০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে মৃত্যু পৌনে ২ লাখের বেশি

Palestinians pray over the bodies of victims of Israeli bombardment in the yard of the al-Aqsa Martyr's hospital in Deir el-Balah in the central Gaza Strip on July 7, 2024. Israel carried out deadly air strikes in the Gaza Strip on July 7 as the war between Israel and the Hamas movement entered its 10th month, with fighting raging across the Palestinian territory and fresh diplomatic efforts underway to halt the violence. (Photo by Eyad BABA / AFP)

◉ ৯ মাসে গাজায় ইসরায়েলি ৬৮০ সেনা নিহত

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পৌনে ২ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক পিয়ার রিভিউড ব্রিটিশ জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজাবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা আমলে নিয়েই এই অনুমান করেছে জার্নালটি। ল্যানসেটের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র সংঘাতের সহিংসতার প্রত্যক্ষ ক্ষতির বাইরেও পরোক্ষ স্বাস্থ্যগত প্রভাব আছে। এমনকি যদি সংঘাত অবিলম্বে শেষ হয়ে যায়, তার পরও প্রজনন, সংক্রামক এবং অসংক্রামক রোগের মতো কারণগুলো থেকে আগামী কয়েক মাস ও বছরগুলোতে অনেক মানুষ পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করবেন। এই সংঘর্ষের তীব্রতা বিবেচনা করে মোট মৃতের সংখ্যা বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা অবকাঠামো ধ্বংস; খাদ্য, পানি এবং আশ্রয়ের তীব্র ঘাটতি; নিরাপদ স্থানে পালাতে স্থানীয়দের অক্ষমতা; জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার তহবিলের ঘাটতি ইত্যাদি গাজা উপত্যকায় এখনো সক্রিয় মানবিক সংকটগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সংঘাতে এ ধরনের পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যক্ষ মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে ৩ থেকে ১৫ গুণ। এখন পর্যন্ত পাওয়া যাওয়া ৩৭ হাজার ৩৯৬ জনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে অনুমান করা হয়, প্রতি একজনের প্রত্যক্ষ মৃত্যুর বিপরীতে চারজন পরোক্ষভাবে মারা গেছে। সেই হিসাব অনুসারে, গাজার বর্তমান সংঘাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ বা তার বেশি মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মৃত্যুর এই পরিমাণ ২০২২ সালে গাজার যে পরিমাণ জনসংখ্যা ছিল- ২৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৯ জন- তার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগে, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি- যখন ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার- প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যদি দ্রুতই একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫৮ হাজার ২৬০। অবশ্য যদি কোনো ধরনের মহামারি এবং যুদ্ধের গতি বৃদ্ধির মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে চলতি বছরের ৬ আগস্ট নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮৭ হাজার ২৬০।’

এদিকে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন চলছে নয় মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে হামাসসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোদ্ধা গোষ্ঠীর আক্রমণে অন্তত ৬৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী এ সংখ্যা জানিয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় গতকাল রোববার বিকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনটি স্থানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ৫৫ জনসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৩ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও অন্তত ৮৭ হাজার ৮২৮ জন।

৯ মাসে গাজায় ইসরায়েলি ৬৮০ সেনা নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন চলছে ৯ মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে হামাসসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোদ্ধা গোষ্ঠীর আক্রমণে অন্তত ৬৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী এ সংখ্যা জানিয়েছে। লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিনের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ গাজায় প্রতিরোধযোদ্ধাদের হামলায় এক কর্নেল নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী স্বীকার করেছে, ৬০১তম ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস ব্যাটালিয়নের একজন কোম্পানি কমান্ডার দক্ষিণ গাজায় প্রতিরোধযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮০।

এদিকে, গাজায় গতকাল বিকেলের আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনটি স্থানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ৫৫ জনসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৩ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও অন্তত ৮৭ হাজার ৮২৮ জন। অপরদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও কার্যকর যুদ্ধবিরতি আলোচনা একটিও হয়নি। একাধিকবার আলোচনা শুরু হয়েও থেমে গেছে। সর্বশেষ মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আলোকে হামাসের দেওয়া সংশোধনী নিয়ে ইসরায়েল ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় আবারও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা: ৫৪ জনকে আসামি, ৪৫ গ্রেপ্তার

