খুলনার চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শহীদুল ইসলাম ওরফে হুজি শহীদের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তার ভাতিজা শেখ শাহরিয়ার ইসলাম পাপ্পুর নেতৃত্বেই এক সংঘবদ্ধ চক্র কৌশলে কক্সবাজার এনে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপুকে হত্যা করা হয়।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, গোপন তথ্যে পুলিশ জানতে পারে টিপু হত্যায় জড়িত নারীসহ কয়েকজন আসামি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার থেকে জেলা পুলিশের একটি দল মৌলভীবাজারে অবস্থান করে অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে সোমবার মধ্যরাতে মৌলভীবাজার থেকে সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপুর সাথে কক্সবাজার ঘুরতে আসা সেই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার তিনজন হলেন, খুলনার দেওয়ান মোল্লাপাড়ার মো. সেলিম আকন্দ এর কন্যা ঋতু (২৪), একই এলাকার জামাল শেখ এর পুত্র শেখ শাহরিয়ার ইসলাম পাপ্পু (২৭) ও মধ্য কারিগর পাড়ার মো. হায়দার সরদার অদুদের পুত্র গোলাম রসুল (২৫)।
পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ আরো বলেন, চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি খুলনার নেতা ছিলেন হুজি শহীদুল। ২০১৩ সালে যাকে হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন কাউন্সিলর টিপু এবং এ হত্যা মামলায় ৪ আসামীর মধ্যে আরো এক আসামীকে একই ভাবে ২০২২ সালে হত্যা করা হয়। আর হুজি শহীদের ভাতিজা হলেন পুলিশের হাতে আটক শেখ শাহরিয়ার পাপ্পু। যেখান থেকে শত্রুতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। পাপ্পু নিজে খুন করেন টিপুকে।
হত্যার মিশন সম্পর্কে শাহরিয়ার ইসলাম পাপ্পু পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানান, গোলাম রাব্বানীকে টিপুকে হত্যা করার জন্য দীর্ঘদিন আগে পরিকল্পনা করেছেন পাপ্পু। এর অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত নারী ঋতুকে টোপ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করে।
ঋতুর স্বামী ক্রসফায়ারে মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে গোলাম রাব্বানীর টিপুর সাথে ঋতুর সখ্যতা গড়ে উঠে। এই সুযোগটি গ্রহণ করে হুজি শহীদের ভাতিজা শাহরিয়ার ইসলাম পাপ্পু। পূর্ব পরিকল্পনা মতো গোলাম রাব্বানী টিপুর অবস্থান কক্সবাজারে নিশ্চিত হয়ে তার সাথে সময় কাটাতে কক্সবাজারে আসার প্রস্তাব দেন ঋতু। সে মতে, ৭ জানুুয়ারি খুলনা থেকে ইমপেরিয়াল বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয় পাপ্পু, তার বন্ধু গোলাম রসুল ও ঋতু। কক্সবাজারে পৌঁছে গোলাম রাব্বানি টিপুর সাথে যোগ দেন ঋতু। পাপ্পু ও গোলাম রসুল ওৎ পেতে থাকে। টিপুর সাথে আগে থেকেই ছিলেন ১৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান ইফতেখার ওরফে চালু।
হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বাকারোক্তিতে পাপ্পু জানান, ঋতুর কাছ থেকে গোলাম রাব্বানির টিপুর অবস্থান সম্পর্কে সার্বক্ষণিক তথ্য নেন তারা দুই বন্ধু। ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর সৈকতের সুগন্ধা এলাকার হোটেল সী-গালের সামনে গোলাম রাব্বানি অবস্থান নিলে ঋতুর দেয়া তথ্য মতো সেখানে যান পাপ্পু ও তার বন্ধু গোলাম রসুল। সী-গালের সামনে ফুটপাতে হাঁটা অবস্থায় টিপুকে মাথায় গুলি করেন পাপ্পুই। তারা মোটরসাইকেলে করে গিয়ে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই তিন জনই হত্যার সময় কক্সবাজার অবস্থান করেছেন। সাথে থাকা নারী, কাউন্সিলর টিপুর গতিবিধি জানিয়েছেন খুনে জড়িত পাপ্পুকে। সহযোগী গোলাম রসুলসহ পাপ্পু উঠেছিলেন কক্সবাজার শহরের কক্স কুইন রিসোর্টে। খুনের পর তারা ব্যবহৃত অস্ত্রটি ওই রিসোর্টের ২০৮ নং কক্ষের চিলেকোঠায় রেখে পালিয়ে যান। পরে অস্ত্রটি পুলিশ উদ্ধার করে। অস্ত্রের যোগানদাতা কে বা কারা তাও তদন্ত করছে পুলিশ। এছাড়া এঘটনার পরপর আটক হয়ে কারাগারে থাকা খুলনার আরেক সাবেক কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখার চালুর কক্সবাজারে আসার কারন ও কক্সবাজারে টিপুর বন্ধু মেজবাহ উদ্দিন ভুট্টোর বিষয়েও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




















