১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এমপি আনার হত্যা রহস্য!

বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, একের পর এক ফেঁসে যাচ্ছেন আ.লীগ নেতা

◉ সন্দেহভাজনরা নজরদারিতে
◉ জামিন নামঞ্জুর শিলাস্তির

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বের হয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার নামই সামনে চলে আসছে। সন্দেহভাজন ওইসব নেতাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গতিবিধি নজরদারি শুরু করেছে ডিবি। এরই মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের অনেক অজানা তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া প্রাপ্ত তথ্য অনেকটাই মিল রয়েছে। এরপরও তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এতে প্রমাণ মিললে এমপি আনার হত্যা মামলায় একের পর এক ফেঁসে যেতে পারেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এদিকে অভিযুক্ত শিলাস্তি রহমানের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা গ্যাস বাবুর বরাত দিয়ে ডিবি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনের যে ফ্ল্যাটে এমপি আনারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ওই ফ্ল্যাটের মেঝেতে পড়ে থাকা এমপি আনারের মরদেহের ছবি তোলেন খুনিরা। এরপর সেই ছবি কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন শিমুল ভূঁইয়া। ছবি পাওয়ার পর শিমুল ভূঁইয়াকে ধন্যবাদ জানান গ্যাস বাবু। মূলত, হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনের হয়ে কাজ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এই নেতা। হত্যাকাণ্ডের পরও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্তারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে দফায় দফায় আলাপ হয় গ্যাস বাবুর। ডিবি জানায়, এমপি আনার খুনের তিন মাস আগে থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে আসছিলেন গ্যাস বাবু, শিমুল ভূঁইয়া ও মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীন। এ তিনজনের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া অন্যতম আসামি শিমুল ভূঁইয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে যেন না ফাঁসতে হয়, সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবু। হত্যা পরিকল্পনা সংক্রান্ত সব আলাপচারিতার রেকর্ড মুছতে ভেঙে ফেলেন নিজের তিনটি মোবাইল ফোন। পরে ফোন হারানোর ব্যাপারে জিডিও করেন থানায়।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, গত ৮ জুন শিমুল ভূঁইয়ার সাভার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। ওই বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ডিবি। ফোনটিতে বাবুর সঙ্গে আনার হত্যা নিয়ে শিমুল ভূঁইয়ার কথোপকথনের অনেক তথ্য রয়েছে। বাবু তার তিনটি মোবাইল ফোন হারানো সংক্রান্ত থানায় যে জিডি করেছেন, তা আসলে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল ছিল তার। ওই ফোনগুলো তিনি নিজেই ধ্বংস করেছেন। ফেঁসে যাওয়ার মতো তথ্য থাকায় তিনি সেগুলো ধ্বংস করে দেন। এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনায় শুধু গ্যাস বাবুই নয়, আড়াল থেকে আখতারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আরও অনেকেই। পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন একাধিক নেতা। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে বা পরিকল্পনায় না জড়ালেও পেছন থেকে ইন্ধন দেন অনেকে। অনেকে আবার খুনের পর দেন বাহবাও। শিমুল ভূঁইয়ার সাভারের বাসা থেকে সদ্য উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলো ঘেঁটে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে সক্ষম হয়েছে ডিবি।

পুলিশ বলছে, যেসব নেতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আর তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই সন্দেহের তালিকায় থাকা এসব আওয়ামী লীগ নেতাকে একে একে আটকানো হবে গোয়েন্দাদের জালে। এর আগে গত সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের ঘটনায় আরও অনেকেই গ্রেপ্তার হতে পারেন। আমরা সত্যের কাছাকাছি এসে গেছি। মরদেহটি শনাক্ত হলেই অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারব।

এ প্রসঙ্গে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর কাছ থেকে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে; সেগুলো তদন্ত করে যাচাই-বাছাই চলছে। সংসদ সদস্যের হত্যাকাণ্ডে যারা যেভাবে জড়িত, তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।

এদিকে কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনে এমপি আনার খুন হয়েছিলেন যে ফ্ল্যাটে, তার সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হওয়া মাংসের টুকরোগুলো মানবদেহের বলে ইতোমধ্যে বেরিয়ে এসেছে ফরেনসিক টেস্টে। নতুন করে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে নিউটাউনের বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়। এবার উদ্ধার হওয়া এই মাংস এবং হাড় এমপি আনারের কি না, তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতায় যেতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন আনারকন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

অপরদিকে এমপি আনার হত্যা মামলার আসামি শিলাস্তি রহমানের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার শিলাস্তি রহমানের আইনজীবী এই মামলায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, তার মক্কেলকে হয়রানি করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাই সে জামিন প্রাপ্য।

তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের বিরোধিতা করে জানায় যে, শিলাস্তি রহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া, তিনি গত ৩ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাই তার জামিন আবেদন খারিজ করা হোক। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

টিউশনের নামে প্রতারণার ফাঁদ

এমপি আনার হত্যা রহস্য!

বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, একের পর এক ফেঁসে যাচ্ছেন আ.লীগ নেতা

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

◉ সন্দেহভাজনরা নজরদারিতে
◉ জামিন নামঞ্জুর শিলাস্তির

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বের হয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার নামই সামনে চলে আসছে। সন্দেহভাজন ওইসব নেতাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও গতিবিধি নজরদারি শুরু করেছে ডিবি। এরই মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের অনেক অজানা তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া প্রাপ্ত তথ্য অনেকটাই মিল রয়েছে। এরপরও তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এতে প্রমাণ মিললে এমপি আনার হত্যা মামলায় একের পর এক ফেঁসে যেতে পারেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। এদিকে অভিযুক্ত শিলাস্তি রহমানের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা গ্যাস বাবুর বরাত দিয়ে ডিবি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনের যে ফ্ল্যাটে এমপি আনারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ওই ফ্ল্যাটের মেঝেতে পড়ে থাকা এমপি আনারের মরদেহের ছবি তোলেন খুনিরা। এরপর সেই ছবি কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছিলেন শিমুল ভূঁইয়া। ছবি পাওয়ার পর শিমুল ভূঁইয়াকে ধন্যবাদ জানান গ্যাস বাবু। মূলত, হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীনের হয়ে কাজ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এই নেতা। হত্যাকাণ্ডের পরও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আক্তারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে দফায় দফায় আলাপ হয় গ্যাস বাবুর। ডিবি জানায়, এমপি আনার খুনের তিন মাস আগে থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা করে আসছিলেন গ্যাস বাবু, শিমুল ভূঁইয়া ও মাস্টারমাইন্ড আক্তারুজ্জামান শাহীন। এ তিনজনের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এ ছাড়া অন্যতম আসামি শিমুল ভূঁইয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে যেন না ফাঁসতে হয়, সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবু। হত্যা পরিকল্পনা সংক্রান্ত সব আলাপচারিতার রেকর্ড মুছতে ভেঙে ফেলেন নিজের তিনটি মোবাইল ফোন। পরে ফোন হারানোর ব্যাপারে জিডিও করেন থানায়।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, গত ৮ জুন শিমুল ভূঁইয়ার সাভার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। ওই বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ডিবি। ফোনটিতে বাবুর সঙ্গে আনার হত্যা নিয়ে শিমুল ভূঁইয়ার কথোপকথনের অনেক তথ্য রয়েছে। বাবু তার তিনটি মোবাইল ফোন হারানো সংক্রান্ত থানায় যে জিডি করেছেন, তা আসলে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল ছিল তার। ওই ফোনগুলো তিনি নিজেই ধ্বংস করেছেন। ফেঁসে যাওয়ার মতো তথ্য থাকায় তিনি সেগুলো ধ্বংস করে দেন। এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনায় শুধু গ্যাস বাবুই নয়, আড়াল থেকে আখতারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আরও অনেকেই। পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন একাধিক নেতা। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে বা পরিকল্পনায় না জড়ালেও পেছন থেকে ইন্ধন দেন অনেকে। অনেকে আবার খুনের পর দেন বাহবাও। শিমুল ভূঁইয়ার সাভারের বাসা থেকে সদ্য উদ্ধারকৃত মোবাইলগুলো ঘেঁটে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে সক্ষম হয়েছে ডিবি।

পুলিশ বলছে, যেসব নেতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আর তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই সন্দেহের তালিকায় থাকা এসব আওয়ামী লীগ নেতাকে একে একে আটকানো হবে গোয়েন্দাদের জালে। এর আগে গত সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের ঘটনায় আরও অনেকেই গ্রেপ্তার হতে পারেন। আমরা সত্যের কাছাকাছি এসে গেছি। মরদেহটি শনাক্ত হলেই অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারব।

এ প্রসঙ্গে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর কাছ থেকে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে; সেগুলো তদন্ত করে যাচাই-বাছাই চলছে। সংসদ সদস্যের হত্যাকাণ্ডে যারা যেভাবে জড়িত, তাদের সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।

এদিকে কলকাতার সঞ্জীভা গার্ডেনে এমপি আনার খুন হয়েছিলেন যে ফ্ল্যাটে, তার সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হওয়া মাংসের টুকরোগুলো মানবদেহের বলে ইতোমধ্যে বেরিয়ে এসেছে ফরেনসিক টেস্টে। নতুন করে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে নিউটাউনের বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়গোড়। এবার উদ্ধার হওয়া এই মাংস এবং হাড় এমপি আনারের কি না, তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতায় যেতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন আনারকন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

অপরদিকে এমপি আনার হত্যা মামলার আসামি শিলাস্তি রহমানের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার শিলাস্তি রহমানের আইনজীবী এই মামলায় তার জামিন চেয়ে আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম তরিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, তার মক্কেলকে হয়রানি করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাই সে জামিন প্রাপ্য।

তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের বিরোধিতা করে জানায় যে, শিলাস্তি রহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া, তিনি গত ৩ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাই তার জামিন আবেদন খারিজ করা হোক। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।