◉ রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে সীমান্তে ইইউ প্রতিরক্ষা লাইন চায় পোল্যান্ড ও বাল্টিকরা
◉ ইউক্রেনে সামরিক ঠিকাদার পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের গভীর সম্পৃক্ততার কারণে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে সম্ভাব্য অবনমন আনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে রাশিয়া। তবে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে ক্রেমলিন জানিয়েছে। গতকাল এই পদক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের স্তর কমানোর বিষয়টি এমন সব দেশের জন্য একটি আদর্শ চর্চা; যারা শত্রুতা বা বৈরিতার মুখোমুখি হয়। ইউক্রেন সংঘাতে পশ্চিমাদের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার কারণে রুশ ফেডারেশন এই ধরনের বৈরি পশ্চিমা হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিবেচনা ছাড়া কোনও উপায় দেখে না। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং রাশিয়া পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে।
এদিকে, রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভও পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বৈরী নীতির কারণে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাসে বাধ্য হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার দৈনিক ইজভেসতিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, পশ্চিমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে অস্থির পর্যায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব উপাদান থাকা সত্ত্বেও আমরা এখনও এমন পদক্ষেপ শুরু করিনি। কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত কি সম্ভব? আমি বলতে পারি যে আমরা এই সংকটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। এই জাতীয় সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ স্তরে নেওয়া হয়। তাই এই বিষয়ে ধারণা করাটা আগাম হয়ে যাবে।’ যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তাহলে বিশ্ব মঞ্চে পশ্চিমাদের দায়মুক্তির ধারণা শেষ পর্যন্ত রাশিয়াকে আরও সিদ্ধান্তমূলক উপায়ে প্রতিশোধ নিতে বাধ্য করবে।
রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে সীমান্তে ইইউ প্রতিরক্ষা লাইন চায় পোল্যান্ড ও বাল্টিকরা
রাশিয়া ও তার মিত্র দেশ বেলারুশের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটভুক্ত দেশ পোলান্ড এবং বাল্টিক দেশ পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া। গত বুধবার জোটের এই সীমান্তে একটি প্রতিরক্ষা লাইন তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো। মস্কোর সামরিক হুমকি ও অন্যান্য ক্ষতিকারক কার্যকলাপ থেকে ইইউকে রক্ষার জন্য এই লাইন তৈরি করতে চায় তারা। গতকাল থেকে ব্রাসেলসে শুরু হওয়া একটি শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার জন্য ইইউ’র চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি পাঠায় এই চার দেশের নেতারা। চিঠিতে তারা বলেছেন, এই প্রকল্পটি জোটের ২৭টি দেশের ৪৫ কোটি মানুষকে সুরক্ষা দেবে। এছাড়া, এটি বাস্তবায়নে জোটটির সব সদস্যদের আর্থিক সহায়তাও প্রয়োজন হবে।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সামরিক এবং হাইব্রিড হুমকি থেকে ইইউকে রক্ষার জন্য রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত বরাবর একটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ করা জরুরী। হাইব্রিড হুমকিগুলো সামরিক ও বেসামরিক হয়ে থাকে। পাশাপাশি এটি আক্রমণের গোপন ও প্রকাশ্য উপায়গুলোর সংমিশ্রণকেও বোঝায়, যার মধ্যে বিভ্রান্তি, সাইবার আক্রমণ, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমান্ত পেরিয়ে অভিবাসীদের ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো রয়েছে। যৌথ এই প্রচেষ্টার পরিসর এবং এর খরচের জন্য ইইউকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমর্থন যোগাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
কিছু ইইউ কূটনীতিক অনুমান করেছেন, রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে ৭০০ কিলোমিটার ইইউ সীমান্ত বরাবর মাটিতে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক লাইন নির্মাণের প্রায় ২.৬৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। ব্রাসেলসের শীর্ষ সম্মেলনে ইইউ নেতাদের মধ্যে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে প্রতিরক্ষায় ইউরোপীয় বিনিয়োগ এবং এর অর্থায়ন। কেননা, ইউক্রেনে রাশিয়ার শুরু করা যুদ্ধ তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে হাইব্রিড অভিযান বাড়াচ্ছে মস্কো।
ইউক্রেনে সামরিক ঠিকাদার পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য মার্কিন সামরিক ঠিকাদারদের ইউক্রেনে পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। ইউক্রেনে মার্কিন সরবরাহকৃত অস্ত্র ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করতে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হচ্ছে। চার মার্কিন সামরিক সূত্র সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জো বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন নীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। কারণ ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সহযোগিতার আরও উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নীতি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এই বিষয়ে যেকোনো অপরিপক্ব। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন তিনি ইউক্রেনে মার্কিন সেনা পাঠাবেন না। কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে চলতি বছরের মধ্যে কার্যকর হবে। এর ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে কাজ করতে মার্কিন কোম্পানিকে অনুমোদন দিতে পারে পেন্টাগন। এতে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী যে অস্ত্র ব্যবস্থাগুলো ব্যবহার করছে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত দ্রুততর হবে।

























