০৯:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হবে: জবি উপাচার্য 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের  কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন ক্যাম্পাসের কাজের পাশাপাশি লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ সহ ছাত্র রাজনীতির সংস্কার,  আবাসন সমস্যা, সমাবর্তন অনুষ্ঠান, অডিটোরিয়াম  রুমের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

 

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলনের নির্বাচিত  বিভাগীয় ও ব্যাচ প্রতিনিধিবৃন্দের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি ক্যাম্পাসের কাজের মেয়াদ নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে দেখা করেছি, তাদের বলেছি কাজ সময়মত হয়নি, টাইমটা যেন আরেকটু বাড়ানো হয়। তারা বলেছেন সময়টা বাড়ানো হবে।

 

হল ও আবাসন সংকটের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমাদের হল নেই। এখানে ভিসি ভবনও নেই। আমি কোথায় থাকব তারও ঠিক নেই। আমি তো ক্যাম্পাসেই থাকতে চাই। কিন্ত এখানে থাকার জায়গা নেই। নতুন ক্যাম্পাসে টেম্পোরারি থাকার ব্যবস্থা করা যায় কি না সেটাও আমি ভাবছি। ১০ হাজার শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা সহজ কিছু নয়। যা ১৯ বছরে হয়নি তা এক মাসে হয়ত হবে না। তবে আমরা অগ্রগতি জানাব। আমি তোমাদের ভিসি। আমরা সবাই মিলে সফল হব।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে যারা স্বৈরাচারের হয়ে প্রত্যক্ষ কাজ করেছে, উৎসাহিত করেছে তাদের আমি ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। আমি তাদের ভাইস-চ্যান্সেলর হতে চাই না। আমরা যারা দায়িত্বে আছি তারাই আইনের বাধা। চাইলেও আমরা সবকিছু কর‍তে পারি না। সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে, স্বৈরাচারকে ঠেকাতে হবে এবং সবাই মিলে সফলতা অর্জন করতে হবে।

 

উপাচার্য রেজাউল করিম আরও বলেন, আমাদের অডিটোরিয়ামে এসি সব নষ্ট। খোঁজ নিয়ে দেখলাম আমি যে সময়ে বাসার এসি কিনেছি তা কবে নষ্ট হবে তার ঠিক নেই, কিন্ত এখানের সব এসি নষ্ট। আমরা জিরোতেও নেই, আমরা অলরেডি মাইনাসে আছি। কারণ এই এসি লাগাতে হলে আগে নষ্টগুলো সরাতে হবে। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, নতুন ভবন করতে হলে এগুলো ভাঙতে হবে। তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস করবে কোথায়? এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন বেগম খালেদাজিয়া। এখন তার নামফলকও নেই। সেগুলো পুনঃস্থাপন হবে। এসব নিয়ে আমরা কাজ করছি।

 

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, যাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, আমি বলেছি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হবে না কিন্ত ছাত্ররাজনীতির কালচার চেঞ্জ হবে। লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি চলবে না। জকসু যতদ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে। তাহলে আমাদের একটা স্পেসিফিক উইন্ডো হবে যেটা নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।

 

সমাবর্তনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমরা সবাই চাই সমাবর্তন হোক। আমি ভাবছি নেক্সট কনভোকেশন নতুন ক্যাম্পাসে করতে পারি কি না। একটা সমাবর্তনের প্রস্তুতি নিতেই এক বছর চলে যায়। ততদিনে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে পারলে ওখানেই করব। এছাড়া ধুপখোলা মাঠে লিগ্যাল রাইট আমাদের দেয়ার কথা আছে, দেয়া হলেই ওখানে আমাদের স্থায়ী কিছু করা হবে। লিগ্যালভাবে একবার যদি বসতে পারি তাইলে বাকিটা আমরা দেখে নেব।

 

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহা. তাজাম্মুল হক এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হবে: জবি উপাচার্য 

আপডেট সময় : ০৫:২১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের  কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন ক্যাম্পাসের কাজের পাশাপাশি লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ সহ ছাত্র রাজনীতির সংস্কার,  আবাসন সমস্যা, সমাবর্তন অনুষ্ঠান, অডিটোরিয়াম  রুমের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

 

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলনের নির্বাচিত  বিভাগীয় ও ব্যাচ প্রতিনিধিবৃন্দের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি ক্যাম্পাসের কাজের মেয়াদ নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে দেখা করেছি, তাদের বলেছি কাজ সময়মত হয়নি, টাইমটা যেন আরেকটু বাড়ানো হয়। তারা বলেছেন সময়টা বাড়ানো হবে।

 

হল ও আবাসন সংকটের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমাদের হল নেই। এখানে ভিসি ভবনও নেই। আমি কোথায় থাকব তারও ঠিক নেই। আমি তো ক্যাম্পাসেই থাকতে চাই। কিন্ত এখানে থাকার জায়গা নেই। নতুন ক্যাম্পাসে টেম্পোরারি থাকার ব্যবস্থা করা যায় কি না সেটাও আমি ভাবছি। ১০ হাজার শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা করা সহজ কিছু নয়। যা ১৯ বছরে হয়নি তা এক মাসে হয়ত হবে না। তবে আমরা অগ্রগতি জানাব। আমি তোমাদের ভিসি। আমরা সবাই মিলে সফল হব।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে যারা স্বৈরাচারের হয়ে প্রত্যক্ষ কাজ করেছে, উৎসাহিত করেছে তাদের আমি ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না। আমি তাদের ভাইস-চ্যান্সেলর হতে চাই না। আমরা যারা দায়িত্বে আছি তারাই আইনের বাধা। চাইলেও আমরা সবকিছু কর‍তে পারি না। সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে, স্বৈরাচারকে ঠেকাতে হবে এবং সবাই মিলে সফলতা অর্জন করতে হবে।

 

উপাচার্য রেজাউল করিম আরও বলেন, আমাদের অডিটোরিয়ামে এসি সব নষ্ট। খোঁজ নিয়ে দেখলাম আমি যে সময়ে বাসার এসি কিনেছি তা কবে নষ্ট হবে তার ঠিক নেই, কিন্ত এখানের সব এসি নষ্ট। আমরা জিরোতেও নেই, আমরা অলরেডি মাইনাসে আছি। কারণ এই এসি লাগাতে হলে আগে নষ্টগুলো সরাতে হবে। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, নতুন ভবন করতে হলে এগুলো ভাঙতে হবে। তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস করবে কোথায়? এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন বেগম খালেদাজিয়া। এখন তার নামফলকও নেই। সেগুলো পুনঃস্থাপন হবে। এসব নিয়ে আমরা কাজ করছি।

 

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, যাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, আমি বলেছি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হবে না কিন্ত ছাত্ররাজনীতির কালচার চেঞ্জ হবে। লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি চলবে না। জকসু যতদ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে। তাহলে আমাদের একটা স্পেসিফিক উইন্ডো হবে যেটা নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব।

 

সমাবর্তনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আমরা সবাই চাই সমাবর্তন হোক। আমি ভাবছি নেক্সট কনভোকেশন নতুন ক্যাম্পাসে করতে পারি কি না। একটা সমাবর্তনের প্রস্তুতি নিতেই এক বছর চলে যায়। ততদিনে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে পারলে ওখানেই করব। এছাড়া ধুপখোলা মাঠে লিগ্যাল রাইট আমাদের দেয়ার কথা আছে, দেয়া হলেই ওখানে আমাদের স্থায়ী কিছু করা হবে। লিগ্যালভাবে একবার যদি বসতে পারি তাইলে বাকিটা আমরা দেখে নেব।

 

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহা. তাজাম্মুল হক এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।