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে মৃত্যু পৌনে ২ লাখের বেশি

আপডেট সময় : ০৯:১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

◉ ৯ মাসে গাজায় ইসরায়েলি ৬৮০ সেনা নিহত

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পৌনে ২ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক পিয়ার রিভিউড ব্রিটিশ জার্নাল দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মূলত ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজাবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা আমলে নিয়েই এই অনুমান করেছে জার্নালটি। ল্যানসেটের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র সংঘাতের সহিংসতার প্রত্যক্ষ ক্ষতির বাইরেও পরোক্ষ স্বাস্থ্যগত প্রভাব আছে। এমনকি যদি সংঘাত অবিলম্বে শেষ হয়ে যায়, তার পরও প্রজনন, সংক্রামক এবং অসংক্রামক রোগের মতো কারণগুলো থেকে আগামী কয়েক মাস ও বছরগুলোতে অনেক মানুষ পরোক্ষভাবে মৃত্যুবরণ করবেন। এই সংঘর্ষের তীব্রতা বিবেচনা করে মোট মৃতের সংখ্যা বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিচর্যা অবকাঠামো ধ্বংস; খাদ্য, পানি এবং আশ্রয়ের তীব্র ঘাটতি; নিরাপদ স্থানে পালাতে স্থানীয়দের অক্ষমতা; জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার তহবিলের ঘাটতি ইত্যাদি গাজা উপত্যকায় এখনো সক্রিয় মানবিক সংকটগুলোর একটি। সাম্প্রতিক সংঘাতে এ ধরনের পরোক্ষ মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যক্ষ মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে ৩ থেকে ১৫ গুণ। এখন পর্যন্ত পাওয়া যাওয়া ৩৭ হাজার ৩৯৬ জনের মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে অনুমান করা হয়, প্রতি একজনের প্রত্যক্ষ মৃত্যুর বিপরীতে চারজন পরোক্ষভাবে মারা গেছে। সেই হিসাব অনুসারে, গাজার বর্তমান সংঘাতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ বা তার বেশি মানুষ মারা গিয়ে থাকতে পারে।

প্রতিবেদন অনুসারে, মৃত্যুর এই পরিমাণ ২০২২ সালে গাজার যে পরিমাণ জনসংখ্যা ছিল- ২৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৫৯ জন- তার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এর আগে, ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি- যখন ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার- প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যদি দ্রুতই একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫৮ হাজার ২৬০। অবশ্য যদি কোনো ধরনের মহামারি এবং যুদ্ধের গতি বৃদ্ধির মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে চলতি বছরের ৬ আগস্ট নাগাদ মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮৭ হাজার ২৬০।’

এদিকে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন চলছে নয় মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে হামাসসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোদ্ধা গোষ্ঠীর আক্রমণে অন্তত ৬৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী এ সংখ্যা জানিয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় গতকাল রোববার বিকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনটি স্থানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ৫৫ জনসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৩ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও অন্তত ৮৭ হাজার ৮২৮ জন।

৯ মাসে গাজায় ইসরায়েলি ৬৮০ সেনা নিহত
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন চলছে ৯ মাস ধরে। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলটিতে হামাসসহ অন্যান্য প্রতিরোধযোদ্ধা গোষ্ঠীর আক্রমণে অন্তত ৬৮০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী এ সংখ্যা জানিয়েছে। লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়েদিনের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ গাজায় প্রতিরোধযোদ্ধাদের হামলায় এক কর্নেল নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী স্বীকার করেছে, ৬০১তম ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পস ব্যাটালিয়নের একজন কোম্পানি কমান্ডার দক্ষিণ গাজায় প্রতিরোধযোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত হয়েছেন। তাঁকে নিয়ে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮০।

এদিকে, গাজায় গতকাল বিকেলের আগের ২৪ ঘণ্টায় তিনটি স্থানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১২৩ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ৫৫ জনসহ ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৩ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও অন্তত ৮৭ হাজার ৮২৮ জন। অপরদিকে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও কার্যকর যুদ্ধবিরতি আলোচনা একটিও হয়নি। একাধিকবার আলোচনা শুরু হয়েও থেমে গেছে। সর্বশেষ মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আলোকে হামাসের দেওয়া সংশোধনী নিয়ে ইসরায়েল ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় আবারও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশার আলো দেখা দিয়েছে।