঁয়াজু, দুই রকম ফল আর সাহরিতে ভাত দিয়ে ন্যূনতম মাছ-মাংস ও তরকারি খাচ্ছেন। জাহাজে বিশুদ্ধ পানি কমে যাওয়া নিয়ে নাবিকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন। সপ্তাহে মাত্র একবার স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারে অনুমতি দিচ্ছে জলদস্যুরা।

 

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, জলদস্যুরা সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার তীর থেকে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের জন্য দুম্বা ও ছাগল আনছে জলদস্যুরা। এছাড়া তারা নিজেদের জন্য তেহারি ধরনের খাবার আনছেন। অনেক সময় নাবিকদেরও অফার করছেন, আবার নাবিকদের খাবার থেকেও তারা খাচ্ছেন।

 

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। সে সময় জাহাজটি সোমালিয়া উপকূল থেকে ৫৭০ ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। দস্যুদের কাছে জিম্মি হয় ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। জিম্মি জাহাজটি এখন সোমালিয়ার পান্টল্যান্ড প্রদেশের নুগাল অঞ্চলের জিফল উপকূলের দেড় নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে আছে। অদূরেই মোতায়েন করা আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেভাল ফোর্সের (ইইউএনএভিএফওআর) আটলান্টা অপারেশনের একটি যুদ্ধজাহাজ। তবে যেকোনো ধরনের অভিযান থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা সে পথে এগোয়নি।