⦿ এলাচ, জিরাসহ সব ধরনের মসলা কেজিতে বেড়েছে ৫০-১০০ টাকা
⦿ ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সংকটসহ নানা অজুহাত ব্যবসায়ীদের
⦿ বাজারে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকার অভিযোগ ভোক্তাদের
⦿ আমদানি বেড়েছে, দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক দাবি কাস্টম কর্তৃপক্ষের
🔗 মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, সরকারের সঠিক তদারকির অভাব রয়েছে- এস এম নাজের হোসেন, সহ-সভাপতি, ক্যাব
🔗 দেশের জিরা ও এলাচের বাজার ভারতের ওপর নির্ভরশীল তার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে- অমর কান্তি দাশ, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতি
কোরবানি ঈদের এক মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও, দেশের বাজারে বেড়েছে সব ধরনের মসলার দাম। আমদানি কম হওয়া এবং টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডলার সংকটসহ নানা অজুহাতে কোরবানির আগেই অস্থির হয়ে উঠেছে মসলার বাজার। তবে চাহিদার বিপরীতে অতিরিক্ত আমদানি হওয়ায় এ মুহূর্তে বাজারে মসলার কোনো সংকট নেই বলে দাবি কাস্টম কর্তৃপক্ষের। কোরবানির ঈদে মসলা অপরিহার্য জেনে ব্যবসায়ীরা এই কারসাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় দিন দিন অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
পাইকারি মসলা বিক্রেতা ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শতভাগ মার্জিন ও ব্যাংকে এলসি জটিলতা, অতিরিক্ত শুল্ক হারের কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবছর ভারত, গুয়েতমালা, সিরিয়া, মিসর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মসলা আমদানি কম করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া। যার কারণে যত ঈদ ঘনিয়ে আসছে ততই মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়াতেই এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, মৌরি, দারুচিনি, গোলমরিচসহ নানা মশলার উপকরণের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তাছাড়া ভারত থেকে আমদানি কম হওয়ার অজুহাতে গত তিন মাস ধরেই দেশের বাজারে এলাচের দাম লাগামহীন। এমনকি প্রশাসনের টানা কয়েকটা অভিযানেও মসলাজাত পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। ভারত থেকে আমদানি কম হওয়ার অজুহাতে দুই হাজার টাকা কেজি এলাচের দাম এসে ঠেকেছে চার হাজার টাকায়। এবার শুধু এলাচ নয়, অজুহাতের ওপর ভর করে জিরা, লবঙ্গ, দারুচিনি, গোলমরিচ এবং জয়ত্রির দাম ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে দিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা।
বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে, ততোই অস্থির হয়ে উঠছে মসলার বাজার। বর্তমানে প্রতি কেজি জিরা ৬৫০ টাকা, এলাচ ৩৯০০ টাকা, লবঙ্গ ১৩৬০ টাকা, দারুচিনি ৩৭৫ টাকা, গোলমরিচ ৮০০ টাকা এবং জয়ত্রি ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের মেসার্স বি আর এম এন্টারপ্রাইজের মালিক জামাল হায়দার বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর মসলার আমদানি কম হয়েছে। যার কারণে সব ধরনের মসলার বাজারে ৩০ থেকে ১০০ টাকা দাম বেড়েছে।
আল রহমানিয়া ট্রেডিংয়ের ফরহাদ মজুমদার বলেন, মসলার বাজারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা উঠানামা করে। সারা বছর সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ঈদকে ঘিরে মসলার চাহিদা বেড়ে যায়। তার মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী আমদানিতে যোগান সংকট রয়েছে। যার ফলে মসলার বাজার অস্থির হয়ে উঠে। পাশাপাশি ডলার সংকট ও দামের তারতম্যের কারণে মসলা আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতিটি মসলার দামই বেড়েছে।
সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, সামনে ঈদ এই সময় প্রতি বছর বিভিন্ন অযুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে কোরবানির ঈদে মসলার দাম। গত কয়েকমাস থেকে মসলার বাজার লাগামহীন। যদি এভাবে চলমান থাকে তাহলে আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কীভাবে কিনব।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরীজীবি মো. সাইফ বলেন, কোরবানির ঈদে বিশেষ করে মসলা সামগ্রীর বিশেষ চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারের উচিত সঠিকভাবে বাজার তদারকি করা। যদি বাজারের সঠিকভাবে মনিটরিং করা হয় তাহলে বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশের জিরা ও এলাচের বাজার ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ভারতেই বর্তমানে এসব পণ্যের সংকট চলছে। তার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। বাজারে কোনো ধরনের মজুত ঘাটতি নেই।
কোরবানির আগে এভাবে মসলার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। মৌসুম অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নতুন করে মৌসুমি ব্যবসায়ী যুক্ত হচ্ছে, তারা লাভের আশায় ব্যবসা করে, এতে করে তারা দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজারে সরকারের তদারকির অভাবের কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার যদি সঠিকভাবে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে তাহলে কিছুটা শিথিলযোগ্য হতো।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৪ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন এলাচ, ৪১ হাজার ৩৪৬ মেট্রিক টন জিরা, ৩২ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন লবঙ্গ এবং ২৯ হাজার ৬৪৬ মেট্রিক টন গোলমরিচ আমদানি হয়েছে। এটি গত বছরের এ সময়ে আমদানির তুলনায় অনেক বেশি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাজিউর রহমান মিয়া জানান, যত দ্রুত সম্ভব কাস্টমস থেকে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। যাতে করে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।


























