০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বদলগাছীতে গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(বিএমডিএ)খন্ডকালীন গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে লোক দেখানো মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করে বিতর্কিত ও অগ্রহনযোগ্যদের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এসবের নেপথ্যে রয়েছে সহকারী প্রকৌশলী ইন্তেখাফ ও উপ সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। আর উপজেলা বরেন্দ্র অফিস বলছে নিয়ম মেনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গভীর নলকূপের খন্ডকালীন অপারেটর নিয়োগের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
বদলগাছী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অফিস সুত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর উপজেলার ২৯০টি গভীর নলকূপের খন্ডকালীন অপারেটর নিয়োগ আহবান করে কর্তৃপক্ষ। ১৫ই নভেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক হাজার টাকা করে ৩৯৩ টি আবেদন ফরম বিক্রয় হয়। নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩৬৪ টি আবেদন অফিসে জমা হয়। দীর্ঘ এক মাস যাচাইবাছাই শেষ করে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীদের ডাকা হয়। এরপর ৩০ শে ডিসেম্বর নামের তালিকা অফিসে টাঙানো হয়।
স্থানীয়রা বলছে, অপারেটর নিয়োগ নীতিমালায় বলা হয়েছে সরকারি,বেসরকারী, চাকুরিজীবি,এসটিডব্লিউ মালিক,নলকূপ স্কীমে তার নিজস্ব ফসলি জমি থাকতে হবে এবং নারী-পুরুষ অপারেটর হলে রাতে নলকূপের ঘরে থাকতে হবে ইত্যাদি শর্ত দেওয়া হয়েছে। অথচ নীতিমালা বর্হিভূতভাবে তাদের নামই স্থান পেয়েছে। আবার যারা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণ রেখে সাধারন কৃষকদের শোষণ করে মোটাতাজা হয়েছে, তাদের নামেই আবার অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
উপজেলার সোহেল, তসলিম, সেলিম, আজাহার সহ কয়েকজন কৃষক বলেন, বরেন্দ্র অফিস লোক দেখানো একটি মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। অতি গোপনে টাকার বিনিময়ে অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে। এতে প্রকৃত কৃষক অপারেটর নিয়োগ হতে বঞ্চিত হয়েছে। তাই আমরা কয়েকজন কৃষক উপজেলা সেচ প্রকল্প সভাপতি, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও বরেন্দ্র চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অপারেটর নিয়োগ স্থগিত করে প্রকৃত কৃষকদের অপারেটর নিয়োগের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী ইন্তেখাফের সাথে কথা হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই খন্ডকালীন অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদি কোন এসটিডব্লিউ মালিক ও চাকুরিজীবির নামে অভিযোগ থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, বদলগাছী বরেন্দ্র অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সেচ প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

বদলগাছীতে গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৫
নওগাঁর বদলগাছীতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(বিএমডিএ)খন্ডকালীন গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে লোক দেখানো মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন করে বিতর্কিত ও অগ্রহনযোগ্যদের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এসবের নেপথ্যে রয়েছে সহকারী প্রকৌশলী ইন্তেখাফ ও উপ সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। আর উপজেলা বরেন্দ্র অফিস বলছে নিয়ম মেনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে গভীর নলকূপের খন্ডকালীন অপারেটর নিয়োগের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
বদলগাছী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অফিস সুত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর উপজেলার ২৯০টি গভীর নলকূপের খন্ডকালীন অপারেটর নিয়োগ আহবান করে কর্তৃপক্ষ। ১৫ই নভেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক হাজার টাকা করে ৩৯৩ টি আবেদন ফরম বিক্রয় হয়। নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩৬৪ টি আবেদন অফিসে জমা হয়। দীর্ঘ এক মাস যাচাইবাছাই শেষ করে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর মৌখিক পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীদের ডাকা হয়। এরপর ৩০ শে ডিসেম্বর নামের তালিকা অফিসে টাঙানো হয়।
স্থানীয়রা বলছে, অপারেটর নিয়োগ নীতিমালায় বলা হয়েছে সরকারি,বেসরকারী, চাকুরিজীবি,এসটিডব্লিউ মালিক,নলকূপ স্কীমে তার নিজস্ব ফসলি জমি থাকতে হবে এবং নারী-পুরুষ অপারেটর হলে রাতে নলকূপের ঘরে থাকতে হবে ইত্যাদি শর্ত দেওয়া হয়েছে। অথচ নীতিমালা বর্হিভূতভাবে তাদের নামই স্থান পেয়েছে। আবার যারা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গভীর নলকূপ নিয়ন্ত্রণ রেখে সাধারন কৃষকদের শোষণ করে মোটাতাজা হয়েছে, তাদের নামেই আবার অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
উপজেলার সোহেল, তসলিম, সেলিম, আজাহার সহ কয়েকজন কৃষক বলেন, বরেন্দ্র অফিস লোক দেখানো একটি মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। অতি গোপনে টাকার বিনিময়ে অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করে। এতে প্রকৃত কৃষক অপারেটর নিয়োগ হতে বঞ্চিত হয়েছে। তাই আমরা কয়েকজন কৃষক উপজেলা সেচ প্রকল্প সভাপতি, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও বরেন্দ্র চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অপারেটর নিয়োগ স্থগিত করে প্রকৃত কৃষকদের অপারেটর নিয়োগের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী ইন্তেখাফের সাথে কথা হলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই খন্ডকালীন অপারেটর নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদি কোন এসটিডব্লিউ মালিক ও চাকুরিজীবির নামে অভিযোগ থাকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, বদলগাছী বরেন্দ্র অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সেচ প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।