০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি নাকি অভিনয়ের দৃশ্য

যশোর সদর উপজেলার রামনগরের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে মুখোশ পরে একজন আরবিতে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার নিরাপত্তার জন্য দুই পাশে মুখোশ পরা দুই জন অস্ত্রহাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তোলপাড় চলছে। অনেকে এটিকে জঙ্গি সমাবেশ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, জঙ্গিবাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। গত ১৭ ডিসেম্বর বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেমন খুশি তেমন সাজোর একটি চিত্র।
বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, রামনগরের এক মাদ্রাসায় যেমন খুশি তেমন সাজো অনুষ্ঠানে  তিন ইসলামি সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অভিনয় করেছে তিন মাদ্রাসার ছাত্র। যেহেতু বন্দুকে লেখা ছিল না খেলনা বন্দুক, যেহেতু সন্ত্রাসীদের পোশাকে লেখা ছিল না অভিনয়ের পোশাক, তাই অনেকেই বুঝতে পারেনি যে অভিনয় চলছে। আমিও বুঝতে পারিনি। নাটিকাটিতে কোরানের যে দুটো সুরা উচ্চস্বরে পড়া হয়েছে, সে দুটো সুরা কতল এবং জিহাদের পক্ষে । ছাত্ররা  নাকি সন্ত্রাসী হামাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছে, কেউ কেউ বলেছে আইসিসের ভূমিকায়। প্রশ্ন হলো, এরা কি জিহাদের বা  সন্ত্রাসের পক্ষে মেসেজ দিচ্ছে, নাকি বিপক্ষে? ধামাচাপাবাজেরা বলবেন, সন্ত্রাসের বিপক্ষে। সন্ত্রাসের বিপক্ষে কি না, তা   ফ্যাক্টচেক করায় পারদর্শিরা  একবার চেক করুন তো! মাদ্রাসার শত শত ছাত্র কী শিখলো, জিহাদে যেতে হবে, নাকি জিহাদকে বর্জন করতে হবে, ফ্যাক্টচেক করে জানান। দ্রুত।
যশোরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমিনুর রহমান মামুন মন্তব্য করেছেন, জিহাদের পক্ষে না বিপক্ষে কোন ম্যাসেজ দিলেন আপনারা? কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মগজে কোনটি গেথে গেল – এর জবাব কে দেবে?
মহুয়া চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন,
এগুলো মিঃ: ফারুকী র উর্বর মস্তিষ্কের ফল। সে বলেছিলো ইসলামকে সাংস্কৃতিক রুপ দেবে। যেমন খুশি তেমন সাজো একটি রুপক। ম্যাসেজ ভিন্ন।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর যশোরের ছেলে বি কে লিটন মন্তব্য করেছেন, আমি গেছিলাম সেখানে !
যশোর জামিয়া ইসলামিয়া  রামনগর রাজারহাট যশোর। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতী লুৎফুর রহমান ফারুকী। ভিডিও আসছে এই বিষয়  নিয়ে -! এই মাদ্রাসা যেমন খুশি তেমন সাঁজের অনুষ্ঠানের অংশ  ভাইরাল হয়েছে মাত্র। এটা কেউ সিরিয়াস নিবেন না।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম জানান, মাদরাসা অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্রহাতে মুখে মুখোশ পরা দুইজন দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আর মাঝে আরবিতে বক্তব্য দিচ্ছে একজন। এছাড়া মঞ্চে কয়েকজনকে বসে আছেন।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। ভিডিওটি জেলা পুলিশের সাইবার টিমের নজরে আসে। পরে একাধিক টিম অনুসন্ধানে নামে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে দৃশ্যটি যেমন খুশি তেমন সাজো মঞ্চে অভিনয়ের। মাদরাসার তিন ছাত্র অভিনয়ে অংশ নেয়। অস্ত্র সাদৃশ্য বস্তু দুটি উদ্ধার করে দেখা যায় কর্কশীট দিয়ে তৈরী খেলনা অস্ত্র।
ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম্যে ভাইরাল করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এই বিষয়ে, জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, গত ১৭ ডিসেম্বর মাদরাসায় বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেমন খুশি তেমন সাজোর একটি চিত্র জঙ্গি সমাবেশ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে৷ জঙ্গিবাদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে সেটা অভিনয়ে বোঝানো হয়েছে। আরবিতে দেয়া বক্তব্য অনুবাদ করলেই বোঝা যাবে৷ তাদের হাতে বানানো খেলনা অস্ত্র ছিল।
জনপ্রিয় সংবাদ

