০৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আগুন গরমে অস্বস্তি চরমে

► হিট অ্যালার্টের দ্বিতীয় দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪২.৬ ডিগ্রি
► হিটস্ট্রোকে চুয়াডাঙা ও পাবনায় ২ জনের মৃত্যু
► বিক্রি ও দাম বেড়েছে গরম নিবারণ সামগ্রীর
► ফার্মেসিতে বেড়েছে ওরস্যালাইন বিক্রি

তাপদাহে পুড়ছে দেশ। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে জনগণ। তাপের তীব্রতা এত বেশি যে, মানুষ রোদে একদমই হাঁটাচলা করতে পারছে না। যাদের খুব জরুরি প্রয়োজন নেই তারা কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কিন্তু চাকরিজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষজনের বাইরে বের না হয়ে উপায় নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর এই গরম থেকে মুক্তির কোনো খবর এখনো দিতে পারেনি। তবে, শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর তাদের বিদ্যালয় আজ রোববার থেকে ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে খোলার কথা থাকলেও তা আরো সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে গরম বাড়ার সঙ্গে রাজধানীতে বেড়েছে তাপ থেকে রক্ষার বিভিন্ন সামগ্রীর বিক্রি। বেড়েছে দামও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রা আরো ১০-১২ দিন এরকমই থাকতে পারে। রাজধানীতে গতকালও অন্যদিনের চেয়ে রাস্তায় লোক চলাচল অনেক কম দেখা গেছে। তবে চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়াদের রাস্তায় দেখা গেছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় তেমন লোকজন বের হননি। এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে রিকশাচালক, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা, ভিক্ষুক ও স্বল্প আয়ের মানুষ। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে এই গরমে রাস্তায় জ্যাম বাড়তে থাকে। আর এতে ভীষণ কষ্টের মধ্যে পড়েন গণপরিবহন ব্যবহারকারী মানুষজন।

গতকাল দুপুরে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। একই অবস্থা চুয়াডাঙার। উভয় অঞ্চলের মানুষ প্রচণ্ড কষ্টে আছে। রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে। মানুষজনকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে নিষেধ করে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে কৃষক চাষিদের কষ্ট দিচ্ছে খেতের ফসলে জল না পাওয়া। অনেকেই তীব্র গরম উপেক্ষা করে নিজের ধান ও সবজি খেতে পানি দিতে জমিতে ছুটছেন। এরই মধ্যে চুয়াডাঙায় ধানে পানি দিতে গিয়ে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কৃষক জাকির হোসেন। তার বাবা আমির হোসেন জানান, রোদ গরমে মাঠের ধান মরার অবস্থা। ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য জাকির সকাল ৭টার দিকে মাঠে যায়। মাঠে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর খবর পাই সে স্ট্রোক করেছে। মাঠে থাকা অন্য কৃষকরা তাকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পাবনায় বৃদ্ধ সুকুমার দাস (৬০) চা পানের সময় হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ এবং বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রির ঘরে দাঁড়ায়।

রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকার বাসিন্দা আহমেদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সদরঘাট থেকে মতিঝিল আসতে রাস্তা বেশ ফাঁকা দেখলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিটি সিগন্যালেই ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল দিয়েছে। এর ফলে রাস্তায় আসতে বেশ সময় লেগেছে। রাস্তায় প্রচণ্ড রোদ আর গরম। এই গরমে গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা কম। এই সময় গাড়ির চালকরা অতিরিক্ত যাত্রী পাওয়ার আশায় পুরো রাস্তায় ধীরে ধীরে এবং থেমে চলেছেন। এতে খুবই বিপদে পড়তে হয়েছে। গরমে কাহিল অবস্থা। মোহাম্মদপুর থেকে পল্টন আসতে টানা দুই ঘণ্টা লেগেছে উল্লেখ করে পল্টনের বাসিন্দা দেলোয়ার হুসাইন বলেন, এত গরম, আর এত রোদ! তবু মানুষ রাস্তায়। আর রাস্তায় এত বেশি জ্যাম যে কি বলব? কাজ না থাকলে কিছুতেই ঘর থেকে বের হতাম না। এখন যেহেতু চাকরি করি, অফিসের প্রয়োজনে বাসা থেকে বের না হয়ে উপায় নেই। আর রাস্তায় ভয়াবহ অবস্থা। আর বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকতে হলে আমি হয়ত অজ্ঞান হয়ে যেতাম।

 

 

রাজধানীর সেগুন বাগিচার বারডেম-২ হাসপাতালের সামনের ডাব বিক্রেতা জানান, প্রতি পিস ডাব ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ডাবের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা দাম জিজ্ঞেস করার পর চলে যাচ্ছেন। খুব কম সংখ্যক ক্রেতা ডাব কিনছেন। একই অভিযোগ মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সামনের ডাব বিক্রেতার। এ সময় তার পাশে থাকা ক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, একটা ডাব ১৪০ টাকা দিয়ে কিনে খেতে সেই রকম ইনকাম করা লাগবে। আর নয়ত, ঘুষের টাকা থাকা লাগবে। ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ ওরস্যালাইন কিনছেন। এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান তার মাঠে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে প্রত্যেককে ওরস্যালাইন ও খাবার পানি উপহার দিয়েছেন এবং বিশেষ সতর্কতা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

