০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তাঝুঁকিতে ব্যাংক খাত, উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা

দুই দিনে চার ব্যাংকে ডাকাতি

►ব্যাংক ডাকাতিতে কেএনএফ এর সংশ্লিষ্টতা মিলেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাংকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা : আইজিপি

 

একের পর এক ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত দুই দিনে দেশের চার ব্যাংকে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ নিয়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। অনেকটা নির্বাক। স্থানীয় প্রশাসন সব ব্যবস্থা নিবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের এখানে করার কিছু নেই বলেও জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অফিস।

গতকাল বুধবার ১২টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক দুটি গাড়ি করে এসে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুটি ব্যাংকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা টাকা লুট করেছে। সেখানে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে হামলা ও ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এর ১৬ ঘণ্টা আগে গত মঙ্গলবার রাতে বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটে। একই দিন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় ভল্টের তালা ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ইনচার্জ শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে ব্যাংকে এসে দেখি জানালার গ্রিল কাটা ও ভল্টের তালা ভাঙা। ভল্টে রাখা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৬ টাকা নেই। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজও নেই। এসব ডিভাইস তারা চুরি করে নিয়ে গেছে। আলমারি অগোছালো।

এদিকে থানচিতে পাশাপাশি থাকা কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক শাখায় হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেন কৃষি ব্যাংকের থানচি উপজেলার শাখার ব্যবস্থাপক হ্লা সুই থোয়াই। তিনি বলেন, তারা এসে চোখের পলকে আমাদের ব্যাংকে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে ফেলল। তারপর সবাইকে একটি কক্ষে নিয়ে বাইরে থেকে আটকে দিল। টাকা লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলেন, প্রাথমিকভাবে আড়াই লাখ টাকা খোয়া গেছে এটা জানতে পেরেছি।

থানচির ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল করিম বলেন, থানচিতে ব্যাংকে হামলা হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের ধারণা, গতকালের গ্রুপটিই এটা করেছে। গতকালের ঘটনার তদন্তে কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন বলেন, দুপুরে থানচি বাজারে এসে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে প্রবেশ করে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে জেনেছি।

সোনালী ব্যাংক থেকে ১৪-১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে কৃষি ব্যাংক থেকে কত টাকা নিয়েছে জানা যায়নি। সেখান থেকে কাউকে অপহরণ করার সংবাদও পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকের শাখায় একযোগে হামলা চালায়। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা রক্ষীসহ অন্তত ২০ জনকে মারধর করা হয়। অপহরণ করা হয় এ শাখার ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে। পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) বা বম পার্টি ওই ঘটনায় জড়িত বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

রুমার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভরদুপুরে থানচিতে দুটি ব্যাংকে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটল। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছিলেন, ব্যাংকে যারা ডাকাতির জন্য প্রবেশ করেছিলেন তার বাইরেও তাদের আরও লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন। তারা বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন।

ব্যাংক লুট শেষে সশস্ত্র দলটি থানচি বাজারে প্রকাশ্যে ব্রাশ ফায়ার করে আতঙ্ক তৈরি করে এবং তিনটি জিপে চড়ে চাঁদাপাড়া এলাকার সড়কের দিকে চলে যায় বলে জানান ওই ব্যবসায়ী।

বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা ও ডাকাতির ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি ব্যাংকের পাশাপাশি পাশের মসজিদও পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে থানচির ব্যাংক ডাকাতি নিয়েও কথা বলেন আইজিপি। তিনি বলেন, আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই তারা এসে পালিয়ে গেছে। আমরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে সশস্ত্র হামলা ও লুটের ঘটনার সঙ্গে পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ‘সংশ্লিষ্টতা’ পাওয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাংকে ঢোকার আগে সশস্ত্ররা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্ধ করে। তিনি বলেছেন, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় যা যা করণীয়, সবই করছে সরকার। এ ঘটনায় কুকি চিং নামে একটি সংগঠন জড়িত বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তাঝুঁকিতে ব্যাংক খাত, উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা

আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

►ব্যাংক ডাকাতিতে কেএনএফ এর সংশ্লিষ্টতা মিলেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্যাংকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা : আইজিপি

 

একের পর এক ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত দুই দিনে দেশের চার ব্যাংকে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ নিয়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। অনেকটা নির্বাক। স্থানীয় প্রশাসন সব ব্যবস্থা নিবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাদের এখানে করার কিছু নেই বলেও জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অফিস।

গতকাল বুধবার ১২টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক দুটি গাড়ি করে এসে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুটি ব্যাংকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা টাকা লুট করেছে। সেখানে সোনালী ও কৃষি ব্যাংকে হামলা ও ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এর ১৬ ঘণ্টা আগে গত মঙ্গলবার রাতে বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটে। একই দিন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় ভল্টের তালা ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ইনচার্জ শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে ব্যাংকে এসে দেখি জানালার গ্রিল কাটা ও ভল্টের তালা ভাঙা। ভল্টে রাখা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৬৮৬ টাকা নেই। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজও নেই। এসব ডিভাইস তারা চুরি করে নিয়ে গেছে। আলমারি অগোছালো।

এদিকে থানচিতে পাশাপাশি থাকা কৃষি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক শাখায় হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেন কৃষি ব্যাংকের থানচি উপজেলার শাখার ব্যবস্থাপক হ্লা সুই থোয়াই। তিনি বলেন, তারা এসে চোখের পলকে আমাদের ব্যাংকে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে ফেলল। তারপর সবাইকে একটি কক্ষে নিয়ে বাইরে থেকে আটকে দিল। টাকা লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বলেন, প্রাথমিকভাবে আড়াই লাখ টাকা খোয়া গেছে এটা জানতে পেরেছি।

থানচির ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল করিম বলেন, থানচিতে ব্যাংকে হামলা হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের ধারণা, গতকালের গ্রুপটিই এটা করেছে। গতকালের ঘটনার তদন্তে কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন বলেন, দুপুরে থানচি বাজারে এসে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে প্রবেশ করে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে জেনেছি।

সোনালী ব্যাংক থেকে ১৪-১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে কৃষি ব্যাংক থেকে কত টাকা নিয়েছে জানা যায়নি। সেখান থেকে কাউকে অপহরণ করার সংবাদও পাওয়া যায়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি রুমা উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকের শাখায় একযোগে হামলা চালায়। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তা, নিরাপত্তা রক্ষীসহ অন্তত ২০ জনকে মারধর করা হয়। অপহরণ করা হয় এ শাখার ব্যবস্থাপক নেজাম উদ্দিনকে। পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) বা বম পার্টি ওই ঘটনায় জড়িত বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

রুমার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভরদুপুরে থানচিতে দুটি ব্যাংকে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটল। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছিলেন, ব্যাংকে যারা ডাকাতির জন্য প্রবেশ করেছিলেন তার বাইরেও তাদের আরও লোকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন। তারা বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন।

ব্যাংক লুট শেষে সশস্ত্র দলটি থানচি বাজারে প্রকাশ্যে ব্রাশ ফায়ার করে আতঙ্ক তৈরি করে এবং তিনটি জিপে চড়ে চাঁদাপাড়া এলাকার সড়কের দিকে চলে যায় বলে জানান ওই ব্যবসায়ী।

বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে হামলা ও ডাকাতির ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি ব্যাংকের পাশাপাশি পাশের মসজিদও পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে থানচির ব্যাংক ডাকাতি নিয়েও কথা বলেন আইজিপি। তিনি বলেন, আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই তারা এসে পালিয়ে গেছে। আমরা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকে সশস্ত্র হামলা ও লুটের ঘটনার সঙ্গে পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ‘সংশ্লিষ্টতা’ পাওয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সোনালী ব্যাংকে ঢোকার আগে সশস্ত্ররা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্ধ করে। তিনি বলেছেন, ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় যা যা করণীয়, সবই করছে সরকার। এ ঘটনায় কুকি চিং নামে একটি সংগঠন জড়িত বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।