০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ টাকায় ভরা মৌসুমেও চড়া আলুর দাম

ভরা মৌসুমেও বাজারে কমছে না আলুর দাম। গত বছরের এই সময়ের তুলনায়
পাইকারি ও খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ
তিনগুণ বেশি দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোল্ড স্টোরেজে আলু মজুদ রেখে কৃত্রিম
সংকট তৈরি করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা পাইকারিতে দাম বাড়াতে থাকেন। অথচ
এখন কৃষকের ঘরে উঠেছে নতুন আলু। সেই আলু গতকাল খুচরা বাজারে বিক্রি
হচ্ছিল প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে। যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। গতবছর এই সময়ে
খুচরা বাজারে নতুন আলুর দাম ছিল ৪০ টাকা। তৎকালীন সরকার সে সময় আলুর দাম
বেঁধে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেও ব্যর্থ হয়। তবে এখনো আলু বিক্রি করে
কৃষকরা উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না। কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে মধ্যস্বত্বভোগীরা
কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুন্সিগঞ্জের হিমাগার থেকে আলুর দাম না কমলে খুচরা বাজারে
দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধির কারণে
মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তদের আলু কিনতে দুইবার ভাবতে হচ্ছে। অথচ গত দুই তিন
বছর আগেও সবজির মধ্যে একমাত্র আলুর দামই স্থিতিশীল থাকতো। নগরীর চাক্তাই
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন আড়তদার জানান, দেশের বাজারে আলুর বড় অংশই আসে
মুন্সিগঞ্জ থেকে। আলুর বাজার পুরোপুরি কোল্ড স্টোরেজ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।
কিছু কিছু কোল্ড স্টোরেজ মালিক অবস্থা বুঝে কম দামে আলু কিনে মজুদ করে
রাখেন। সরবরাহ সংকট তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে দাম বৃদ্ধি করেন। এছাড়া
কোল্ডস্টোরেজের মালিকরা তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে কৃষক পর্যায়ে দাদন দিয়ে
থাকেন। ক্ষেত থেকে আলু ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এজেন্টরা পূর্ব নির্ধারিত দামে মাঠ
থেকে সংগ্রহ করে কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করেন। পাইকারি আড়তদারদের বেশি
মুনাফা করার সুযোগ নাই। চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল
কাশেম বলেন, আলুর বাজার এখনো চড়া। তবে এটি ঠিক এখন আলুর ভরা মৌসুম।
কৃষকের ঘরে ঘরে এখন নতুন আলু। তবে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কোল্টস্টোরেজে
নজরদারি বাড়ানো উচিত। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কোল্টস্টোরেজের বেধে দেয়া দামে
আলু কিনেন। কোল্টস্টোরেজে যদি ৪০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হয়, তখন
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে আসতে আরো ১-২ টাকা খরচ পড়বে। পাইকারিতে
বাজারে যদি আলুর দাম ৪২ টাকা হয়, তবে খুচরা দোকানিরা ৪৫-৪৬ টাকায় আলু
বিক্রি করতে পারবেন। কারণ কোনো ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে তো আর ব্যবসা
করবেন না।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি
পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায় এবং নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি
৬০ টাকায়। অন্যদিকে সেই নতুন আলু খুচরায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০
টাকায়। এছাড়া পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি
এসএম নাজের হোসেন বলেন, বাজারে কোনো পণ্যের দামই নিয়ন্ত্রণে নাই।
ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্য নিয়ে কারসাজি করেন। এখন শুরু হয়েছে,
আলু নিয়ে। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সোচ্চার হতে হবে। কোল্ডস্টোরেজ
থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত নজরদারি বাড়াতে হবে। নিয়মিত অভিযান
চালাতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ টাকায় ভরা মৌসুমেও চড়া আলুর দাম

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪

ভরা মৌসুমেও বাজারে কমছে না আলুর দাম। গত বছরের এই সময়ের তুলনায়
পাইকারি ও খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ
তিনগুণ বেশি দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোল্ড স্টোরেজে আলু মজুদ রেখে কৃত্রিম
সংকট তৈরি করে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা পাইকারিতে দাম বাড়াতে থাকেন। অথচ
এখন কৃষকের ঘরে উঠেছে নতুন আলু। সেই আলু গতকাল খুচরা বাজারে বিক্রি
হচ্ছিল প্রতি কেজি ৯০ টাকা দরে। যা সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। গতবছর এই সময়ে
খুচরা বাজারে নতুন আলুর দাম ছিল ৪০ টাকা। তৎকালীন সরকার সে সময় আলুর দাম
বেঁধে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেও ব্যর্থ হয়। তবে এখনো আলু বিক্রি করে
কৃষকরা উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না। কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে মধ্যস্বত্বভোগীরা
কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুন্সিগঞ্জের হিমাগার থেকে আলুর দাম না কমলে খুচরা বাজারে
দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধির কারণে
মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তদের আলু কিনতে দুইবার ভাবতে হচ্ছে। অথচ গত দুই তিন
বছর আগেও সবজির মধ্যে একমাত্র আলুর দামই স্থিতিশীল থাকতো। নগরীর চাক্তাই
খাতুনগঞ্জের কয়েকজন আড়তদার জানান, দেশের বাজারে আলুর বড় অংশই আসে
মুন্সিগঞ্জ থেকে। আলুর বাজার পুরোপুরি কোল্ড স্টোরেজ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।
কিছু কিছু কোল্ড স্টোরেজ মালিক অবস্থা বুঝে কম দামে আলু কিনে মজুদ করে
রাখেন। সরবরাহ সংকট তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে দাম বৃদ্ধি করেন। এছাড়া
কোল্ডস্টোরেজের মালিকরা তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে কৃষক পর্যায়ে দাদন দিয়ে
থাকেন। ক্ষেত থেকে আলু ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এজেন্টরা পূর্ব নির্ধারিত দামে মাঠ
থেকে সংগ্রহ করে কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করেন। পাইকারি আড়তদারদের বেশি
মুনাফা করার সুযোগ নাই। চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল
কাশেম বলেন, আলুর বাজার এখনো চড়া। তবে এটি ঠিক এখন আলুর ভরা মৌসুম।
কৃষকের ঘরে ঘরে এখন নতুন আলু। তবে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কোল্টস্টোরেজে
নজরদারি বাড়ানো উচিত। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কোল্টস্টোরেজের বেধে দেয়া দামে
আলু কিনেন। কোল্টস্টোরেজে যদি ৪০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি হয়, তখন
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে আসতে আরো ১-২ টাকা খরচ পড়বে। পাইকারিতে
বাজারে যদি আলুর দাম ৪২ টাকা হয়, তবে খুচরা দোকানিরা ৪৫-৪৬ টাকায় আলু
বিক্রি করতে পারবেন। কারণ কোনো ব্যবসায়ী লোকসান দিয়ে তো আর ব্যবসা
করবেন না।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি
পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায় এবং নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি
৬০ টাকায়। অন্যদিকে সেই নতুন আলু খুচরায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০
টাকায়। এছাড়া পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি
এসএম নাজের হোসেন বলেন, বাজারে কোনো পণ্যের দামই নিয়ন্ত্রণে নাই।
ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্য নিয়ে কারসাজি করেন। এখন শুরু হয়েছে,
আলু নিয়ে। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সোচ্চার হতে হবে। কোল্ডস্টোরেজ
থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত নজরদারি বাড়াতে হবে। নিয়মিত অভিযান
চালাতে হবে।