হামলা-মামলা ও নির্যাতনে বিপর্যস্ত বিএনপি এখন বেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দলের নেতাকর্মীরা এখন অনেকটা নির্ভার। প্রায় দেড় যুগ ধরে হামলা-মামলা ও জেল-নির্যাতনের ক্লান্তি ভুলে এখন সংগঠন গোছানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চলতি ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনে হাত দেবে বিএনপি।
এদিকে ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হবে শিগগিরই— এমন খবরে নড়েচড়ে বসেছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী। পদ পেতে শুরু করছেন নানা তদবির! দলের জেলা উত্তরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে যারা সক্রিয়, তারা নিজ নিজ বলয় থেকে নেতৃত্ব উঠিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা। একইসঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও তার নিজস্ব চ্যানেলে যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়—এমন নেতাদের নেতৃত্বে আনতে কাজ করছেন।
সূত্র বলছে, দুই এক মাসের মধ্যে জেলা উত্তরে নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। কমিটিকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি হওয়ার খবরে বিএনপির রাজনীতি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে কয়েকজন নেতাদের নাম। তাদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দুঃসময়ে ভূমিকা রাখা নান্দাইল উপজেলার সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা উত্তর বিএনপির বর্তমান কমিটির সদস্য আজিজুল ইসলাম পিকুল। এমনকি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় একটা অংশই জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে তাকে দেখতে চায়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নান্দাইলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলা আর গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া ৪১টি মামলা আর নানা ধরণের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য তরুণ নেতৃত্বের ‘আইডল’আজিজুল ইসলাম পিকুল। সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতা কর্মীরদের নিয়ে অংশ নেওয়ার কারণে নতুন আরও দুই মামলায় পিকুলকে ১ নাম্বার আসামি করা হয়। এমনকি সেই সময়ে তার বাড়ি-ঘরেও হামলা চালিয়েছিল প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সরকার পতনের আন্দোলনেও হুমকিধামকি উপেক্ষা করে হাজারও নেতাকর্মী নিয়ে রাজপথে ছিলেন পিকুল।
নান্দাইল পুরাতন বাজারের সুভাস রায় নামক এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মন্দির ভাঙচুরের খবর পেলেও আমাদের নান্দাইল এরকম কিছু ঘটতে শুনিনি। সাবেক পৌর মেয়র পিকুল আমাদের নিজ পরিবারের মতো আগলে রেখেছেন। প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও তিনি আমাদের এলাকায় এসেছেন এবং আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য আমরা সবার কাছেই কৃতজ্ঞ। তিনি যদি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, তাহলে আমরা জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আমরা ওনার পাশে থাকবো।
ময়মনসিংহ উত্তর ছাত্রদল নেতা পিপুল আকন্দ বলেন, ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার দ্বারা আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর পর স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে পেরেছি। পিকুল ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজপথে ছিলাম, যেকোন সময় ডাক পেলে আবারও নামবো। আমরা আশা করি পিকুল ভাইয়ের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। সামনের দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনে পিকুল ভাইয়ের কোন বিকল্প নেই।
জানা গেছে, বিএনপি নেতা পিকুলের বিরুদ্ধে সর্বমোট ৪১টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি কারাবরণ করেছেন মোট ৬ বার। এরমধ্যে ২০১১ সাল, ২০১৪ সাল, ২০১৫ সাল, ২০১৮ সাল, ২০১৯ সাল এবং সর্বশেষ ২০২১ সালে সর্বমোট তাকে ২৫৫ দিন কারাবরণ করতে হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে এক মামলাতেই পিকুলকে সর্বোচ্চ কারাবরণ ছিলো ৫ মাস ১৮ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। সর্বশেষ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোগিতা করার জন্য দুটি মামলা প্রথম আসামিসহ বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ছিল ।
প্রসঙ্গত, ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে ১৯৯৬ সালে রাজনীতি শুরু করেন পিকুল। ২০০৩ সালে নান্দাইল পৌর ছাত্রদলে ৫ নং ওয়ার্ডের ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৯ সালে নান্দাইল পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হন তিনি। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে পৌর-বিএনপির সিনিয়র সভাপতি এবং বর্তমানে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০১১ সালের ১লা জানুয়ারি বিপুল ভোটে ২৬ বছর বয়সে নান্দাইল পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হন পিকুল। সর্বশেষ ২০১৫ এবং ২০২১ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী এবং ২০১৫ সালে পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির এই সদস্য।






















