খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার লারমা স্কয়ার, এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় এখনো সহিংসতার বীভৎস চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে গত সপ্তাহখানিক আগেও সাজানো-গোছানো দোকান ছিল, সেখানে এখন পুড়ে যাওয়া খুঁটির সারি দাঁড়িয়ে আছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সহিংসতায় ৮৭টি স্থায়ী ও ৯৪টি ভ্রাম্যমাণ দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৬টি দোকানের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয় । অগ্নিসংযোগ করা হয় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ ২০ গাড়িতে।
কয়েকটি দোকানের মালিক নতুন করে অবকাঠামো তৈরি করতে কাজ করছেন। অনেকেই জানিয়েছেন হতাশার কথা। লারমা স্কয়ার এবং বাস টার্মিনালে পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায় ব্যবসা করত। পাহাড়িকা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক দিপন চাকমা জানান, কিছুদিন আগেই নতুন করে দোকান তৈরি করেছিলেন। দোকানে মালামাল ভরপুর ছিল। দোকান পুড়ে অন্তত ৪০-৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সহায় সম্বল হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। আরেক হোটেলের মালিক কণিকা চাকমা বলেন, সামনে হোটেল আর পেছনে ছিল তাদের থাকার ঘর। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে তাদের সবকিছুই পুড়ে গেছে।
দিদারুল আলমের ছিল হার্ডওয়ারসহ ভ্যারাইটিজ মালামালের দোকান। আগুনে ১৭-১৮ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দিদারুল বলেন, এখানে দীর্ঘ বছর ধরে পাহাড়ি-বাঙালি ভাই ভাই হিসেবে সম্প্রীতির বন্ধনে মিলেমিশে ব্যবসাবাণিজ্য করে আসছি। যে ক্ষতি হয়ে গেল তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে লারমা স্কয়ারে দুটি বসতবাড়ি রয়েছে। সেগুলো সোলাইন রাখাইন ও এডিশন চাকমার। বসতবাড়ির সামনে নাপ্পির দোকান চালাতেন সোলাইন রাখাইন। তিনি বলেন, আগুনে পুড়ে ঘরবাড়ি, দোকানের মালামাল মিলে বিশ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া আগুনে পুড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে পুষ্প বিতান ও সাজঘর, আম্বিয়া ট্রেডার্স, কুসুম কুকারিজ, বিসমিল্লাহ বীজ ভাণ্ডার, ত্রিরত্ন মাইক সার্ভিস এবং প্রিয়দর্শী ট্রেডার্সের।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে মামুন হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দীঘিনালা কলেজের কয়েকজন বাঙালি শিক্ষার্থী মিছিল বের করে। প্রত্যক্ষদর্শী বিসমিল্লাহ বীজ ভাণ্ডারের মালিক আকতার হোসেন বলেন, দীঘিনালা থানা বাজার থেকে একটি মিছিল লারমা স্কয়ার, বোয়ালখালী গরুর বাজার হয়ে পুনরায় লারমা স্কয়ার হয়ে দীঘিনালা থানা বাজারের পথে যাওয়ার চেষ্টা করে। লারমা স্কয়ার পৌঁছালে হঠাৎ হট্টগোল শুরু হয়। গুলতির সাহায্যে ছোড়া কিছু মার্বেল এসে পড়তে দেখা যায়। পাহাড়ি-বাঙালি দুপক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। হঠাৎ করে বাজারের কয়েকটি স্থানের দোকানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে বেশ কয়েকটি শান্তি কমিটি করা হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে পুলিশ বাদী হয়ে দীঘিনালা থানায় একটি মামলা হয়েছে। দীঘিনালা থানা (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেছেন মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা সহিংসতার ঘটনার ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। দীঘিনালায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা প্রশাসন থেকে ৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে ২০ টন চাল এবং দুই লাখ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা দ্রুত বিতরণ করা হবে।
শিরোনাম
খাগড়াছড়িতে সহিংসতায় ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৭ কোটি টাকা
-
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৪:১৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
- ।
- 182
জনপ্রিয় সংবাদ
























