০১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তে অটল জবি

২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ভোগান্তি কমানো, ব্যয় হ্রাস এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে চালু হওয়া সমন্বিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তাদের দাবি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন করে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সুবিধাভোগী একটি মহল তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে গুচ্ছ পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে সেশনজট বাড়িয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিকভাবে লাভবান করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আসন ফাঁকা থাকার প্রবণতাও শুরু হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আমরা মনে করি, এই পদ্ধতির আড়ালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষক সমিতি আরও জানায়, ২০২১ সাল থেকে তারা গুচ্ছ পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। তারা মনে করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছ পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল। একাধিক সভায় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, গুচ্ছ পরীক্ষায় শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বেশি হলেও এটি শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে নিজস্ব পদ্ধতিতে পরীক্ষায় শিক্ষকেরা যে সম্মানী পেয়েছেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা প্রায় ২৫০% বেড়েছে। তা সত্ত্বেও শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভর্তি কার্যক্রমে গতি আনার জন্য স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গত চারটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬০টি আসন ফাঁকা ছিল, যা স্বতন্ত্র পরীক্ষায় আগে কখনো দেখা যায়নি।
জাতীয় অভিন্ন ভর্তি পদ্ধতির প্রতি শর্তসাপেক্ষ সমর্থন রেখে শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সরকার কর্তৃক ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি গঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি অভিন্ন ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়, তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তা সমর্থন করবেন। তবে তা সম্ভব না হলে, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান ভর্তি পরীক্ষার নিয়মেই নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তে অটল জবি

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের ভর্তির ভোগান্তি কমানো, ব্যয় হ্রাস এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে চালু হওয়া সমন্বিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তাদের দাবি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন করে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ড. রইস উদ্দীন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজস্ব নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সুবিধাভোগী একটি মহল তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে গুচ্ছ পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়ে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে সেশনজট বাড়িয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিকভাবে লাভবান করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে আসন ফাঁকা থাকার প্রবণতাও শুরু হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আমরা মনে করি, এই পদ্ধতির আড়ালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষক সমিতি আরও জানায়, ২০২১ সাল থেকে তারা গুচ্ছ পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। তারা মনে করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছ পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল। একাধিক সভায় গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের বাধার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, গুচ্ছ পরীক্ষায় শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বেশি হলেও এটি শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে নিজস্ব পদ্ধতিতে পরীক্ষায় শিক্ষকেরা যে সম্মানী পেয়েছেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা প্রায় ২৫০% বেড়েছে। তা সত্ত্বেও শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ভর্তি কার্যক্রমে গতি আনার জন্য স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গত চারটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬০টি আসন ফাঁকা ছিল, যা স্বতন্ত্র পরীক্ষায় আগে কখনো দেখা যায়নি।
জাতীয় অভিন্ন ভর্তি পদ্ধতির প্রতি শর্তসাপেক্ষ সমর্থন রেখে শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সরকার কর্তৃক ন্যাশনাল টেস্টিং অথরিটি গঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি অভিন্ন ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়, তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তা সমর্থন করবেন। তবে তা সম্ভব না হলে, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান ভর্তি পরীক্ষার নিয়মেই নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।