০৬:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুরু হয়েছে রাজশাহীর রসালো আম পাড়া

মধু মাস জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী রাজশাহীর গাছ থেকে মৌসুমের প্রত্যাশিত গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে রাজশাহীর বাজারে রসালো গুটি আম পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার সকালে রাজশাহী নগরী ও আশপাশের এলাকা ঘুরে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের আম পাড়তে দেখা গেছে। বাগানে অল্পসংখ্যক চাষি ও ব্যবসায়ী আম পাড়ছেন। তবে গুটি আম এখনো ভালোভাবে পরিপক্ব না হওয়ায় সব বাগানে পাড়া শুরু হয়নি। যদিও আম চাষিদের ভাষ্য, জ্যৈষ্ঠের শেষভাগে অর্থাৎ আরও ২৫ দিন পর থেকে মিলবে পুষ্ট ও পোক্ত রসালো আম।

বুধবার সকালে পবার নওহাটা পৌরসভা এলাকার এবং মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে অল্পসংখ্যক চাষি ও ব্যবসায়ী আম পাড়ছেন। তাদের দাবি, এখনো বাগানে গুটি জাতের আম সেভাবে পাকা শুরু হয়নি। তবে সময় ঘনিয়ে এসেছে, এখন গুটি জাতের সঙ্গে অন্য জাতের আমও পাকা শুরু হবে। আম রমজান আলী বলেন, জেলা প্রশাসকের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আজ থেকে গুটি আম নামানো শুরু হয়েছে। দুপুরে রাজশাহীর বানেশ্বর হাটসহ রাজশাহী শহরে আম নিয়ে যাব বিক্রির জন্য। তবে প্রথম দিন খুব বেশি আম পাড়ার পরিকল্পনা নেই। পালাক্রমে আম নামানো হবে।’ দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু আজকে প্রথম দিন। তাই আমের দাম ঠিকঠাক বলা যাচ্ছে না। আশা করছি ভালো দাম পাব। কারণ গত বছরের থেকে এবার আম কম ধরেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, ১৫ মে গুটি জাত দিয়ে শুরু হয়েছে আম নামানো। ২৫ থেকে ৩০ মে ধাপে ধাপে নামানো যাবে গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, রানীপছন্দ ও খিরসাপাত। ১০ ও ১৫ জুনে নামবে ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি আম। জুলাইয়ে বাজারে আসবে আশ্বিনা, বারি।
ফল বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভালো আম পেতে ক্রেতাদের হতে হবে আম ক্যালেন্ডার সম্পর্কে সচেতন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় গাছে আম কম থাকলেও কৃষি বিভাগের হিসেব বলছে, গতবছরের চেয়ে এ বছর আম উৎপাদন হবে বেশি। কারণ এ বছর হয়নি কালবৈশাখী ঝড়।

এর আগে গত রোববার (১২ মে) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাগান মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আম নামানোর সময়সীমা নির্ধারণ করেন জেলা প্রশাসক মো. শামীম আহমেদ। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি, ব্যবসায়ী ও আম পরিবহনে নিয়োজিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, আজ ১৫ মে থেকে গুটি আম পাড়া যাবে, ২৫ মে থেকে গোপালভোগ ও রানিপছন্দ, ৩০ মে থেকে খিরসাপাত, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ০৫ জুলাই থেকে বারি আম ৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আর ২০ আগস্ট থেকে পরিপক্ক ইলামতি আম নামানো যাবে। এছাড়া কাটিমন ও বারিআম-১১ সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে।

এ দিকে, আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আম কীটনাশক দিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা চালান। তবে জেলা প্রশাসকের এমন সিদ্ধান্তের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ পাবেন না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন। এ বছর আমের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে। যার গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ২৮ টন। গত বছর ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। তবে ঝড়ের কবলে না পড়লে এ আম দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

