নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সৌদিপ্রবাসী আব্দুর রবের সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীর বিয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে হলফনামার মাধ্যমে অবশেষে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। দেনমোহর হিসেবে ৫ লাখ টাকা ধার্য করা হয়। বিয়েতে কিশোরীর পক্ষে তার বাবা ও তার খালুকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়।
বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই। এর আগে, সালিশে ১৩ লাখ টাকায় ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে দফারফা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার বারদী ইউনিয়নে আব্দুর রব নামের এক সৌদিপ্রবাসীর ধর্ষণের শিকার হয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সালিশী বসে। সেখানে ১৩ লাখ টাকায় বিষয়টি দফারফা হয়। বারদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া এবং বারদী ইউপির সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির এ রফাদফা করে দেন। এ টাকা থেকে তারা দু’জন তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সবুজ বাংলা পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের ৫ দিন পর অভিযুক্তের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে হয়েছে।
সালিশে উপস্থিত থাকা নাম না প্রকাশের শর্তে একজন জানান, ১৩ লাখ টাকা রফাদফার পরও বিএনপির দুই নেতাকে আরও ৩ লাখ টাকা দেয়া হয়। এ তিন লাখ টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন।
বারদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সত্য না। তবে এলাকায় একটা ঘটনা ঘটেছে। এটা মিমাংসা করতেই সালিশে বসা হয়েছে। কিশোরী ও অভিযুক্তের কথা শুনে বৈঠকে এলাকাবাসী ১৩ লাখ টাকায় দফারফা করে দেন।
অপর নেতা বারদী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির বলেন, সালিশ করেছি সত্য। তবে জরিমানার ৩ লাখ টাকা মেয়ের খালুর কাছে জমা দিয়েছিলাম। সেই টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের বিরুদ্ধে মানুষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই বলেন, মঙ্গলবার সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে হলফনামা করে বোনের বিয়ে হয়েছে। এ বিষয়টি জানানোর পর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।




















