০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুয়া তথ্যে জন্ম নিবন্ধন করছে রোহিঙ্গারা

ভুয়া তথ্য দিয়ে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করছে রোহিঙ্গারা। ভুয়া সেই জন্ম সনদ ব্যবহার করে আবার করা হচ্ছে আবার বাংলাদেশী পাসর্পোটের আবেদন। এমন ১০১ জন রোহিঙ্গার তথ্য পেয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। যার মধ্যে ৪৯ জনের জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে।
সূত্র বলছে, গত ৫ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন শাখার রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি থেকে ৪৯ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। আইন বহির্ভূতভাবে নিবন্ধন দেওয়া এসব জন্মসনদ বিডিআরআইএস সিস্টেম থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ও সংশ্লিষ্টদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
অপর একটি সূত্র বলছে, ১০২ জন ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জন্মনিবন্ধন নিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করিয়েছেন। এছাড়া বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়া এক রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের পাসপোর্টের বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে ওই ব্যক্তিদের পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্থান থেকে দালাল চক্র, অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতারণা করে জন্মনিবন্ধন নিয়েছেন। ওই ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ভুক্ত মিয়ানমারের নাগরিক।
সূত্র আরও বলছে, ডিএনসিসি ছাড়াও রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বাগেরহাট জেলার গোতাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসব সনদ সংগ্রহ করেছে রোহিঙ্গারা। ডিএনসিসি জোনের মধ্যে ডিএনসিসি জোন-২ রোহিঙ্গাদের জন্য নয়টি সার্টিফিকেট দিয়েছে, জোন-৩ ইস্যু করেছে ১৭টি সার্টিফিকেট, জোন-৪ দিয়েছে ১৪টি এবং জোন-৫ ও জোন-৯ একটি করে সার্টিফিকেট দিয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জন্মনিবন্ধনে জালিয়াতি করায় এক কর্মীকে চাকরিচ্যুত ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সিটি কর্পোরেশন। চাকরিচ্যুত কর্মী হলেন অঞ্চল-৫-এর স্বাস্থ্য শাখার জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন সহকারী মাফরুজা সুলতানা, সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন অঞ্চল-৩ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অঞ্চল-৯-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সহকারী সার্জন) আজিজুন নেছা। তাকে পরে আবার নিজ পদে বহাল করা হয়। ওই বছরই এপ্রিলে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় আরও একবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তখন দক্ষিণ কোরিয়ার একজন নাগরিক ও একজন রোহিঙ্গাকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন, পুলিশের অনুরোধে ইতিমধ্যেই এসব সনদ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অফিসের কিছু কর্মী এবং জনপ্রতিনিধি এঘটনায় জড়িত রয়েছে।
ডিএনসিসির উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুবায়েত ইসমত ওভিক বলেন, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যান এবং তাদের অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দেওয়ার জন্য কারা দায়ী তা আমরা তদন্ত করছি। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যারা ভুয়া জন্ম সনদ দিচ্ছে তারা জন্ম সনদ নেওয়া রোহিঙ্গাদের চেয়েও বড় অপরাধী। এসবকিছু হচ্ছে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে। কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তা এ ধরনের অপরাধে জড়িত।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ক্যামিওতে রংপুরের দারুণ জয়

ভুয়া তথ্যে জন্ম নিবন্ধন করছে রোহিঙ্গারা

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

ভুয়া তথ্য দিয়ে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করছে রোহিঙ্গারা। ভুয়া সেই জন্ম সনদ ব্যবহার করে আবার করা হচ্ছে আবার বাংলাদেশী পাসর্পোটের আবেদন। এমন ১০১ জন রোহিঙ্গার তথ্য পেয়েছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। যার মধ্যে ৪৯ জনের জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে।
সূত্র বলছে, গত ৫ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন শাখার রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে দেওয়া একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি থেকে ৪৯ জন রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে। আইন বহির্ভূতভাবে নিবন্ধন দেওয়া এসব জন্মসনদ বিডিআরআইএস সিস্টেম থেকে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ও সংশ্লিষ্টদের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
অপর একটি সূত্র বলছে, ১০২ জন ব্যক্তি অবৈধ উপায়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জন্মনিবন্ধন নিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করিয়েছেন। এছাড়া বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেওয়া এক রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের পাসপোর্টের বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে ওই ব্যক্তিদের পাসপোর্টে উল্লেখিত স্থায়ী ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্থান থেকে দালাল চক্র, অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতারণা করে জন্মনিবন্ধন নিয়েছেন। ওই ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ভুক্ত মিয়ানমারের নাগরিক।
সূত্র আরও বলছে, ডিএনসিসি ছাড়াও রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বাগেরহাট জেলার গোতাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এসব সনদ সংগ্রহ করেছে রোহিঙ্গারা। ডিএনসিসি জোনের মধ্যে ডিএনসিসি জোন-২ রোহিঙ্গাদের জন্য নয়টি সার্টিফিকেট দিয়েছে, জোন-৩ ইস্যু করেছে ১৭টি সার্টিফিকেট, জোন-৪ দিয়েছে ১৪টি এবং জোন-৫ ও জোন-৯ একটি করে সার্টিফিকেট দিয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জন্মনিবন্ধনে জালিয়াতি করায় এক কর্মীকে চাকরিচ্যুত ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সিটি কর্পোরেশন। চাকরিচ্যুত কর্মী হলেন অঞ্চল-৫-এর স্বাস্থ্য শাখার জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন সহকারী মাফরুজা সুলতানা, সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন অঞ্চল-৩ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অঞ্চল-৯-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সহকারী সার্জন) আজিজুন নেছা। তাকে পরে আবার নিজ পদে বহাল করা হয়। ওই বছরই এপ্রিলে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির ঘটনায় আরও একবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তখন দক্ষিণ কোরিয়ার একজন নাগরিক ও একজন রোহিঙ্গাকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন, পুলিশের অনুরোধে ইতিমধ্যেই এসব সনদ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অফিসের কিছু কর্মী এবং জনপ্রতিনিধি এঘটনায় জড়িত রয়েছে।
ডিএনসিসির উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রুবায়েত ইসমত ওভিক বলেন, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যান এবং তাদের অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দেওয়ার জন্য কারা দায়ী তা আমরা তদন্ত করছি। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যারা ভুয়া জন্ম সনদ দিচ্ছে তারা জন্ম সনদ নেওয়া রোহিঙ্গাদের চেয়েও বড় অপরাধী। এসবকিছু হচ্ছে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে। কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তা এ ধরনের অপরাধে জড়িত।