সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলার রায় হবে ২ ফেব্রুয়ারি। শেখ হাসিনা ও ববি ছাড়াও তার বোন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৮ জন এ মামলার আসামি।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেন।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনার ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির মামলার রায়ের জন্য একই দিন ঠিক করে একই আদালত।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, ববির মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য রবিবার দিন ঠিক করা ছিল। দুদকের পক্ষে আইনজীবী হাফিজুর রহমান যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন প্রত্যাশা করেন।
শেখ হাসিনা, টিউলিপ, ববিসহ ১৭ আসামি আদালতের দৃষ্টিতে পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাননি কোনো আইনজীবী। তারা আত্মপক্ষও সমর্থন করতে পারেননি।
কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। দুদক অভিযোগ ‘প্রমাণ করতে পারেনি’ দাবি করে খুরশীদের খালাস চান তিনি। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত ২ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন রাখেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন– গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, তন্ময় দাস, সাবেক সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা ও মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে’ রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত জানুয়ারিতে ছয়টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে আসামি করা হয়।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের তিন মামলার বিচার শেষে সাজার রায় এসেছে। শেখ রেহানা ও টিউলিপের একটি মামলারও রায় দিয়েছে আদালত।
চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জয় ও পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া শেখ রেহানার ৭ বছর এবং তার মেয়ে টিউলিপের ২ বছরের সাজা হয়েছে।
এমআর/সবা


























