১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, ২০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘরের লড়াইয়ে জয়ী আ.লীগ প্রার্থীরা

 ২০টি বাদে সবগুলোতেই চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা
◼ ১৪ উপজেলায় জয়ী এমপি-মন্ত্রী স্বজন
◼ দ্বিতীয়ধাপে ভোট পড়েছে ৩৭.৫৭ শতাংশ-ইসি

 

 

 

কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘাত-সহিংসতা ছাড়া ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ১৫৬টি উপজেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলায় আওয়ামী লীগ বনাম অওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দি¦তা হয়েছে, ১৩৬ উপজেলায় জিতেছেন দলটির নেতারা। এ ছাড়া বিএনপির বহিষ্কৃত ছয় নেতা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক, জাতীয় পার্টির (জেপি) এক (পদত্যাগী), আঞ্চলিক দল থেকে দুই ও বাকিগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা চলে এই ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় ধাপে ভোটের হার ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ১৫৬ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল তিন কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬২০ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন এক কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯৪৭ জন। অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

 

এই নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে ১২৯টি উপজেলায়। এতে ভোট পড়েছে ৩৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ভোট হয়েছে ২৩টিতে, ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায়, ৭৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলায়, ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

 

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও আলোচনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের স্বজন। এধাপে ১৭ জন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলেও জয় পেয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাম হাসনায়েন, নোয়াখালীর সংসদ সদস্য মোর্শেদ আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম দীপু সেনবাগ উপজেলায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের রাকিবুজ্জামান ওই এলাকার সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে। বগুড়ার সংসদ সদস্য সাইফুল্লাহ মেহেদীর বাবা সিরাজুল ইসলাম খান রাজু আদমদিঘী উপজেলায়। নরসিংদীর মনোহরদীর নজরুল মজিদ মাহমুদ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন।

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ভাই, কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই বুলবুল আহমেদ টোকন দৌলতপুর উপজেলায়, নড়াইলের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার চাচা শ্বশুর ফয়জুল হক রোম লোহাগড়া উপজেলায়, চুয়াডাঙ্গার সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দারের ভাতিজা নঈম হাসান জোয়ার্দার সদর উপজেলায়, ভোলার সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের ভগ্নিপতি মো. জাফির উল্যাহ বোরহানউদ্দিন উপজেলায়, লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরীর ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ রায়পুর উপজেলায়, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার এহসানুল হাকিম সাধন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের চাচাত ভাই, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজলোয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসির বড় ভাই জামিল হাসান দুর্জয়, কুমিল্লার বড়ুরা উপজেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের শ্যালক হামিদ লতিফ ভূঁইয়া চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

এছাড়া বিএনপির বহিষ্কৃত ৬ নেতা হলেন- নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা রিয়াদ আরফান সরকার রানা। নাটোরের বাঘাতিপাড়ায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সাফায়েত আজিজ রাজু, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান সেফু, নাইক্ষ্যংছড়িতে তোফাইল আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে প্রথম ধাপের ভোটে সাতজন চেয়ারম্যানসহ বিএনপির বহিষ্কৃত মোট ১০ নেতা বিজয়ী হন।

 

বাকিদের মধ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আজাদ সিদ্দিকী, খাগড়াছড়ি পানছড়িতে ইউপিডিএফ (মূল) নেতা চন্দ্রদেব চাকমা ও বিলাইছড়িতে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী বীরোত্তম তংচংগ্যা জয়ী হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে আল হাবিব ইন্টা.ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঝে বই বিতরণ

ঘরের লড়াইয়ে জয়ী আ.লীগ প্রার্থীরা

আপডেট সময় : ০৭:২৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

 ২০টি বাদে সবগুলোতেই চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা
◼ ১৪ উপজেলায় জয়ী এমপি-মন্ত্রী স্বজন
◼ দ্বিতীয়ধাপে ভোট পড়েছে ৩৭.৫৭ শতাংশ-ইসি

 

 

 

কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘাত-সহিংসতা ছাড়া ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ১৫৬টি উপজেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে অধিকাংশ উপজেলায় আওয়ামী লীগ বনাম অওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দি¦তা হয়েছে, ১৩৬ উপজেলায় জিতেছেন দলটির নেতারা। এ ছাড়া বিএনপির বহিষ্কৃত ছয় নেতা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এক, জাতীয় পার্টির (জেপি) এক (পদত্যাগী), আঞ্চলিক দল থেকে দুই ও বাকিগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা চলে এই ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় ধাপে ভোটের হার ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের তৈরি করা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ১৫৬ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল তিন কোটি ৩৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬২০ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন এক কোটি ২৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯৪৭ জন। অর্থাৎ ভোট পড়েছে ৩৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

 

এই নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে ১২৯টি উপজেলায়। এতে ভোট পড়েছে ৩৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ভোট হয়েছে ২৩টিতে, ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায়, ৭৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলায়, ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

 

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনেও আলোচনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের স্বজন। এধাপে ১৭ জন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলেও জয় পেয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে গোলাম হাসনায়েন, নোয়াখালীর সংসদ সদস্য মোর্শেদ আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম দীপু সেনবাগ উপজেলায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের রাকিবুজ্জামান ওই এলাকার সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের ছেলে। বগুড়ার সংসদ সদস্য সাইফুল্লাহ মেহেদীর বাবা সিরাজুল ইসলাম খান রাজু আদমদিঘী উপজেলায়। নরসিংদীর মনোহরদীর নজরুল মজিদ মাহমুদ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের ছোট ভাই নজরুল মজিদ মাহমুদ স্বপন।

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জে নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ভাই, কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর ভাই বুলবুল আহমেদ টোকন দৌলতপুর উপজেলায়, নড়াইলের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার চাচা শ্বশুর ফয়জুল হক রোম লোহাগড়া উপজেলায়, চুয়াডাঙ্গার সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দারের ভাতিজা নঈম হাসান জোয়ার্দার সদর উপজেলায়, ভোলার সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের ভগ্নিপতি মো. জাফির উল্যাহ বোরহানউদ্দিন উপজেলায়, লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরীর ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ রায়পুর উপজেলায়, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার এহসানুল হাকিম সাধন রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিমের চাচাত ভাই, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজলোয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী টুসির বড় ভাই জামিল হাসান দুর্জয়, কুমিল্লার বড়ুরা উপজেলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের শ্যালক হামিদ লতিফ ভূঁইয়া চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

এছাড়া বিএনপির বহিষ্কৃত ৬ নেতা হলেন- নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা রিয়াদ আরফান সরকার রানা। নাটোরের বাঘাতিপাড়ায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সাফায়েত আজিজ রাজু, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান সেফু, নাইক্ষ্যংছড়িতে তোফাইল আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে প্রথম ধাপের ভোটে সাতজন চেয়ারম্যানসহ বিএনপির বহিষ্কৃত মোট ১০ নেতা বিজয়ী হন।

 

বাকিদের মধ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আজাদ সিদ্দিকী, খাগড়াছড়ি পানছড়িতে ইউপিডিএফ (মূল) নেতা চন্দ্রদেব চাকমা ও বিলাইছড়িতে জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী বীরোত্তম তংচংগ্যা জয়ী হয়েছেন।