কক্সবাজারের সীমান্তের নাফনদ, আঁকা বাঁকা গিরিপথ উপত্যকা পার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী পুরুষ শিশু আশ্রয় নেয় উখিয়া টেকনাফের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। রোহিঙ্গাদের সেবায় প্রায় লক্ষাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সেবাসংস্থার বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্টান কাজ শুরু করে ক্যাম্পে। লোকবল সংকটের কারণে এসময় শতশত স্থানীয়দের চাকুরী দিয়ে রোহিঙ্গাদের সেবা দেয়। ফলে রোহিঙ্গা বসতি এলাকায় একটি উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সেবামুলক চাকরি কিছু সময় ঠিকটাক চললেও গেল কয়েক বছরধরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত স্বার্থান্বেষী কিছু এনজিও সংস্থা তাদের আত্মীয় স্বজনদের চাকুরি দিয়ে স্থানীয়দের গনহারে ছাটাই শুরু করে।
এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির ব্যানারে সর্বস্তরের মানুষ স্থানীয়দের চাকুরি নিশ্চিত করার দাবী জানালেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে এনজিওরা এ ছাটাই অভিযান আরও জোরদার করেছে। মানছেনা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ।
পালংখালী ইউনিয়নের ৬ ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিধবা রোকেয়া খাতুনের মেয়ে মিনারা(২০) সবেমাত্র এসএসসি পাস করে একটি এনজিওতে ১৮হাজার টাকা বেতনে চাকুরি নেয়। কিন্তু ৩ মাস আগে কোন অজুহাত ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মিনারা জানায়, তার স্থলে এনজিও কর্মকর্তার নিকট আত্মীয়কে চাকুরি দেওয়া হয়েছে। এভাবে অসংখ্য নারী পুরুষ বিনা অজুহাতে চাকুরি হারিয়েছে। একইভাবে রাজাপালং সদর, পালংখালী, হলদিয়াপালং, জালিয়াপালং, রতনাপালং, লাগোয়া ইউনিয়ন ঘুমধুম, খানিয়াপালং ইউনিয়নের অন্তত বিশ হাজার নর নারীর চাকরি হারিয়েছে।
পালংখালী ইউপি চেয়াম্যান এম গফুর উদ্দিন বলেন, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও দুর্নীতি পরায়ন কিছু সেবা সংস্থার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টরা স্থানীয়দের বিনাজুহাতে এসব চাকরি খুইয়েছেন। হোস্ট কমিউনিটি নীতি নির্দেশনার তোয়াক্কা করছেনা কথিপয় এনজিও কর্তারা।
রোহিঙ্গাধুষিত জনপদের একমাত্র পক্রিকা দৈনিক আলোকিত উখিয়ার এর সম্পাদক মিজান উর রশীদ বলেন, ১১লাখ রোহিঙ্গার ভারে ন্যুয়েপড়া উখিয়া টেকনাফ এলাকা আজ বিপর্যস্থ। তাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে এলাকার অনেকেই তাদের পুর্বপুরুষের ভিটেমাটি জমি ছাড়তে হয়েছে। এসময় অনেক পরিবার তাদের ন্যায় বিচারের প্রার্থনায় পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করা হলেও সরকারের স্থানীয় প্রশাসন কোনো সুরাহা করেনি। এ বিষয়ে বলা প্রয়োজন তৎসময়ের নিকারুজ্জামান চৌধুরী ক্যাম্পে যত এনজিও সংস্থা কাজ করছে তার তদারকি করতেন। কয়জন স্টাফ বহিরাগত বা স্থানীয় তা নিরুপণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন।
সম্প্রতি নাগরিক অধিকার সমাজের নেতারা পত্র পত্রিকান্তরে বেশ সরব হয়েছেন। তারা চাকরিচ্যুতদের পুর্নবহালের দাবী জানিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এড জসিম আজাদ বলেছেন, স্থানীয় বেকার শিক্ষিত যুবক যুবতির চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। এনজিওদের এ অন্যার্য অপকর্ম মেনে নেয়া হবেনা।


























