গাজীপুরের শ্রীপুরে বনের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে যৌথ বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। মামলায় পাঁচ নারীসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ জনকে আসামী করা হয়। ঢাকা বন বিভাগের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের রাজেন্দ্রপুর পূর্ব বিট কর্মকর্তা কে বি এম ফেরদৌস বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টায় উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কাফিলাতলী ও ইজ্জতপুর গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে দখলদাররা যৌথ বাহিনীর উপর হামল চালায়।
মামলায় আসামীরা হলেন, কাফিলাতলী এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪৭), সিরাজুল ইসলামের ছেলে মাসুদ (২৭), আব্দুল গনির ছেলে নুরুন্নবী (২৬), আকাব্বরের ছেলে সোহেল ২৫), মোহাম্মদ আলীর ছেলে জুয়েল (২৮), মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাহবুবুল আলম (৩৮), নলজানি এলাকার মৃত খালেকের ছেলে আতাবুর (৪২), আব্দুল কুদ্দসের ছেলে আল আমিন (৩৪), আমজাদ হোসেন মোল্লার ছেলে আসাদ উল্লাহ (৪২), সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মরজিনা (৪৩), ছিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী ছালেহা (৪৮), সিরাজুল ইসলামের মেয়ে শারমিন (২০), মাসুদের স্ত্রী শান্তা (২৩), ছিদ্দিকুরের ছেলে সালাহউদ্দিন (২৮), সাইফুল ইসলাম (৩১), মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমান (৪৬), সোনাই পাঠানের ছেলে নজরুল (৪৯), মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে বাদল (৪৫), রিয়ার ছেলে শাওন (২২), জয়দেবপুর থানার পাটপাচা গ্রামের সানি মিয়ার ছেলে হাকিম (২৪), মফিজ উদ্দিনের ছেলে মিজান (৪০), আবুল (৩৭), আকাব্বরের ছেলে সুমন (২৮), চান মিয়ার ছেলে আহাদ (৪৫), আল আমিনের স্ত্রী হনুফা (২৪) সহ অজ্ঞাত ৪০ জনকে আসামী করা হয়।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের পর শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কাফিলাতলী ও ইজ্জতপুর এলাকায় বনের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ী, বিভিন্ন স্থাপনা ও দোকান নির্মাণ করেছিল। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) ওই এলাকায় দিনব্যাপী যৌথ বাহিনী উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ইজ্জতপুর বাজারের পশ্চিম পাশে উচ্ছেদ করতে গেলে আসামীরা সিরাজুল ইসলাম, তার ছেলে মাসুদের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করে। তাদের হামলায় এক্সেভেটর চালক রাসেল মোকামী (২২), তার সহকারী (হেলপার) হাকিম মোল্লা (২০), পরিচ্ছন্নতা কর্মী আরাফাত হোসেন আরফান, বাগান মালী লিটন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সভাপতি মেহেদী হাসান আশিক আহত হয়। এসময় তারা শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ীর কাঁচ এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ী ভাংচুর করে। সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সহযোগিতা অহত প্রত্যেকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে এবং ফৌজধারী আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।






















