নওগাঁর ধামইরহাটের জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস আলমের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত কমিটি। গত ১০ সেপ্টেম্বর তফিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এ অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে দেন। সেই তদন্ত কমিটি আজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
জানা যায়, অধ্যক্ষ ইলিয়াস আলম এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুসারে ৫ জন কর্মচারীর প্রাপ্ততা থাকলেও জনবল কাঠামোর তোয়াক্কা না করে মাধ্যমিক ও কলেজ শাখাকে সতন্ত্র হিসেবে দেখিয়ে বিধিবহির্ভূত ভাবে আরও ৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এক যুগের অধিক সময় ধরে ওই একজন ব্যাক্তিকেই সভাপতি হিসাবে রেখে মোট ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য ১ জন করে ল্যাব সহকারী প্রাপ্যতা থাকায় ৪ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। যার সবাই অধ্যক্ষের নিকট আত্মীয় এবং তাঁর গ্রামের। কিন্তু সু-কৌশলে স্কুলকে স্বতন্ত্র হিসেবে দেখিয়ে সরকার প্রদত্ত কম্পিউটার ল্যাব না থাকার সত্ত্বেও ওই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নীতিমালা বর্হিভূত। প্রতিষ্ঠানে ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়োগ দিয়ে প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের মাঠের শোভাবর্ধনকারী মেহগনি, আম, কাঁঠালসহ অন্যান্য প্রায় ৭০টি গাছ অনুমোদন ছাড়াই বিক্রয় করা হয়। প্রতিষ্ঠানের পূর্ব দিকে নিকেশ্বর মৌজায় প্রায় ১ একর ভিটামাটির উপরে ১২ শত বনজ গাছের বাগানও বিধি বর্হিভূতভাবে বিক্রয় করা হয়। এবং দুই কক্ষ বিশিষ্ট দ্বীতল বিল্ডিং ভাঙ্গার রড ও ইট টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় না করে বিধি বহির্ভূতভাবে বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস আলম বলেন, আমি কাউকে নিয়োগ দেইনি। পূর্বের অধ্যক্ষ তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। তার কছে প্রমাণ হিসাবে এই ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নিয়োগ ও যোগদানের কপি চাইলে তিনি তা দেননি। কিন্ত তথ্যাদিতে দেখা যায় অধ্যক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানে ২০১০ সালে নিয়োগ নিয়েছেন। এরপর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ২৩টি পদে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ডে গঠন করে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌফিক আল যোবায়ের বলেন, অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে প্রধান করে আরও দুইজনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। সে অনুসারে আমরা আজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি এবং দুই পক্ষকেই তাদের পক্ষের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। সেগুলো হাতে পেলে যাচাই সাপেক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।






















