০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে  নিকলীর শহীদ পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

 কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আবু জাফর খাঁনের পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভিটে-বাড়িছাড়া। সন্ত্রাসীরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসীদের এই ঘৃন্য কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী শহীদ পরিবার।
সোমবার (০৬ মে) সকাল ১১ টায় জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী শহীদ পরিবার।এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ আবু জাফর খাঁনের সন্তান সিরাজুল ইসলাম খাঁন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর হাতে আমার পিতা আবু জাফর খাঁন শহীদ হন। পিতার মৃত্যুর সময় উনার নামে অনেক সম্পত্তি রেখে যান। বাবার মৃত্যুর পর আমার মা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। আমার বাবার মৃত্যুর ২ মাসের মাথায় আমার গর্ভধারিণী মাও আমরা ছোট দুটি ভাই ও বোনদের রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন বোনদের বাড়িতে থেকে বড় হয়ে আমি ঢাকায় একটি চাকরিতে যোগদান করি। ছোট ভাই জুবরাজকে সকলের সহযোগিতায় প্রবাসে পাঠিয়ে দেই।
অনেক বছর পর দেশে ফিরে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেই বাবার ভিটে মাটিতে একটি ঘর তৈরি করার,সেই সুবাদে আমার চাচাতো ভাই বাবু,পলাশসহ তার ভাইদের কাছে বলার পর তারা বিরূপ আচরণ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা সালিশের আবেদন করলে নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাকী আমান খানের সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান,ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আশেপাশের কয়েক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে অনেকগুলি সালিশ হয় এবং সবগুলো সালিশে দলিলাদি দেখে বিচারকরা আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
আমাদের চাচাতো ভাই বাবু ও তার ভাইয়েরা সালিশ থেকে লিখিতভাবে রায় মেনে গেলেও পরবর্তীতে আমাদের বাড়িতে ঢুকতে দেয় না বরং আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয়।
সর্বশেষ তাদের করা একটি মামলায় আদালতের প্রতিনিধি সরজমিনে এসে এলাকায় তদন্ত করে এই সম্পত্তি আমাদের দখলভুক্ত সম্পত্তি বলে আদেশ প্রদান করে।
আদালতের এই আদেশের ধারাবাহিকতাই পরবর্তীতে আমাদের জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করি।এরপর আমরা কিশোরগঞ্জ চলে আসার পর গত ২৫ এপ্রিল রাতে সন্ত্রাসী বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা রাতের আঁধারে আমাদের ঘরের সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, এমন খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদেরকে দেখে বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে, তখন আমরা প্রাণের ভয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাই।এখন তারা আমাদেরকে নিকলী ও তার আশেপাশে যেকোনো স্থানে পাওয়া মাত্রই খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছে।
সালিশের সময় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ শত শত মানুষের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ রায় আমাদের পক্ষে আসার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে এখন কারপাশা ইউপি চেয়ারম্যান তাকি আমান খাঁনসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী বাবু ও পায়েলরা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে তাদের সমাজে ছোট করার জন্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।
সন্ত্রাসী বাবু ও পায়েলদের সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মানহানি বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দ্রুত এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু জাফর খাঁনের সন্তান সিরাজুল ইসলাম খাঁন, শামসুন্নাহার খানম, আনোয়ারা খানম, রেখা খানম, শাহানা খানম ও জুবরাজ খাঁনসহ পরিবারের সদস্যরা।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে  নিকলীর শহীদ পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০২৪
 কিশোরগঞ্জের নিকলীতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আবু জাফর খাঁনের পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভিটে-বাড়িছাড়া। সন্ত্রাসীরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসীদের এই ঘৃন্য কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী শহীদ পরিবার।
সোমবার (০৬ মে) সকাল ১১ টায় জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী শহীদ পরিবার।এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ আবু জাফর খাঁনের সন্তান সিরাজুল ইসলাম খাঁন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর হাতে আমার পিতা আবু জাফর খাঁন শহীদ হন। পিতার মৃত্যুর সময় উনার নামে অনেক সম্পত্তি রেখে যান। বাবার মৃত্যুর পর আমার মা অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। আমার বাবার মৃত্যুর ২ মাসের মাথায় আমার গর্ভধারিণী মাও আমরা ছোট দুটি ভাই ও বোনদের রেখে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন বোনদের বাড়িতে থেকে বড় হয়ে আমি ঢাকায় একটি চাকরিতে যোগদান করি। ছোট ভাই জুবরাজকে সকলের সহযোগিতায় প্রবাসে পাঠিয়ে দেই।
অনেক বছর পর দেশে ফিরে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেই বাবার ভিটে মাটিতে একটি ঘর তৈরি করার,সেই সুবাদে আমার চাচাতো ভাই বাবু,পলাশসহ তার ভাইদের কাছে বলার পর তারা বিরূপ আচরণ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা সালিশের আবেদন করলে নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাকী আমান খানের সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান,ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আশেপাশের কয়েক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে অনেকগুলি সালিশ হয় এবং সবগুলো সালিশে দলিলাদি দেখে বিচারকরা আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
আমাদের চাচাতো ভাই বাবু ও তার ভাইয়েরা সালিশ থেকে লিখিতভাবে রায় মেনে গেলেও পরবর্তীতে আমাদের বাড়িতে ঢুকতে দেয় না বরং আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয়।
সর্বশেষ তাদের করা একটি মামলায় আদালতের প্রতিনিধি সরজমিনে এসে এলাকায় তদন্ত করে এই সম্পত্তি আমাদের দখলভুক্ত সম্পত্তি বলে আদেশ প্রদান করে।
আদালতের এই আদেশের ধারাবাহিকতাই পরবর্তীতে আমাদের জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করি।এরপর আমরা কিশোরগঞ্জ চলে আসার পর গত ২৫ এপ্রিল রাতে সন্ত্রাসী বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা রাতের আঁধারে আমাদের ঘরের সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে, এমন খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে এবং আমাদেরকে দেখে বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা হত্যা করবে বলে হুমকি দিতে থাকে, তখন আমরা প্রাণের ভয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যাই।এখন তারা আমাদেরকে নিকলী ও তার আশেপাশে যেকোনো স্থানে পাওয়া মাত্রই খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছে।
সালিশের সময় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ শত শত মানুষের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ রায় আমাদের পক্ষে আসার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে এখন কারপাশা ইউপি চেয়ারম্যান তাকি আমান খাঁনসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী বাবু ও পায়েলরা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে তাদের সমাজে ছোট করার জন্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।
সন্ত্রাসী বাবু ও পায়েলদের সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মানহানি বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি দ্রুত এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু জাফর খাঁনের সন্তান সিরাজুল ইসলাম খাঁন, শামসুন্নাহার খানম, আনোয়ারা খানম, রেখা খানম, শাহানা খানম ও জুবরাজ খাঁনসহ পরিবারের সদস্যরা।