ভূমি সেবা অনলাইন সার্ভারে প্রবেশ করতে গেলেই দেখা যাচ্ছে ‘০২ ব্যাড গেটওয়ে’ ত্রুটির বার্তা। এর ফলে, দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে নামজারির আবেদন ও প্রতিবেদন প্রেরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভূমি সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, আর মিউটেশন না হওয়ায় উপজেলায় স্থবির হয়ে পড়েছে দলিল রেজিস্ট্রিও।
এতে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
সদরপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ নভেম্বর থেকে উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সারা দেশে ভূমি সেবা অনলাইন সার্ভার বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে জমি কেনাবেচা, কর পরিশোধসহ অন্যান্য ভূমি সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সফটওয়্যারগুলোর ধীরগতির কারণে ই-নামজারি (মিউটেশন), ভূমি উন্নয়ন কর এবং খতিয়ান সেবা পেতে অসুবিধা হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে জনসাধারণ দৌড়ঝাঁপ করেও কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। ভূমি অফিসে গেলে সবাই একটাই উত্তর শুনছেন—’সার্ভারে সমস্যা।’
সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা আজিজুল খান বলেন, আমি আমার জমি মিউটেশন করানোর জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ভূমি অফিসে এসে জানতে পারি, সার্ভার সমস্যার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না।
আমরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে ভূমি অফিসে আসি, কিন্তু কাজ না হওয়ায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। আমরা দ্রুত সার্ভার সমস্যার সমাধান চাই।
খাদিজা আক্তার নামের আরেকজন সেবা গ্রহীতা বলেন, আমি কয়েকদিন আগে মিউটেশনের জন্য আবেদন করেছি। জমি বিক্রির জন্য এটি খুবই জরুরি। কিন্তু অফিসে গিয়ে জানতে পারি সার্ভারে সমস্যা রয়েছে।
দ্রুত সমস্যাটি সমাধান হলে আমি আমার কাজটি করতে পারব।
ভূমি উন্নয়ন কর দিতে আসা জাকির হোসেন বলেন, আমি একজন মুরব্বি মানুষ। অনেকদিন ধরে চেক কাটার জন্য আসছি। অফিস থেকে অনলাইনের দোকানে যেতে বলছে, কিন্তু সেখানেও কাজ বন্ধ।
সার্ভার সমস্যার কারণে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারাও নাগরিকদের সেবা দিতে পারছেন না। সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা খান বলেন, সার্ভার ত্রুটি ও সার্ভার উন্নয়নের কারণে সঠিকভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সার্ভারটি দ্রুত ঠিক হলে আমরা সবাইকে সেবা দিতে পারব।
সার্ভারের এই সমস্যার প্রভাব দলিল রেজিস্ট্রিতেও পড়েছে। দলিল লেখক মাসুদ শিকদার বলেন, গত ২৫ তারিখ থেকে সার্ভারের কারণে খাজনা ও মিউটেশন কোনো কিছুই হচ্ছে না। জানুয়ারি মাসে নতুন মৌজা রেট হয়, দলিল খরচ বেড়ে যায়। তাই ডিসেম্বরে মানুষ বেশি দলিল করে। কিন্তু এবছর সার্ভারের সমস্যার কারণে আমাদের দলিল সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবানা তানজিন বলেন, আগে আমরা পাঁচটি ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ভূমি সেবা দিতাম। এখন সব সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নতুনভাবে চালু করা হচ্ছে। পুরোনো সিস্টেম থেকে নতুন সিস্টেমে রূপান্তরের কারণে কিছু কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি কেন্দ্রীয়ভাবে আপগ্রেড করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে।




















