০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুর বিভাগে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ

সয়াবিনসহ ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে রংপুরের
কৃষক। চলতি মৌসুমে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। সরিষা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ও
মৌমাছির গুঞ্জনে প্রকৃতি যেন নতুন জীবনের বার্তা দিচ্ছে। রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম,
লালমনিরহাট, গাইবান্ধার, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর সরিষার
বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর বন্যার পর রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, করতোয়াসহ
বিভিন্ন নদীর চরের কৃষকরা সরিষা চাষ করেন। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
(বিনা) সুত্রে জানা যায়, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়সহ রংপুর বিভাগের আট
জেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টও জমিতে ১.৬ মেট্রিক টন
সরিষা ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরিষা চাষ ফেব্রুয়ারি মাসের
মাঝামাঝি সময়ে ফসল ঘরে তোলার মাধ্যমে শেষ হবে। লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় সরিষার
ব্যাপক চাষ হয়েছে। আমন ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে সরিষা চাষ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ
না হলে চলতি বছর সরিষার বা¤পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা। সরিষার ক্ষেতের সৌন্দর্যের পাশাপাশি
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধু চাষ। রংপুর বিভাগে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২ হাজার মৌমাছির বক্স
স্থাপন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার কেজি।
প্রতি কেজি মধু ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হলে আয় হবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। এছাড়া আম ও লিচু
বাগানে মৌমাছির বক্স স্থাপন করে অতিরিক্ত ৯ হাজার কেজি মধু উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। কৃষি
বিভাগ সুত্রে জানা যায়, সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির উপস্থিতি ফলন ৩-৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার মতিউর রহমান বলেন,সরিষা চাষে ব্যয় কম এবং লাভ বেশি। একবার
সার ও দুবার পানি দিলেই সরিষা ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমি চাষেখরচ হয় মাত্র ৩ হাজার
থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.
মো.সাইখুল আরিফিন বলেন, কৃষককে একের অধিক ফসল ফলানোর জন্য নানাভাবে প্রশিক্ষণ করানো
হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। প্রাকৃতিক কোন
বিপর্যয় না ঘটলে চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে সরিষার বা¤পার ফলন হবে। বাংলাদেশ পরমাণু
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডক্টর মোহাম্মদ আলী বলেন, রংপুর
বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা চাষ হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৮
জেলায় ৫৮ উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে বীজ, সার ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

রংপুর বিভাগে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ

আপডেট সময় : ০১:০৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

সয়াবিনসহ ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে রংপুরের
কৃষক। চলতি মৌসুমে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে মাঠের পর মাঠ। সরিষা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ও
মৌমাছির গুঞ্জনে প্রকৃতি যেন নতুন জীবনের বার্তা দিচ্ছে। রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম,
লালমনিরহাট, গাইবান্ধার, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর সরিষার
বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর বন্যার পর রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, করতোয়াসহ
বিভিন্ন নদীর চরের কৃষকরা সরিষা চাষ করেন। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
(বিনা) সুত্রে জানা যায়, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়সহ রংপুর বিভাগের আট
জেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টও জমিতে ১.৬ মেট্রিক টন
সরিষা ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরিষা চাষ ফেব্রুয়ারি মাসের
মাঝামাঝি সময়ে ফসল ঘরে তোলার মাধ্যমে শেষ হবে। লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় সরিষার
ব্যাপক চাষ হয়েছে। আমন ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে সরিষা চাষ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ
না হলে চলতি বছর সরিষার বা¤পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা। সরিষার ক্ষেতের সৌন্দর্যের পাশাপাশি
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধু চাষ। রংপুর বিভাগে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২ হাজার মৌমাছির বক্স
স্থাপন করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার কেজি।
প্রতি কেজি মধু ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হলে আয় হবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। এছাড়া আম ও লিচু
বাগানে মৌমাছির বক্স স্থাপন করে অতিরিক্ত ৯ হাজার কেজি মধু উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। কৃষি
বিভাগ সুত্রে জানা যায়, সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির উপস্থিতি ফলন ৩-৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার মতিউর রহমান বলেন,সরিষা চাষে ব্যয় কম এবং লাভ বেশি। একবার
সার ও দুবার পানি দিলেই সরিষা ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমি চাষেখরচ হয় মাত্র ৩ হাজার
থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.
মো.সাইখুল আরিফিন বলেন, কৃষককে একের অধিক ফসল ফলানোর জন্য নানাভাবে প্রশিক্ষণ করানো
হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। প্রাকৃতিক কোন
বিপর্যয় না ঘটলে চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে সরিষার বা¤পার ফলন হবে। বাংলাদেশ পরমাণু
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) রংপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডক্টর মোহাম্মদ আলী বলেন, রংপুর
বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা চাষ হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৮
জেলায় ৫৮ উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে বীজ, সার ও উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।