০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রে পোশাক শিল্পে অস্থিরতা

◉ সম্প্রতি কয়েকদিনে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
◉ পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা
◉ বিশ্ববাজারে ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন ও ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কা
◉ টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

➤  এর পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে এটা বোঝা কঠিন কোনো কাজ নয় Ñমোহাম্মদ হাতেম, সভাপতি, বিকেএমইএ
➤ এই বহিরাগত শক্তির সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে Ñমো. মহিউদ্দিন রুবেল, পরিচালক, বিকেএমইএ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশ স্থিতিশীলতার পথে হাঁটলেও হঠাৎ অশান্ত হয়ে ওঠে তৈরি পোশাক শিল্প। বেশ কয়েকদিন যাবত সাভার-আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নানা অজুহাতে আন্দোলন ও কারখানা ভাঙচুর শুরু করে দুর্বৃত্তরা। তাদের সৃষ্ট এই সহিংসতার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় বহু কারখানা। শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক শিল্প কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে দুই শতাধিক কারখানায় উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ফলে শিল্পের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। প্রশ্ন হলো পোশাক শিল্প অস্থির করে তুলতে এমন ইন্ধন দিচ্ছে কারা? দেশের তৈরি পোশাক শিল্প অস্থিতিশীল করে তুলতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে। এমন অভিযোগ শিল্প মালিকদের। তারা বলছে, এ মুহূর্তে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নের পাশাপাশি ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কা তাদের।

টঙ্গীতে চার দিন শান্ত থাকার পর ফের ১৪ দফা দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। এতে টঙ্গী-জয়দেবপুর শাখা সড়ক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন স্থানে চারটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা এসব বিক্ষোভ করেছে।
চলমান আন্দোলনের বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এরা কি শ্রমিক, আমরা তো মনে করি না এরা শ্রমিক। তারা বিভিন্ন কায়দায় চেষ্টা করছে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার। এই সেক্টরটাকে যদি অশান্ত করা যায় তাহলে বায়াররা বাংলাদেশে অর্ডার না দিয়ে অন্যদিকে দিবে। এ পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী এটা আপনারা ভালো করে জানেন। এর পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে এটা বোঝা কঠিন কোনো কাজ নয়।

পেশাক শিল্পের বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখ করে এমসিসিআই মহাসচিব ফারুক আহমেদ বলেন, গত আগস্ট মাসে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাতে শতাধিক শিল্প-কারখানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। আর্থিক ক্ষতির এ পরিমাণ কোনো জরিপের মাধ্যমে নির্ধারিত নয়। বিভিন্ন কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতির এ আনুমানিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন জায়গায় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আশা করি সরকার দ্রুত শ্রমিক আন্দোলনের বিষয় পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।
এদিকে এই বহিরাগত শক্তির সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রের যোগসাজস থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিকেএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল। শিল্প মালিকরা বলছে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়বে পোশাক খাত। ফায়দা নিতে ওত পেতে আছে বেশ কিছু দেশ।
বিজিএমইএ সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যাবে, আর কিছু সমস্যার সমাধান হতে একটু সময় লাগবে।
এখনো আন্দোলন চলমান :

জানা যায়, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে টঙ্গীর স্কুইব রোড সংলগ্ন কারখানার সামনে ১৪ দফা দাবিতে ন্যাশনাল পলিমার ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বিক্ষোভ করে। শ্রমিকদের ১৪ দফা দাবিগুলো হলো, নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন না করা, প্রতি বছর বেতনের ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া, শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়া, বাৎসরিক ছুটির টাকা দেওয়া, ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের বেতন অন্যান্য প্লাস্টিক কারখানার সঙ্গে তুলনা করে সমন্বয় করা, শ্রমিক সংগঠন তৈরি করা ও শ্রমিকের চাকরিচ্যুত বা পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ধারা অনুসরণ করাসহ ১৪ দফা দাবি। আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে শিল্প পুলিশ।

এদিকে গতকাল বিকালে টঙ্গী বিসিকের মেঘনা রোডের এমট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ও ব্রাভো এপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা ১৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবিগুলো হলো- প্রতি মাসের ৩-৭ তারিখের মধ্যে সব শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া, সব শ্রমিক ও স্টাফদের বেতন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ ১০০০ টাকা হাজিরা বোনাস, সব শ্রমিক স্টাফদের বাৎসরিক ১৮ দিনের ছুটির টাকা, সার্ভিস বিল, টিফিন বিল ৫০ টাকা, নাইট বিল ২০০ টাকা, আন্দোলনকারী কোনো শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বহিষ্কার না করাসহ ১৩ দফা।
স্থানীয়রা জানায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ বাগানবাড়ি এলাকার প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ পালন করেছে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তারা আগস্ট মাসের বেতনের দাবিতে উৎপাদন কাজ বন্ধ করে এ কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত রাখে এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। শ্রমিক-মালিক পক্ষের মধ্যে আলেচনার পর ন্যাশনাল পলিমারের সমস্যা সমধান হয়েছে। এমট্রানেট গ্রুপের সব শ্রমিক, স্টাফ ও কমচারীদের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সম্মেলন কক্ষে আলোচনা চলছে। আশা করি সমস্যা সমাধান হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রে পোশাক শিল্পে অস্থিরতা

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

◉ সম্প্রতি কয়েকদিনে ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
◉ পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা
◉ বিশ্ববাজারে ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন ও ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কা
◉ টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে ফের শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

