০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৈদেশিক আমানত আনতে ব্যাংকারদের তাগিদ

▶ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চাইনিজ ইউয়ান-এ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে আমানত রাখার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

▶ব্যাংকগুলো মার্কেটিং করতে পারলে ভালো পরিমাণে বিদেশি আমানত আনতে পারব- এবিবি চেয়ারম্যান

চলমান ডলার সংকট মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত বাড়াতে চায় সরকার। অর্থপাচার রোধসহ নানা উদ্যোগের খবরও পাওয়া যায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বিদেশি মুদ্রায় আমানত আনতে ব্যাংকারদের তাগাদা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

সম্প্রতি এবিবি ও কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানান, ব্যাংক খাতে একটা সময় নগদ ডলারের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছিল। তবে এখন আরএফসিডি (রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ফলে ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা জমার পরিমাণ অনেক বেড়েছে।

 

পরে ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বিদেশি মুদ্রায় আমানত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এখন আইন হয়েছে, এখন ভালো সুদ দিতে পারলে, ব্যাংকগুলো মার্কেটিং করতে পারলে ভালো একটা পরিমাণে বিদেশি আমানত আমরা আনতে পারব।

 

তার মতে অন্য ব্যাংকাররাও মনে করছেন বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার আমানত হিসেবে দেশের অফশোর ব্যাংকের হিসাবে আনা সম্ভব।

 

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশি যারা বিদেশে আছে তারা যেন তাদের ফরেন কারেন্সি বাংলাদেশে এনে পার্ক (আমানত রাখে) করে। বিদেশিদের কাছ থেকেও আমরা আমানত আনতে চেষ্টা করব। আমরা ভালো একটা ইন্টারেস্ট দিব। এটা একটা ভালো উদ্যোগ।

 

ডলার সংকটের মধ্যে বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে গত মার্চে অফশোর ব্যাংকিং বিল-২০২৪ পাস হয় জাতীয় সংসদে। অফশোর ব্যাংকিং হচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভেতরে বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা। এখানে ঋণ ও আমানত দুটোতেই বিদেশি মুদ্রা ব্যবহার করা হয়।

 

বাংলাদেশে ১৯৮৫ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অফশোর ব্যাংকিং শুরু হয়। পরে ২০১৯ সালে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সঙ্গে ঋণ চুক্তিতে যাওয়ার পরে আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে এ আইন পাস করে সরকার। এ ধরনের ব্যাংকিংকে জনপ্রিয় করতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের আমানতকারী বা বিদেশি ঋণদাতাদের দেওয়া সুদ বা মুনাফায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করমুক্ত করার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

 

অফশোর ব্যাংকিং সম্প্রসারিত হলে সংকটে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেও তা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৪ এপ্রিল রিজার্ভ স্থিতি ছিল আইএমএফ এর বিপিএম৬ হিসাবে ১৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস হিসাবে তা ২৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত আনতে সফল হয়েছে। এখন আমাদের যেটা প্রয়োজন সব ব্যাংকগুলো এটা ভালোমত বুঝে এর প্রডাক্ট তৈরি করা, মার্কেটিং এবং বিভিন্নভাবে এটাকে প্রমোশন করা দরকার।

 

 

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এক কোটির বেশি প্রবাসীদের মধ্যে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ আছেন, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। তাদের কাছ থেকে যদি এখানে আমানত আনতে পারি তাহলেও ভালো পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা আসবে।

 

পাঁচ বিদেশি মুদ্রা মার্কিন ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চাইনিজ ইউয়ান-এ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে আমানত রাখার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগে সুদহার হবে এসওএফআর, ইউরোবর এর মতো আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ, আগে যা ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। এতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসওএফআর বা সোফর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট, আগে যা ছিল লাইবর) রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ যোগ করে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ঋণ সুদহারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমানতের সুদহার ঠিক করতে পারবে ব্যাংক।

জামালপুরে শিক্ষার্থী হত্যা ও গুম করার উদ্দেশ্য : শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