নগরীর পল্টন এলাকার ভ্রাম্যমাণ ছাতা ও সানগ্লাস বিক্রেতা সুরুজ মিয়া জানান, তার কাছে ২০০-৭০০ টাকা দামের ছাতা আছে। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ মতো ছাতা বাছাই করে কিনছেন। তবে রোদের তাপ বাড়ায় ছাতা বিক্রি বেড়েছে। পাশের ক্যাপ বিক্রেতা সাইফুল বলেন, এই গরমে ক্যাপের বিক্রি বেড়েছে। রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার চশমা দোকানের বিক্রেতা আব্বাস বলেন, গরম শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকেই সানগ্লাস কিনছেন।

এই গরম থেকে আপাতত মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে দেশের মানুষকে এই গরমকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার কিছু পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। প্রতিষ্ঠানটি দিনের বেলা যথাসম্ভব ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে বলেছে। হালকা রংয়ের সম্ভব হলে সুতি জামা কাপড় পরতে বলেছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পান করা, সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া, বাসি ও খোলা খাবার না খাওয়া, দিনের বেলায় একটানা শারিরীক পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকা, সম্ভব হলে একাধিকবার পানির ঝাপটা নেওয়া বা গোসল করা, প্রস্রাবের রংয়ের দিকে খেয়াল রাখা রং হলুদ হলে পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো, ঘরের পরিবেশ যেন অতিরিক্ত গরম বা ভ্যাপসা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা এবং বেশি অসুস্থবোধ করলে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই গরমে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তাদের মধ্যে পরিবারের ছোট শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শ্রমজীবী ব্যক্তি (যেমন রিকশাচালক, কৃষক, নির্মাণশ্রমিক), যাদের ওজন বেশি, যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা অন্যতম বলে জানিয়েছে।

আগুন গরমে অস্বস্তি চরমে

আপডেট সময় : ০৮:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

► হিট অ্যালার্টের দ্বিতীয় দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৪২.৬ ডিগ্রি
► হিটস্ট্রোকে চুয়াডাঙা ও পাবনায় ২ জনের মৃত্যু
► বিক্রি ও দাম বেড়েছে গরম নিবারণ সামগ্রীর
► ফার্মেসিতে বেড়েছে ওরস্যালাইন বিক্রি

তাপদাহে পুড়ছে দেশ। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে জনগণ। তাপের তীব্রতা এত বেশি যে, মানুষ রোদে একদমই হাঁটাচলা করতে পারছে না। যাদের খুব জরুরি প্রয়োজন নেই তারা কেউই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কিন্তু চাকরিজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষজনের বাইরে বের না হয়ে উপায় নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর এই গরম থেকে মুক্তির কোনো খবর এখনো দিতে পারেনি। তবে, শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর তাদের বিদ্যালয় আজ রোববার থেকে ঈদ ও নববর্ষের ছুটি শেষে খোলার কথা থাকলেও তা আরো সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এদিকে গরম বাড়ার সঙ্গে রাজধানীতে বেড়েছে তাপ থেকে রক্ষার বিভিন্ন সামগ্রীর বিক্রি। বেড়েছে দামও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রা আরো ১০-১২ দিন এরকমই থাকতে পারে। রাজধানীতে গতকালও অন্যদিনের চেয়ে রাস্তায় লোক চলাচল অনেক কম দেখা গেছে। তবে চাকরিজীবী ও খেটে খাওয়াদের রাস্তায় দেখা গেছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় তেমন লোকজন বের হননি। এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে রিকশাচালক, ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা, ভিক্ষুক ও স্বল্প আয়ের মানুষ। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে এই গরমে রাস্তায় জ্যাম বাড়তে থাকে। আর এতে ভীষণ কষ্টের মধ্যে পড়েন গণপরিবহন ব্যবহারকারী মানুষজন।

গতকাল দুপুরে যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে। একই অবস্থা চুয়াডাঙার। উভয় অঞ্চলের মানুষ প্রচণ্ড কষ্টে আছে। রাস্তায় পিচ গলে যাচ্ছে। মানুষজনকে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে নিষেধ করে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে কৃষক চাষিদের কষ্ট দিচ্ছে খেতের ফসলে জল না পাওয়া। অনেকেই তীব্র গরম উপেক্ষা করে নিজের ধান ও সবজি খেতে পানি দিতে জমিতে ছুটছেন। এরই মধ্যে চুয়াডাঙায় ধানে পানি দিতে গিয়ে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কৃষক জাকির হোসেন। তার বাবা আমির হোসেন জানান, রোদ গরমে মাঠের ধান মরার অবস্থা। ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য জাকির সকাল ৭টার দিকে মাঠে যায়। মাঠে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর খবর পাই সে স্ট্রোক করেছে। মাঠে থাকা অন্য কৃষকরা তাকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পাবনায় বৃদ্ধ সুকুমার দাস (৬০) চা পানের সময় হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ এবং বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৮ শতাংশ। বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রির ঘরে দাঁড়ায়।

