০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

যশোরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস নেমেছে। করোনার পর থেকেই এখানে যানটির বিক্রির সূচক নিম্মমুখী। এবারের রোজার ঈদে মন্দা কাটিয়ে ব্যবসায় চাঙ্গা হওয়ায় যেমনটি আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা তেমনটিও হয়নি।ব্যবসায়ে চরম মন্দাভাবের কারণে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। শো-রুম ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

যশোরে ৫০টি মোটরসাইকেলের শো-রুম ও সার্ভিস সেন্টার আছে। এসব শো-রুমে রয়েছে সাত শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান। এই ব্যবসায়ে বিনিয়োগ রয়েছে শত কোটি টাকার ওপর। বেশির ভাগ শো-রুমের বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শহরের রেল রোডের টিভিএস মোটরসাইকেলের ডিলার ও খুলনা বিভাগীয় মোটরসাইকেলের ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ১৫০ সিসির দামি বাইকগুলোয় ছাড় দিয়েও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। নতুন স্টকের বাইক না থাকায় ক্রেতারা অন্য বাইকের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বিক্রি অর্ধেক কমে গেছে। আগে মাসে ১০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। এখন হচ্ছে সেখানে ১০টি।

উত্তরা মোটরসের বাজাজ কোম্পানির ডিলার থ্রিআর অটোর স্বত্বাধিকারী রাশিদুল হাসান শামিম বলেন, বাজাজ কোম্পানির নতুন মোটরসাইকেল না আসায় ক্রেতারা অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এবারেরও ঈদে স্বাভাবিক হয়নি মোটরসাইকেলের বাজার।

হোন্ডার ডিলার ভেনাস অটোর স্বত্বাধিকারী  আবু শাহরিয়ার মিতুল জানান, তাদের সংগ্রহে নূন্যতম এক লাখ ৭ হাজা টাকা থেকে ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে হোন্ডা হরনেট ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলের চাহিদা বেশি। কিন্তু এলসি জটিলতার কারণে আমরা চাহিদা মাফিক মোটরসাইকেল আনতে পারছি না। যে কারণে এবারের ঈদেও বিক্রি ভালো হচ্ছে না।

সুজুকি মোটরসাইকেলের ডিলার নিউ যশোর ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী শরিফুল আলম বুলু বলেন, এবারের ঈদে সুজুকির চাহিদা অনেক। প্রতিদিন গড়ে ১০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। এতে মন্দার মধ্যেও আমরা ভালো ব্যবসা করছি।  তিনি বলেন, আমাদের এখানে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দামের মোটরসাইকেল রয়েছে।

ইয়ামাহা ব্রান্ডের ডিলার আবিত রহমান রিফাত বলেন, আামদের শো-রুমে এখ লাখ ৫৮ হাজার থেকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দামের মোটরসাইকেল রয়েছে। প্রতিদিন ৯-১০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে।

বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম থেকে শহরে মোটরসাইকের কিনতে আসা ইউপি মেম্বার জসিম উদ্দিন বলেন, শহরের নামকরা সবকটি মোটরসাইকেলর শো-রুম ঘুরে দেখেছি। এসিআই মোটরসের ইয়ামাহা ও সুজুকি কোম্পানির মোটরসাইকেল ভালো লেগেছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও গাড়ি আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে মন্দা লাগেনি। সব ধরনের গাড়ি বিক্রিতে ধস নেমেছে।

তিনি বলেন, কয়েকটি মোটরসাইকেল কোম্পানির ডিলার সরাসরি ব্যাংক ব্যবসার সাথে জড়িত। যেকারণে তারা সহজে এলসি করতে পারছে। এতে তাদের ব্যবসাও টিকে রয়েছে। আর যারা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী; মোটরসাইকেল আনতে পারছে না, তারা বিক্রিও করতে পারছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

যশোরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস

আপডেট সময় : ০৬:১১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪

যশোরে মোটরসাইকেল বিক্রিতে ধস নেমেছে। করোনার পর থেকেই এখানে যানটির বিক্রির সূচক নিম্মমুখী। এবারের রোজার ঈদে মন্দা কাটিয়ে ব্যবসায় চাঙ্গা হওয়ায় যেমনটি আশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা তেমনটিও হয়নি।ব্যবসায়ে চরম মন্দাভাবের কারণে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। শো-রুম ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

যশোরে ৫০টি মোটরসাইকেলের শো-রুম ও সার্ভিস সেন্টার আছে। এসব শো-রুমে রয়েছে সাত শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান। এই ব্যবসায়ে বিনিয়োগ রয়েছে শত কোটি টাকার ওপর। বেশির ভাগ শো-রুমের বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শহরের রেল রোডের টিভিএস মোটরসাইকেলের ডিলার ও খুলনা বিভাগীয় মোটরসাইকেলের ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ১৫০ সিসির দামি বাইকগুলোয় ছাড় দিয়েও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। নতুন স্টকের বাইক না থাকায় ক্রেতারা অন্য বাইকের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বিক্রি অর্ধেক কমে গেছে। আগে মাসে ১০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো। এখন হচ্ছে সেখানে ১০টি।

উত্তরা মোটরসের বাজাজ কোম্পানির ডিলার থ্রিআর অটোর স্বত্বাধিকারী রাশিদুল হাসান শামিম বলেন, বাজাজ কোম্পানির নতুন মোটরসাইকেল না আসায় ক্রেতারা অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এবারেরও ঈদে স্বাভাবিক হয়নি মোটরসাইকেলের বাজার।

হোন্ডার ডিলার ভেনাস অটোর স্বত্বাধিকারী  আবু শাহরিয়ার মিতুল জানান, তাদের সংগ্রহে নূন্যতম এক লাখ ৭ হাজা টাকা থেকে ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার মোটরসাইকেল রয়েছে। এর মধ্যে হোন্ডা হরনেট ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলের চাহিদা বেশি। কিন্তু এলসি জটিলতার কারণে আমরা চাহিদা মাফিক মোটরসাইকেল আনতে পারছি না। যে কারণে এবারের ঈদেও বিক্রি ভালো হচ্ছে না।

সুজুকি মোটরসাইকেলের ডিলার নিউ যশোর ট্রেডিং এর স্বত্বাধিকারী শরিফুল আলম বুলু বলেন, এবারের ঈদে সুজুকির চাহিদা অনেক। প্রতিদিন গড়ে ১০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। এতে মন্দার মধ্যেও আমরা ভালো ব্যবসা করছি।  তিনি বলেন, আমাদের এখানে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দামের মোটরসাইকেল রয়েছে।

ইয়ামাহা ব্রান্ডের ডিলার আবিত রহমান রিফাত বলেন, আামদের শো-রুমে এখ লাখ ৫৮ হাজার থেকে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দামের মোটরসাইকেল রয়েছে। প্রতিদিন ৯-১০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে।

বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম থেকে শহরে মোটরসাইকের কিনতে আসা ইউপি মেম্বার জসিম উদ্দিন বলেন, শহরের নামকরা সবকটি মোটরসাইকেলর শো-রুম ঘুরে দেখেছি। এসিআই মোটরসের ইয়ামাহা ও সুজুকি কোম্পানির মোটরসাইকেল ভালো লেগেছে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও গাড়ি আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে মন্দা লাগেনি। সব ধরনের গাড়ি বিক্রিতে ধস নেমেছে।

তিনি বলেন, কয়েকটি মোটরসাইকেল কোম্পানির ডিলার সরাসরি ব্যাংক ব্যবসার সাথে জড়িত। যেকারণে তারা সহজে এলসি করতে পারছে। এতে তাদের ব্যবসাও টিকে রয়েছে। আর যারা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী; মোটরসাইকেল আনতে পারছে না, তারা বিক্রিও করতে পারছে না।