ভরা মৌসুমেও ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীগুলোতে রুপালী ইলিশসহ অন্য মাছের দেখা মিলছে না। দিন-রাত নদীতে জেলেরা জাল ফেলেও ফিরছেন খালি হাতে। নদীতে মাছ ধরা না পড়ায় অর্থকষ্টে দিন কাটছে জেলেদের। লোকসানের হিসাব টানতে টানতে দিশে হারা হয়ে জাল-নৌকা-ট্রোলার ঘাটে বেধে অলস সময় পার করছেন তারা। মেঘনা-তেতুলীয়ায় মাছ না থাকার কারন হিসেবে, প্রচুর পরিমানে জাটকা নিধন, নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানি দূষণ ও ইলিশের অভয়াশ্রমের প্রবেশ পথ ভরাট হয়ে যাওয়াই এর মূল বলে দাবি মৎস্য গবেষকদের। তবে শিগগিরই নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা পড়বে বলে প্রত্যাশা করেন জেলা মৎস্য বিভাগ।
শনিবার বার (২২ জুন) সকালে নদীর পাড়ে জেলেদের ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নদীতীরের গ্রামগুলোর মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ শিকার। দীর্ঘদিন ধরে দেখা নেই বৃষ্টির। তাই নদীতে বেড়েছে লবণাক্ততা। এ ছাড়া নদী গুলোতে অবাধে বর্জ্য ফেলায় আগের তুলনায় পানিদূষণ বেড়েছে বহুগুন। অবাধে নিধন করা হয়েছে জাটকা। এদিকে দেশের ইলিশের অভয়াশ্রম খ্যাত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া, নদীর প্রবেশপথ আগের তুলনায় অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। তার পরে রয়েছে, বাধা জাল, বেহন্দি জাল, খুটা জাল ও কারেন্ট জাল বশিয়ে মাছের প্রবেশ দ্বার বন্ধ করে রাখা, বড় বড় জাহাজ, বাল্বহেড, ইঞ্জিন চালিত ট্রলার চলাচল। তাই সমুদ্র থেকে ইলিশ অভয়াশ্রমে প্রবেশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় উপকূলের জেলা ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে দেখা মিলছে না ইলিশের।
নদীতে ইলিশ না মেলায় তারা এখন চরম অর্থকষ্টে পড়েছেন বলে দাবি জেলে সিরাজ, মানিক, রহিম, শাহাবুদ্দি ও কামালের। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেদের দিন কাটছে দারুণ কষ্টে। তারা এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজও করতে পারছেননা। বিভিন্ন এনজিওর থেকে লাখ লাখ টাকা লোন নিয়ে ট্রলার-জাল বানিয়ে আটকে গেছেন তারা। প্রতি সপ্তাহে লোনের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ চালাতে না পেরে স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবারের অসুস্থ্য মা-বাবা-স্ত্রী ও সন্তানদের ভরন পোষন চালাতে পারছেননা। ঈদ উৎসব কি তা তারা ভুলে গেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের যে অনুদান দেয়া হচ্ছে তা সব জেলে পায়না। জেলে সম্প্রদায়কে বিনা শর্তে সরকারী ব্যাংক থেকে লোন ও অনুদান দিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য আহবান জানান তারা।
মৎস্য অনুষদ বিভাগের ডঃ মোঃ লোকমান আলী বলেন, বিনা বাধায় জাটকা নিধন,জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি,পানি দূষণ,ইলিশের প্রবেশ পথে নানান ধরনের বাধাসহ আরো বিভিন্ন কারণে ইলিশের পরিভ্রমণের সময় ও স্থান পরিবর্তিত হয়েছে। এতে নদীতে জেলের জালে ধরা পড়ছেনা ইলিশ। ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, শিগগিরই নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়বে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ। ভোলায় ৫ লাখেরও বেশি মানুষ মাছ ধরার পেশায় রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশী।


