শুরু হয়েছে রাজশাহীর রসালো আম পাড়া

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

মধু মাস জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী রাজশাহীর গাছ থেকে মৌসুমের প্রত্যাশিত গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে রাজশাহীর বাজারে রসালো গুটি আম পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার সকালে রাজশাহী নগরী ও আশপাশের এলাকা ঘুরে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের আম পাড়তে দেখা গেছে। বাগানে অল্পসংখ্যক চাষি ও ব্যবসায়ী আম পাড়ছেন। তবে গুটি আম এখনো ভালোভাবে পরিপক্ব না হওয়ায় সব বাগানে পাড়া শুরু হয়নি। যদিও আম চাষিদের ভাষ্য, জ্যৈষ্ঠের শেষভাগে অর্থাৎ আরও ২৫ দিন পর থেকে মিলবে পুষ্ট ও পোক্ত রসালো আম।

বুধবার সকালে পবার নওহাটা পৌরসভা এলাকার এবং মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে অল্পসংখ্যক চাষি ও ব্যবসায়ী আম পাড়ছেন। তাদের দাবি, এখনো বাগানে গুটি জাতের আম সেভাবে পাকা শুরু হয়নি। তবে সময় ঘনিয়ে এসেছে, এখন গুটি জাতের সঙ্গে অন্য জাতের আমও পাকা শুরু হবে। আম রমজান আলী বলেন, জেলা প্রশাসকের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী আজ থেকে গুটি আম নামানো শুরু হয়েছে। দুপুরে রাজশাহীর বানেশ্বর হাটসহ রাজশাহী শহরে আম নিয়ে যাব বিক্রির জন্য। তবে প্রথম দিন খুব বেশি আম পাড়ার পরিকল্পনা নেই। পালাক্রমে আম নামানো হবে।’ দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু আজকে প্রথম দিন। তাই আমের দাম ঠিকঠাক বলা যাচ্ছে না। আশা করছি ভালো দাম পাব। কারণ গত বছরের থেকে এবার আম কম ধরেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, ১৫ মে গুটি জাত দিয়ে শুরু হয়েছে আম নামানো। ২৫ থেকে ৩০ মে ধাপে ধাপে নামানো যাবে গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, রানীপছন্দ ও খিরসাপাত। ১০ ও ১৫ জুনে নামবে ল্যাংড়া, আম্রপালি, ফজলি আম। জুলাইয়ে বাজারে আসবে আশ্বিনা, বারি।
ফল বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভালো আম পেতে ক্রেতাদের হতে হবে আম ক্যালেন্ডার সম্পর্কে সচেতন। প্রতিকূল আবহাওয়ায় গাছে আম কম থাকলেও কৃষি বিভাগের হিসেব বলছে, গতবছরের চেয়ে এ বছর আম উৎপাদন হবে বেশি। কারণ এ বছর হয়নি কালবৈশাখী ঝড়।

এর আগে গত রোববার (১২ মে) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাগান মালিকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আম নামানোর সময়সীমা নির্ধারণ করেন জেলা প্রশাসক মো. শামীম আহমেদ। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি, ব্যবসায়ী ও আম পরিবহনে নিয়োজিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, আজ ১৫ মে থেকে গুটি আম পাড়া যাবে, ২৫ মে থেকে গোপালভোগ ও রানিপছন্দ, ৩০ মে থেকে খিরসাপাত, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও ব্যানানা আম, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ০৫ জুলাই থেকে বারি আম ৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আর ২০ আগস্ট থেকে পরিপক্ক ইলামতি আম নামানো যাবে। এছাড়া কাটিমন ও বারিআম-১১ সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে।

এ দিকে, আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আম কীটনাশক দিয়ে বাজারজাত করার চেষ্টা চালান। তবে জেলা প্রশাসকের এমন সিদ্ধান্তের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ পাবেন না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ২ লাখ ৬০ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন। এ বছর আমের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে। যার গড় ফলন ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ২৮ টন। গত বছর ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। তবে ঝড়ের কবলে না পড়লে এ আম দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।