কুড়িগ্রামের চিলমারীতে জিআর’র চাল নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের না দিয়ে আত্মসাতের
অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৫ ইউপি সদস্য।
গত ৩ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তারা।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, গত ৩০ নভেম্বর চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় পরিবারের জন্য জেনারেল রিলিফ (জিআর) এর ২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। এতে মোট ২’শ পরিবার প্রত্যেকে ১০ কেজি করে চাল পান। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণকৃত চালের তালিকানুযায়ী দেখা যায়, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পরিষদটির মোট বরাদ্দের সিংহভাগই বিতরণ করা হয়েছে ৪টি ওয়ার্ডের পরিবারের মাঝে। মোট ২’শ পরিবারের মধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১৭৭ জন পরিবার পেয়েছেন চাল। ৩ নং ওয়ার্ডে কোন পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা না হলেও বাকি ৪টি ওয়ার্ডের ৩৩ পরিবার জিআর’র চাল পেয়েছেন। চাল পাওয়া পরিবারগুলো হলো ১নং ওয়ার্ডে ৩৭ পরিবার, ২নং ওয়ার্ডে ৩ পরিবার, ৪ নং ওয়ার্ডে ৩ পরিবার, ৫ নং ওয়ার্ডে ৩৭ পরিবার, ৬ নং ওয়ার্ডে ৪০ পরিবার, ৭ নং ওয়ার্ডে ৬৩ পরিবার, ৮নং ওয়ার্ডে ৮ পরিবার ও ৯নং ওয়ার্ডে ৯ পরিবার ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন।
অভিযোগে আরো জানাযায়, ৩নং ওয়ার্ডে ৩জন পরিবারের নাম থাকলেও তারা চাল পাননি। ৫নং ওয়ার্ডে একই পরিবারের সকল সদস্যের নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। ৬নং ওয়ার্ডেও একই চিত্র দেখা গেছে। ৭,৮,ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যের স্বামী মাইদুল ইসলাম ও তার বোন শাহানাজ বেগম তালিকায় নাম দিয়ে চাল উত্তোলন করেছেন।
অভিযোগকারী ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: সানোয়ার হোসেন বলেন, ২/১টি ওয়ার্ড বাদে বাকি সব ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকাটি ভূয়া। মনগড়া তালিকা করে ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ পরিষদের আরও কয়েকজন সদস্যের সহযোগীতায় চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
২ নং ওয়ার্ডের সদস্য রহমত আলী বলেন, তার ওয়ার্ডের ৩ জনের নামে চাল উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্ত তালিকাভূক্ত ওই তিন পরিবার কোন চাল পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।






















