১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে বড়দিনের খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

খাগড়াছড়িতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০টি গির্জার প্রতিটির জন্য এক টন করে মোট ৫০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। টনপ্রতি খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, তবে প্রতিটি গির্জাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র  সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি খ্রিষ্টান অ্যাসোশিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহালছড়া ব্যাপিস্ট চাচের্র সভাপতি কৃষ্ণচরণ ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫০টা গির্জার জন্য বরাদ্দ এসেছে ৫০ টন। সেই হিসাবে প্রতিটি গির্জার ১ টন খাদ্য শস্য পাওয়ার কথা। যার বাজার মূল্য ন্যূনতম ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ তালিকাভূক্ত ৫০টি গির্জাকে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং তালিকাবহিভূর্ত গির্জাগুলোকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টাকা।’
তিনি বলেন, ‘পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ৫০টি গির্জার বরাদ্দ ২১১টি বণ্টন করা হবে। ২১১টি গির্জার মধ্যেও যদি সঠিকভাবে বরাদ্দ বণ্টন হতো, তাহলে প্রতিটি গির্জা ৮ হাজার টাকার ওপরে পায়, অথচ এখন পেয়েছে মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এখানে দুর্নীতি দুর্নীতি হয়েছে।’
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের টাউন ব্যাপিস্ট চার্চের সভাপতি প্রদীপ কুমার চাকমা,সেন্ট ত্রিমথী বিলিভার্স ইন্টান চার্চের সভাপতি বিমন্ত ত্রিপুরা, গাছবান এসডিও চার্চের সাধারণ সম্পাদক জেনজয় ত্রিপুরা, ইম্মানুয়েল ব্যাপিস্ট চার্চের শুভ্রদেব ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন চার্চের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, বড় দিনের বরাদ্দ বাবদ অন্যদের মতো তাঁদের গির্জার নামে ১ টন করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ পেয়েছেন, অথচ দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বড়দিনের খাদ্য শস্য বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষে যে খাদ্যশস্য বরাদ্দ এসেছে তা ন্যায্যমূল্য পায়নি। তবে যে ৫০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ এসেছে তা ২৪৩টি গির্জার মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি গির্জা পেয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, বাকি গির্জাগুলো পেয়েছে ৪ হাজার টাকা। গির্জার বাইরেও উদযাপন কমিটিগুলোকে ২ লাখ ৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য বেশি পেলে গির্জাগুলো আরও বেশি টাকা পেত।’
বড়দিনের বরাদ্দ বিতরণের যে ব্যয় দেখানো হয়েছে সেখানেও অসঙ্গতি দেখা গেছে। ২৪৩টি আবেদনে প্রকল্পভুক্ত ৫০ চার্চে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার টাকা করে। অথচ প্রত্যেক চার্চ সাড়ে ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া তালিকায় গির্জার সংখ্যা ২৯৩টি দেখানো হলেও খ্রিষ্টান অ্যাসোশিয়নের  তথ্যমতে, খাগড়াছড়িতে গির্জা রয়েছে ২১১টি। তালিকার বাইরের ৫৫ জনকে ৫৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পিয়ন, খাবার ও অফিস মাস্টার রোল বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, ‘বড়দিনের বরাদ্দপ্রাপ্ত খাদ্যশস্যের বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে তা আমি খতিয়ে দেখব।’

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

খাগড়াছড়িতে বড়দিনের খাদ্যশস্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫

খাগড়াছড়িতে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদযাপন উপলক্ষে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি খাদ্যশস্য বিতরণে বড় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০টি গির্জার প্রতিটির জন্য এক টন করে মোট ৫০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। টনপ্রতি খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, তবে প্রতিটি গির্জাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র  সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি খ্রিষ্টান অ্যাসোশিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহালছড়া ব্যাপিস্ট চাচের্র সভাপতি কৃষ্ণচরণ ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৫০টা গির্জার জন্য বরাদ্দ এসেছে ৫০ টন। সেই হিসাবে প্রতিটি গির্জার ১ টন খাদ্য শস্য পাওয়ার কথা। যার বাজার মূল্য ন্যূনতম ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ তালিকাভূক্ত ৫০টি গির্জাকে দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং তালিকাবহিভূর্ত গির্জাগুলোকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টাকা।’
তিনি বলেন, ‘পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ৫০টি গির্জার বরাদ্দ ২১১টি বণ্টন করা হবে। ২১১টি গির্জার মধ্যেও যদি সঠিকভাবে বরাদ্দ বণ্টন হতো, তাহলে প্রতিটি গির্জা ৮ হাজার টাকার ওপরে পায়, অথচ এখন পেয়েছে মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এখানে দুর্নীতি দুর্নীতি হয়েছে।’
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের টাউন ব্যাপিস্ট চার্চের সভাপতি প্রদীপ কুমার চাকমা,সেন্ট ত্রিমথী বিলিভার্স ইন্টান চার্চের সভাপতি বিমন্ত ত্রিপুরা, গাছবান এসডিও চার্চের সাধারণ সম্পাদক জেনজয় ত্রিপুরা, ইম্মানুয়েল ব্যাপিস্ট চার্চের শুভ্রদেব ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন চার্চের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, বড় দিনের বরাদ্দ বাবদ অন্যদের মতো তাঁদের গির্জার নামে ১ টন করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ পেয়েছেন, অথচ দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বড়দিনের খাদ্য শস্য বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষে যে খাদ্যশস্য বরাদ্দ এসেছে তা ন্যায্যমূল্য পায়নি। তবে যে ৫০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ এসেছে তা ২৪৩টি গির্জার মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি গির্জা পেয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, বাকি গির্জাগুলো পেয়েছে ৪ হাজার টাকা। গির্জার বাইরেও উদযাপন কমিটিগুলোকে ২ লাখ ৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যশস্যের বাজারমূল্য বেশি পেলে গির্জাগুলো আরও বেশি টাকা পেত।’
বড়দিনের বরাদ্দ বিতরণের যে ব্যয় দেখানো হয়েছে সেখানেও অসঙ্গতি দেখা গেছে। ২৪৩টি আবেদনে প্রকল্পভুক্ত ৫০ চার্চে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার টাকা করে। অথচ প্রত্যেক চার্চ সাড়ে ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া তালিকায় গির্জার সংখ্যা ২৯৩টি দেখানো হলেও খ্রিষ্টান অ্যাসোশিয়নের  তথ্যমতে, খাগড়াছড়িতে গির্জা রয়েছে ২১১টি। তালিকার বাইরের ৫৫ জনকে ৫৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পিয়ন, খাবার ও অফিস মাস্টার রোল বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা বলেন, ‘বড়দিনের বরাদ্দপ্রাপ্ত খাদ্যশস্যের বিতরণে কোনো অনিয়ম হলে তা আমি খতিয়ে দেখব।’