০১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধান শিক্ষকের চেয়ার নিয়ে দ্বন্দ্ব, বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা

ASAD_ZAMAN

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালামের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষার মান বজায় রেখে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে । প্রতিবছর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে, যা বিদ্যালয়ের অব্যাহত সফলতার ইঙ্গিত। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হলে, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটি প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলে, আবুল কালাম নিজেকে প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সময় জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমকে নিয়োগ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া দুইবার বাতিল হওয়ার পর সম্প্রতি আবুল কালাম আবারও পদাধিকারবলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চেয়ারে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর ফলে, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। চেয়ারে বসার জন্য আবুল কালাম সম্প্রতি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন মোঃ আবুল কালাম আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সময় আবুল কালাম স্যার প্রার্থী হয়। তখন সহকারি শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম স্যারকে দায়িত্ব দিলে তিনি আর এখন তার দায়িত্ব ছাড়তে চাচ্ছে না।এ নিয়ে এখন স্কুলে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহিদুর রহমান বলেন, মো. আবুল কালাম বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম অযথা নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি করে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। যেটা সম্পূর্ণ পরিপত্রের বাইরে। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকতে সহকারী শিক্ষকের অধীনে চাকরি করা যায় না।
অভিভাবক টিএস শাহীন জানান, বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের অন্তদ্বন্দ্বের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে এই বিদ্যালয় থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে স্কুলে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরুক।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম বলেন, পরিপত্র অনুসারে আব্দুর রহিম নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব। তিনি কখনই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না। তার কমিটির মেয়াদ গত বছরের নভেম্বর মাসের ২১ তারিখে শেষ হয়েছে । নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মেয়াদও শেষ হয় ডিসেম্বরের ৬ তারিখে। এখন  জানুয়ারি মাস ওনি কোন আইনবলে এখনো প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে বসে আছেন। পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা আছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিন থেকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল বলে গণ্য হবে। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল হয় তাহলে ওনি ঐপদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।
এদিকে, বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে এই চেয়ার বসানো হয়েছিল। যেহেতু সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম নিজেই এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী ছিলেন তাই ওই সময় আমাকে জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমার এই চেয়ারে বসার যোগ্যতা নেই কারণ আমি সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে আছি। যেহেতু আমাকে কমিটির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাই আমি এককভাবে এই দায়িত্ব থেকে সরে যেতে পারিনা। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক কমিটি, ইউএনও, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, ‘এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয় থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনকানুন যাচাইবাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

প্রধান শিক্ষকের চেয়ার নিয়ে দ্বন্দ্ব, বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা

আপডেট সময় : ০২:৪২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৫
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালামের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
শাকরাইল উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষার মান বজায় রেখে সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে । প্রতিবছর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও অন্যান্য পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে, যা বিদ্যালয়ের অব্যাহত সফলতার ইঙ্গিত। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হলে, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ম্যানেজিং কমিটি প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করলে, আবুল কালাম নিজেকে প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সময় জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমকে নিয়োগ কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া দুইবার বাতিল হওয়ার পর সম্প্রতি আবুল কালাম আবারও পদাধিকারবলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চেয়ারে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর ফলে, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। চেয়ারে বসার জন্য আবুল কালাম সম্প্রতি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন মোঃ আবুল কালাম আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সময় আবুল কালাম স্যার প্রার্থী হয়। তখন সহকারি শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম স্যারকে দায়িত্ব দিলে তিনি আর এখন তার দায়িত্ব ছাড়তে চাচ্ছে না।এ নিয়ে এখন স্কুলে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মহিদুর রহমান বলেন, মো. আবুল কালাম বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও পদাধিকার বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। কিন্তু এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম অযথা নিজেকে প্রধান শিক্ষক দাবি করে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। যেটা সম্পূর্ণ পরিপত্রের বাইরে। একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকতে সহকারী শিক্ষকের অধীনে চাকরি করা যায় না।
অভিভাবক টিএস শাহীন জানান, বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের অন্তদ্বন্দ্বের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে এই বিদ্যালয় থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে স্কুলে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরুক।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম বলেন, পরিপত্র অনুসারে আব্দুর রহিম নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব। তিনি কখনই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না। তার কমিটির মেয়াদ গত বছরের নভেম্বর মাসের ২১ তারিখে শেষ হয়েছে । নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মেয়াদও শেষ হয় ডিসেম্বরের ৬ তারিখে। এখন  জানুয়ারি মাস ওনি কোন আইনবলে এখনো প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে বসে আছেন। পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা আছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিন থেকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল বলে গণ্য হবে। যদি নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল হয় তাহলে ওনি ঐপদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।
এদিকে, বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে এই চেয়ার বসানো হয়েছিল। যেহেতু সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম নিজেই এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী ছিলেন তাই ওই সময় আমাকে জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমার এই চেয়ারে বসার যোগ্যতা নেই কারণ আমি সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে আছি। যেহেতু আমাকে কমিটির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাই আমি এককভাবে এই দায়িত্ব থেকে সরে যেতে পারিনা। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক কমিটি, ইউএনও, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, ‘এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয় থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনকানুন যাচাইবাছাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’