➤  এর পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে এটা বোঝা কঠিন কোনো কাজ নয় Ñমোহাম্মদ হাতেম, সভাপতি, বিকেএমইএ
➤ এই বহিরাগত শক্তির সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে Ñমো. মহিউদ্দিন রুবেল, পরিচালক, বিকেএমইএ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশ স্থিতিশীলতার পথে হাঁটলেও হঠাৎ অশান্ত হয়ে ওঠে তৈরি পোশাক শিল্প। বেশ কয়েকদিন যাবত সাভার-আশুলিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় নানা অজুহাতে আন্দোলন ও কারখানা ভাঙচুর শুরু করে দুর্বৃত্তরা। তাদের সৃষ্ট এই সহিংসতার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় বহু কারখানা। শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক শিল্প কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে দুই শতাধিক কারখানায় উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। ফলে শিল্পের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। প্রশ্ন হলো পোশাক শিল্প অস্থির করে তুলতে এমন ইন্ধন দিচ্ছে কারা? দেশের তৈরি পোশাক শিল্প অস্থিতিশীল করে তুলতে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত চলছে। এমন অভিযোগ শিল্প মালিকদের। তারা বলছে, এ মুহূর্তে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নের পাশাপাশি ক্রয়াদেশ বাতিলের শঙ্কা তাদের।

টঙ্গীতে চার দিন শান্ত থাকার পর ফের ১৪ দফা দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। এতে টঙ্গী-জয়দেবপুর শাখা সড়ক কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে। গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন স্থানে চারটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা এসব বিক্ষোভ করেছে।
চলমান আন্দোলনের বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এরা কি শ্রমিক, আমরা তো মনে করি না এরা শ্রমিক। তারা বিভিন্ন কায়দায় চেষ্টা করছে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার। এই সেক্টরটাকে যদি অশান্ত করা যায় তাহলে বায়াররা বাংলাদেশে অর্ডার না দিয়ে অন্যদিকে দিবে। এ পরিস্থিতির জন্য কারা দায়ী এটা আপনারা ভালো করে জানেন। এর পেছনে কাদের ইন্ধন রয়েছে এটা বোঝা কঠিন কোনো কাজ নয়।

পেশাক শিল্পের বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখ করে এমসিসিআই মহাসচিব ফারুক আহমেদ বলেন, গত আগস্ট মাসে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাতে শতাধিক শিল্প-কারখানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। আর্থিক ক্ষতির এ পরিমাণ কোনো জরিপের মাধ্যমে নির্ধারিত নয়। বিভিন্ন কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতির এ আনুমানিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন জায়গায় সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আশা করি সরকার দ্রুত শ্রমিক আন্দোলনের বিষয় পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।
এদিকে এই বহিরাগত শক্তির সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রের যোগসাজস থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিকেএমইএ পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল। শিল্প মালিকরা বলছে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়বে পোশাক খাত। ফায়দা নিতে ওত পেতে আছে বেশ কিছু দেশ।
বিজিএমইএ সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আলোচনার মাধ্যমে কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যাবে, আর কিছু সমস্যার সমাধান হতে একটু সময় লাগবে।
এখনো আন্দোলন চলমান :

জানা যায়, গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে টঙ্গীর স্কুইব রোড সংলগ্ন কারখানার সামনে ১৪ দফা দাবিতে ন্যাশনাল পলিমার ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে বিক্ষোভ করে। শ্রমিকদের ১৪ দফা দাবিগুলো হলো, নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন না করা, প্রতি বছর বেতনের ১০ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া, শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়া, বাৎসরিক ছুটির টাকা দেওয়া, ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের বেতন অন্যান্য প্লাস্টিক কারখানার সঙ্গে তুলনা করে সমন্বয় করা, শ্রমিক সংগঠন তৈরি করা ও শ্রমিকের চাকরিচ্যুত বা পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ধারা অনুসরণ করাসহ ১৪ দফা দাবি। আন্দোলন চলাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে শিল্প পুলিশ।

এদিকে গতকাল বিকালে টঙ্গী বিসিকের মেঘনা রোডের এমট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড ও ব্রাভো এপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা ১৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবিগুলো হলো- প্রতি মাসের ৩-৭ তারিখের মধ্যে সব শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া, সব শ্রমিক ও স্টাফদের বেতন ১৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ ১০০০ টাকা হাজিরা বোনাস, সব শ্রমিক স্টাফদের বাৎসরিক ১৮ দিনের ছুটির টাকা, সার্ভিস বিল, টিফিন বিল ৫০ টাকা, নাইট বিল ২০০ টাকা, আন্দোলনকারী কোনো শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বহিষ্কার না করাসহ ১৩ দফা।
স্থানীয়রা জানায়, টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ বাগানবাড়ি এলাকার প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ পালন করেছে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তারা আগস্ট মাসের বেতনের দাবিতে উৎপাদন কাজ বন্ধ করে এ কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত রাখে এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়। শ্রমিক-মালিক পক্ষের মধ্যে আলেচনার পর ন্যাশনাল পলিমারের সমস্যা সমধান হয়েছে। এমট্রানেট গ্রুপের সব শ্রমিক, স্টাফ ও কমচারীদের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সম্মেলন কক্ষে আলোচনা চলছে। আশা করি সমস্যা সমাধান হবে।