পিলখানায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপরাধ জেলবন্দি বিডিআরদের মুক্তি ও চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরী পুনর্বহালের ৩ দফা দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ করেছে ভুক্তভোগী বিডিআর সদস্যরা।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় শহরের দয়াময়ী মোড়ে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জামালপুর জেলা বিডিআর কল্যাণ পরিষদ।
বিডিআরের সাবেক সিপাহি মো. আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সিপাহি খোরশেদ আলম, সাবেক হাবিলদার আক্তারুজ্জামান, নায়েক আনোয়ার হোসেন, নায়েক আশরাফুজ্জামান, সাবেক সিপাহি মো. মোতালেব হোসেন, এরশাদ হোসেন, জেলা বন্দী সাবেক সিপাহি জিয়াউল হকে মেয়ে জেনিফা ইয়াসমিন জেমী প্রমুখ।
এসময় বিডিআরদের ৩ দফা দাবি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, পিলখানায় নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার ৫৭ জন সেনা অফিসারসহ ৭৪ জন হত্যাকান্ডের পেছনে দায়ী ব্যক্তিবর্গ এবং নেপথ্যের নায়কদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং যে সকল বিডিআর সদস্যর সাজার মেয়াদ শেষ ও খালাস প্রাপ্ত তাদের মুক্তি দিতে হবে। প্রহসনের ১৮টি স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে গণহারে গ্রেফতার করে যাদেরকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সবাইকে সরকারি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা যেমন: রেশন, বেতন ভাতাদি, পদোন্নতিসহ পুনরায় চাকরিতে পূনর্বহাল করতে হবপ। তদন্ত কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং নির্ভয়ে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ২ এর (ঙ) ধারা বাতিল করতে হবে। এই ৩ দফা দাবীতে আমরা মাঠে নেমেছি।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড তৎকালীন সরকারের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের একটি ঘটনা। ওই ঘটনায় আমরা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। গ্রহসনের বিচারের মাধ্যমে এখনো সহস্রাধিক নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যদেরকে জেলবন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকি ১৮ হাজারেরও বেশি বিডিআর সদস্যদেরকে জেল-জরিমানাসহ চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভুক্তভোগী আমরা বিডিআর সদস্যরা ও পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে সমাজে অবহেলা, অবজ্ঞা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বসবাস করছি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমরা মজলুম। আমাদের প্রতি অন্যায় এবং অবিচার করা হয়েছে। হাজার হাজার বিডিআর সদস্য ও তার পরিবারগুলোকে মানবেতর জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বক্তারা নিরপরাধ জেলবন্দি বিডিআরদের দ্রুত মুক্তি ও চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।




















