০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে ফটিকছড়ির বেইলি ব্রিজ- “হালদার দু’পাড়ে উচ্ছ্বাস, কমবে ভোগান্তি ব্যবসায় ফিরবে প্রাণ

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ আমলে হালদা নদীর উপর নির্মিত নাজিরহাট হালদা সেতু। মুক্তিযুদ্ধসহ বহু কালজয়ী ইতিহাসের স্বাক্ষী সেতুটি৷ পরিত্যক্ত হওয়ার কয়েকযুগ পর ২০২৪ সালের ১৬ মে বৃহস্পতিবার পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় নাজিরহাট পুরাতন হালদা সেতুর। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার সেতুবন্ধন হলেও শতবর্ষী এ সেতু যান চলাচলের ধারণক্ষমতা হারিয়েছে অনেক আগে।
২০১৮ সালের দিকে  ফটিকছড়ির স্থানীয় প্রশাসন সেতুর দু’পাশে লোহার গ্লীল দিয়ে জনসাধারণ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও নিরুপায় জনগণ গ্লীল ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ নাজিরহাট পুরাতন হালদা সেতু ব্যবহার করতে থাকেন। ফলে বেড়ে যায় জীবনহানির শঙ্কা। সেতুটি অকেজো হওয়ায় নাজিরহাট বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। তবে- জনগণের দাবীর মুখে গত সরকার এ সেতুরস্থলে আরেকটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়৷ ১০ ফুট প্রস্থ এবং ৩’শ ফুট দৈর্ঘ্যের নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। জানুয়ারীতে যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য বেইলি ব্রিজটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে ব্রিজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্ড ব্রাদাস সূত্রে জানাগেছে।
নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুদ্দৌলা চৌধুরী দুলাল সবুজ বাংলাকে বলেন, আগের হালদা সেতু দিয়ে যান চলাচল দূরের কথা, মানুষ পায়ে হেটে পার হতে ভয় পেত। নতুন বেইলি ব্রিজ হওয়ায় দু’পাড়ের মানুষের মাঝে উল্লাস-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
নাজিরহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ এমরান হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, পুরাতন হালদা সেতু নড়বড়ে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালদা নদী পারাপার হত। এখনো নৌকা দিয়ে পার হচ্ছে সবাই। ব্রিজের কাজ শেষের দিকে হওয়ায় আমরা শঙ্কামুক্ত হচ্ছি।
নাজিরহাট কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মাহফুজ, রাকিব হাসান ও ফারহাদ হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, মোটর সাইকেল বা বাইসাইকেল নিয়ে কলেজে গেলে নতুন হালদা সেতু হয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এখন নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় ভোগান্তি আর দূরত্ব দুটাই কমবে।
নাজিরহাট আদর্শ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দীন চৌধুরী সবুজ বাংলাকে বলেন, এ সেতু নির্মাণের দাবী বহুদিনের। সবার প্রাণের দাবী বাস্তবায়ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং যাঁরা অবদান রেখেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন হালদা নদীর ওপর নাজিরহাটে নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজের কাজ শেষ পর্যায়ে। দ্রুত ব্রিজটি যান ও মানুষ চলাচলে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে৷
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

উদ্বোধনের দ্বারপ্রান্তে ফটিকছড়ির বেইলি ব্রিজ- “হালদার দু’পাড়ে উচ্ছ্বাস, কমবে ভোগান্তি ব্যবসায় ফিরবে প্রাণ

আপডেট সময় : ০২:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৫
১৯১৯ সালে ব্রিটিশ আমলে হালদা নদীর উপর নির্মিত নাজিরহাট হালদা সেতু। মুক্তিযুদ্ধসহ বহু কালজয়ী ইতিহাসের স্বাক্ষী সেতুটি৷ পরিত্যক্ত হওয়ার কয়েকযুগ পর ২০২৪ সালের ১৬ মে বৃহস্পতিবার পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় নাজিরহাট পুরাতন হালদা সেতুর। চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার সেতুবন্ধন হলেও শতবর্ষী এ সেতু যান চলাচলের ধারণক্ষমতা হারিয়েছে অনেক আগে।
২০১৮ সালের দিকে  ফটিকছড়ির স্থানীয় প্রশাসন সেতুর দু’পাশে লোহার গ্লীল দিয়ে জনসাধারণ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও নিরুপায় জনগণ গ্লীল ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ নাজিরহাট পুরাতন হালদা সেতু ব্যবহার করতে থাকেন। ফলে বেড়ে যায় জীবনহানির শঙ্কা। সেতুটি অকেজো হওয়ায় নাজিরহাট বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। তবে- জনগণের দাবীর মুখে গত সরকার এ সেতুরস্থলে আরেকটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়৷ ১০ ফুট প্রস্থ এবং ৩’শ ফুট দৈর্ঘ্যের নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। জানুয়ারীতে যান ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য বেইলি ব্রিজটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে ব্রিজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেলিম এন্ড ব্রাদাস সূত্রে জানাগেছে।
নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুদ্দৌলা চৌধুরী দুলাল সবুজ বাংলাকে বলেন, আগের হালদা সেতু দিয়ে যান চলাচল দূরের কথা, মানুষ পায়ে হেটে পার হতে ভয় পেত। নতুন বেইলি ব্রিজ হওয়ায় দু’পাড়ের মানুষের মাঝে উল্লাস-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
নাজিরহাট কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ এমরান হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, পুরাতন হালদা সেতু নড়বড়ে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালদা নদী পারাপার হত। এখনো নৌকা দিয়ে পার হচ্ছে সবাই। ব্রিজের কাজ শেষের দিকে হওয়ায় আমরা শঙ্কামুক্ত হচ্ছি।
নাজিরহাট কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মাহফুজ, রাকিব হাসান ও ফারহাদ হোসেন সবুজ বাংলাকে বলেন, মোটর সাইকেল বা বাইসাইকেল নিয়ে কলেজে গেলে নতুন হালদা সেতু হয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এখন নতুন বেইলি ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় ভোগান্তি আর দূরত্ব দুটাই কমবে।
নাজিরহাট আদর্শ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দীন চৌধুরী সবুজ বাংলাকে বলেন, এ সেতু নির্মাণের দাবী বহুদিনের। সবার প্রাণের দাবী বাস্তবায়ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং যাঁরা অবদান রেখেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন হালদা নদীর ওপর নাজিরহাটে নির্মাণাধীন বেইলি ব্রিজের কাজ শেষ পর্যায়ে। দ্রুত ব্রিজটি যান ও মানুষ চলাচলে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে৷