বৈদেশিক আমানত আনতে ব্যাংকারদের তাগিদ

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪

▶ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চাইনিজ ইউয়ান-এ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে আমানত রাখার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

▶ব্যাংকগুলো মার্কেটিং করতে পারলে ভালো পরিমাণে বিদেশি আমানত আনতে পারব- এবিবি চেয়ারম্যান

চলমান ডলার সংকট মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত বাড়াতে চায় সরকার। অর্থপাচার রোধসহ নানা উদ্যোগের খবরও পাওয়া যায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বিদেশি মুদ্রায় আমানত আনতে ব্যাংকারদের তাগাদা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

সম্প্রতি এবিবি ও কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানান, ব্যাংক খাতে একটা সময় নগদ ডলারের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছিল। তবে এখন আরএফসিডি (রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ফলে ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা জমার পরিমাণ অনেক বেড়েছে।

 

পরে ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে বিদেশি মুদ্রায় আমানত বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এখন আইন হয়েছে, এখন ভালো সুদ দিতে পারলে, ব্যাংকগুলো মার্কেটিং করতে পারলে ভালো একটা পরিমাণে বিদেশি আমানত আমরা আনতে পারব।

 

তার মতে অন্য ব্যাংকাররাও মনে করছেন বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডলার আমানত হিসেবে দেশের অফশোর ব্যাংকের হিসাবে আনা সম্ভব।

 

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশি যারা বিদেশে আছে তারা যেন তাদের ফরেন কারেন্সি বাংলাদেশে এনে পার্ক (আমানত রাখে) করে। বিদেশিদের কাছ থেকেও আমরা আমানত আনতে চেষ্টা করব। আমরা ভালো একটা ইন্টারেস্ট দিব। এটা একটা ভালো উদ্যোগ।

 

ডলার সংকটের মধ্যে বিদেশি মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে গত মার্চে অফশোর ব্যাংকিং বিল-২০২৪ পাস হয় জাতীয় সংসদে। অফশোর ব্যাংকিং হচ্ছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভেতরে বিদেশি মুদ্রায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা। এখানে ঋণ ও আমানত দুটোতেই বিদেশি মুদ্রা ব্যবহার করা হয়।

 

বাংলাদেশে ১৯৮৫ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অফশোর ব্যাংকিং শুরু হয়। পরে ২০১৯ সালে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর সঙ্গে ঋণ চুক্তিতে যাওয়ার পরে আর্থিক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে এ আইন পাস করে সরকার। এ ধরনের ব্যাংকিংকে জনপ্রিয় করতে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের আমানতকারী বা বিদেশি ঋণদাতাদের দেওয়া সুদ বা মুনাফায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করমুক্ত করার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

 

অফশোর ব্যাংকিং সম্প্রসারিত হলে সংকটে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতেও তা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৪ এপ্রিল রিজার্ভ স্থিতি ছিল আইএমএফ এর বিপিএম৬ হিসাবে ১৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস হিসাবে তা ২৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত আনতে সফল হয়েছে। এখন আমাদের যেটা প্রয়োজন সব ব্যাংকগুলো এটা ভালোমত বুঝে এর প্রডাক্ট তৈরি করা, মার্কেটিং এবং বিভিন্নভাবে এটাকে প্রমোশন করা দরকার।

 

 

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এক কোটির বেশি প্রবাসীদের মধ্যে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ আছেন, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল। তাদের কাছ থেকে যদি এখানে আমানত আনতে পারি তাহলেও ভালো পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা আসবে।

 

পাঁচ বিদেশি মুদ্রা মার্কিন ডলার, পাউন্ড স্টার্লিং, ইউরো, জাপানি ইয়েন ও চাইনিজ ইউয়ান-এ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে আমানত রাখার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগে সুদহার হবে এসওএফআর, ইউরোবর এর মতো আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ, আগে যা ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ। এতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এসওএফআর বা সোফর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট, আগে যা ছিল লাইবর) রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ যোগ করে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ঋণ সুদহারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমানতের সুদহার ঠিক করতে পারবে ব্যাংক।