জঙ্গি নাকি অভিনয়ের দৃশ্য

আপডেট সময় : ০২:১৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪
যশোর সদর উপজেলার রামনগরের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে মুখোশ পরে একজন আরবিতে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার নিরাপত্তার জন্য দুই পাশে মুখোশ পরা দুই জন অস্ত্রহাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তোলপাড় চলছে। অনেকে এটিকে জঙ্গি সমাবেশ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, জঙ্গিবাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। গত ১৭ ডিসেম্বর বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেমন খুশি তেমন সাজোর একটি চিত্র।
বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, রামনগরের এক মাদ্রাসায় যেমন খুশি তেমন সাজো অনুষ্ঠানে  তিন ইসলামি সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অভিনয় করেছে তিন মাদ্রাসার ছাত্র। যেহেতু বন্দুকে লেখা ছিল না খেলনা বন্দুক, যেহেতু সন্ত্রাসীদের পোশাকে লেখা ছিল না অভিনয়ের পোশাক, তাই অনেকেই বুঝতে পারেনি যে অভিনয় চলছে। আমিও বুঝতে পারিনি। নাটিকাটিতে কোরানের যে দুটো সুরা উচ্চস্বরে পড়া হয়েছে, সে দুটো সুরা কতল এবং জিহাদের পক্ষে । ছাত্ররা  নাকি সন্ত্রাসী হামাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছে, কেউ কেউ বলেছে আইসিসের ভূমিকায়। প্রশ্ন হলো, এরা কি জিহাদের বা  সন্ত্রাসের পক্ষে মেসেজ দিচ্ছে, নাকি বিপক্ষে? ধামাচাপাবাজেরা বলবেন, সন্ত্রাসের বিপক্ষে। সন্ত্রাসের বিপক্ষে কি না, তা   ফ্যাক্টচেক করায় পারদর্শিরা  একবার চেক করুন তো! মাদ্রাসার শত শত ছাত্র কী শিখলো, জিহাদে যেতে হবে, নাকি জিহাদকে বর্জন করতে হবে, ফ্যাক্টচেক করে জানান। দ্রুত।
যশোরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমিনুর রহমান মামুন মন্তব্য করেছেন, জিহাদের পক্ষে না বিপক্ষে কোন ম্যাসেজ দিলেন আপনারা? কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মগজে কোনটি গেথে গেল – এর জবাব কে দেবে?
মহুয়া চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন,
এগুলো মিঃ: ফারুকী র উর্বর মস্তিষ্কের ফল। সে বলেছিলো ইসলামকে সাংস্কৃতিক রুপ দেবে। যেমন খুশি তেমন সাজো একটি রুপক। ম্যাসেজ ভিন্ন।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটর যশোরের ছেলে বি কে লিটন মন্তব্য করেছেন, আমি গেছিলাম সেখানে !
যশোর জামিয়া ইসলামিয়া  রামনগর রাজারহাট যশোর। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুফতী লুৎফুর রহমান ফারুকী। ভিডিও আসছে এই বিষয়  নিয়ে -! এই মাদ্রাসা যেমন খুশি তেমন সাঁজের অনুষ্ঠানের অংশ  ভাইরাল হয়েছে মাত্র। এটা কেউ সিরিয়াস নিবেন না।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম জানান, মাদরাসা অনুষ্ঠানের ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্রহাতে মুখে মুখোশ পরা দুইজন দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আর মাঝে আরবিতে বক্তব্য দিচ্ছে একজন। এছাড়া মঞ্চে কয়েকজনকে বসে আছেন।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। ভিডিওটি জেলা পুলিশের সাইবার টিমের নজরে আসে। পরে একাধিক টিম অনুসন্ধানে নামে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে দৃশ্যটি যেমন খুশি তেমন সাজো মঞ্চে অভিনয়ের। মাদরাসার তিন ছাত্র অভিনয়ে অংশ নেয়। অস্ত্র সাদৃশ্য বস্তু দুটি উদ্ধার করে দেখা যায় কর্কশীট দিয়ে তৈরী খেলনা অস্ত্র।
ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম্যে ভাইরাল করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এই বিষয়ে, জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার মুহতামিম মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকী ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, গত ১৭ ডিসেম্বর মাদরাসায় বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেমন খুশি তেমন সাজোর একটি চিত্র জঙ্গি সমাবেশ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে৷ জঙ্গিবাদের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে সেটা অভিনয়ে বোঝানো হয়েছে। আরবিতে দেয়া বক্তব্য অনুবাদ করলেই বোঝা যাবে৷ তাদের হাতে বানানো খেলনা অস্ত্র ছিল।