১১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুরে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

টানা চার দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর রবিবার তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি না হলেও তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাত ১১টায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। রবিবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রংপুরের কাউনিয়ায় পানি বাড়লেও লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজে সেই অনুপাতে পানি বাড়েনি। সেখানে রবিবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া এলাকায় নদীর পানি বাড়ায় তিস্তার চরা লসহ নিম্না লে কিছুটা পানি বেড়েছে। এসব এলাকা প্লাবিত হলেও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন তথ্য দিয়েছে। এদিকে বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রংপুরের তিস্তা তীরবর্তী তিন উপজেলা কাউনিয়া, পীরগাছা ও গঙ্গাচড়া এলাকার নদীপারের মানুষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার নিম্না ল ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ও নিম্না ল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্রায় দু’ হাজার পাঁচ শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেশ কিছু স্থানে তিস্তার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে চর ও নিম্না লের আমন ধান, আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষেত ও চলাচলের সড়ক। ভেসে গেছে মাছের পুকুর-খামার। অনেকে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও টানা বৃষ্টিপাতে পানি বাড়ার ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সাথে ফসলি জমিতে পানি ওঠায় নষ্ট হচ্ছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি, বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার দশমিক ২ সেন্টিমিটার (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ পয়েন্টে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে বিপদসীমা অতিক্রম করে। পাউবোর রংপুর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, পানি বাড়লেও এই পানি নেমে যাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়ে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

রংপুরে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

টানা চার দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর রবিবার তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি না হলেও তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাত ১১টায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। রবিবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রংপুরের কাউনিয়ায় পানি বাড়লেও লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজে সেই অনুপাতে পানি বাড়েনি। সেখানে রবিবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া এলাকায় নদীর পানি বাড়ায় তিস্তার চরা লসহ নিম্না লে কিছুটা পানি বেড়েছে। এসব এলাকা প্লাবিত হলেও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন তথ্য দিয়েছে। এদিকে বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রংপুরের তিস্তা তীরবর্তী তিন উপজেলা কাউনিয়া, পীরগাছা ও গঙ্গাচড়া এলাকার নদীপারের মানুষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার নিম্না ল ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ও নিম্না ল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্রায় দু’ হাজার পাঁচ শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেশ কিছু স্থানে তিস্তার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে চর ও নিম্না লের আমন ধান, আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষেত ও চলাচলের সড়ক। ভেসে গেছে মাছের পুকুর-খামার। অনেকে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এছাড়াও টানা বৃষ্টিপাতে পানি বাড়ার ফলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সাথে ফসলি জমিতে পানি ওঠায় নষ্ট হচ্ছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি, বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার দশমিক ২ সেন্টিমিটার (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার যা বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ পয়েন্টে ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে বিপদসীমা অতিক্রম করে। পাউবোর রংপুর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, পানি বাড়লেও এই পানি নেমে যাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নদীর পানির সমতল হ্রাস পেয়ে পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।