রাজধানীর পুরান ঢাকা এলাকার বাসিন্দা আহমেদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সদরঘাট থেকে মতিঝিল আসতে রাস্তা বেশ ফাঁকা দেখলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিটি সিগন্যালেই ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল দিয়েছে। এর ফলে রাস্তায় আসতে বেশ সময় লেগেছে। রাস্তায় প্রচণ্ড রোদ আর গরম। এই গরমে গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা কম। এই সময় গাড়ির চালকরা অতিরিক্ত যাত্রী পাওয়ার আশায় পুরো রাস্তায় ধীরে ধীরে এবং থেমে চলেছেন। এতে খুবই বিপদে পড়তে হয়েছে। গরমে কাহিল অবস্থা। মোহাম্মদপুর থেকে পল্টন আসতে টানা দুই ঘণ্টা লেগেছে উল্লেখ করে পল্টনের বাসিন্দা দেলোয়ার হুসাইন বলেন, এত গরম, আর এত রোদ! তবু মানুষ রাস্তায়। আর রাস্তায় এত বেশি জ্যাম যে কি বলব? কাজ না থাকলে কিছুতেই ঘর থেকে বের হতাম না। এখন যেহেতু চাকরি করি, অফিসের প্রয়োজনে বাসা থেকে বের না হয়ে উপায় নেই। আর রাস্তায় ভয়াবহ অবস্থা। আর বেশিক্ষণ রাস্তায় থাকতে হলে আমি হয়ত অজ্ঞান হয়ে যেতাম।

 

 

রাজধানীর সেগুন বাগিচার বারডেম-২ হাসপাতালের সামনের ডাব বিক্রেতা জানান, প্রতি পিস ডাব ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ডাবের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা দাম জিজ্ঞেস করার পর চলে যাচ্ছেন। খুব কম সংখ্যক ক্রেতা ডাব কিনছেন। একই অভিযোগ মতিঝিলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সামনের ডাব বিক্রেতার। এ সময় তার পাশে থাকা ক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, একটা ডাব ১৪০ টাকা দিয়ে কিনে খেতে সেই রকম ইনকাম করা লাগবে। আর নয়ত, ঘুষের টাকা থাকা লাগবে। ফার্মেসিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ ওরস্যালাইন কিনছেন। এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান তার মাঠে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে প্রত্যেককে ওরস্যালাইন ও খাবার পানি উপহার দিয়েছেন এবং বিশেষ সতর্কতা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

নগরীর পল্টন এলাকার ভ্রাম্যমাণ ছাতা ও সানগ্লাস বিক্রেতা সুরুজ মিয়া জানান, তার কাছে ২০০-৭০০ টাকা দামের ছাতা আছে। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দ মতো ছাতা বাছাই করে কিনছেন। তবে রোদের তাপ বাড়ায় ছাতা বিক্রি বেড়েছে। পাশের ক্যাপ বিক্রেতা সাইফুল বলেন, এই গরমে ক্যাপের বিক্রি বেড়েছে। রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার চশমা দোকানের বিক্রেতা আব্বাস বলেন, গরম শুরু হওয়ার পর থেকে অনেকেই সানগ্লাস কিনছেন।

এই গরম থেকে আপাতত মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিকে দেশের মানুষকে এই গরমকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার কিছু পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। প্রতিষ্ঠানটি দিনের বেলা যথাসম্ভব ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে বলেছে। হালকা রংয়ের সম্ভব হলে সুতি জামা কাপড় পরতে বলেছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পান করা, সহজে হজম হয় এমন খাবার খাওয়া, বাসি ও খোলা খাবার না খাওয়া, দিনের বেলায় একটানা শারিরীক পরিশ্রম করা থেকে বিরত থাকা, সম্ভব হলে একাধিকবার পানির ঝাপটা নেওয়া বা গোসল করা, প্রস্রাবের রংয়ের দিকে খেয়াল রাখা রং হলুদ হলে পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো, ঘরের পরিবেশ যেন অতিরিক্ত গরম বা ভ্যাপসা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা এবং বেশি অসুস্থবোধ করলে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই গরমে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তাদের মধ্যে পরিবারের ছোট শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শ্রমজীবী ব্যক্তি (যেমন রিকশাচালক, কৃষক, নির্মাণশ্রমিক), যাদের ওজন বেশি, যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ, বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা অন্যতম বলে জানিয়েছে।