কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত আলোচিত পাগলা মসজিদের ৯টি লোহার দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ২৮ বস্তা টাকা।এগুলোর গননা চলছে এ মুহূর্তে।প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর দানবাক্সগুলো খোলা হয়। তবে এবার দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে ৪ মাস পর।
শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্যাট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহবায়ক মিজাবে রহমতের তত্বাবধানে সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ তরিকুল ইসলাম,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখের উপস্থিতে ৯টি দানবাক্স ও একটি ট্যাঙ্ক থেকে ২৮ বস্তা টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার গয়না পাওয়া গেছে।
এখন চলছে গণনার কাজ।গননা শেষে বলা যাবে টাকার পরিমাণ। গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মী ছাড়া ও মাদ্রাসার ২৪৫ জন ছাত্র,৫০ জন ব্যাংক কর্মী,৩৪ জন মসজিদ কমিটির এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ জন সদস্য।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এবার আমরা ৩ মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে রেকর্ড ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান,কঠোর নিরাপত্তায় ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স গুলি খোলা হয়।টাকা গননা শেষে ব্যাংকে পৌছে দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল পাগলা মসজিদের ৯টি দানবাক্সে রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। সাড়ে ১৮ ঘণ্টায় ২২০ জনেরও বেশি লোক এ টাকা গণনায় অংশ নিয়েছিলো।
মসজিদের মুসল্লি,এলাকাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়,পাগলা মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ মসজিদে দান করে থাকেন।
জনশ্রুতি আছে, এক সময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বসবাস ছিল জেলা শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী।
কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এ মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি বৈদেশিক মুদ্রাও দান করেন।
বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি গড়ে উঠলেও বর্তমানে মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গা আছে। এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্য।
এরই মধ্যে দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।
মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন

























