চকরিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় ঘাতক স্বামী শওকত হাসান মেহেদী বান্দরবানে আটক করেছে লামা থানা পুলিশ।
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা থানাধীন কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই জামিল আহমেদ এর নেতৃত্বে ঘাতক মেহেদী হাসানকে ঘটনার ৮ ঘণ্টার মধ্যে লামা উপজেলার ০৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা কাঁঠালছড়া থেকে রাত সাড়ে ৮টায় আটক করা হয়। চকরিয়া পৌরসভার ভাঙ্গারমুখ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঢুকে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাত করেছে স্বামী মেহেদী। ঘটনাস্থলে নিহত হন স্ত্রী।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) জুমার নামাজ চলাকালে দুপুর দেড়টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড মজিদিয়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত উম্মে হাফসা তুহি (১৮) ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আবদুল হামিদের মেয়ে এবং আহত পারভীন আক্তার (৩৮) তার স্ত্রী। ঘাতক শওকত হাসান মেহেদী (২৪) উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আজম উল্লাহপাড়ার আবুল হাশেমের ছেলে। সে পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।
ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক আবদুল হামিদ বলেন, ৮ মাস আগে আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মেহেদী। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর জেরে আমার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করত। গত ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ মেয়ে তুহি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমাকে খবর দিলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি। গত বৃহস্পতিবার স্বামী মেহেদী আমার বাড়িতে আসে। গতকাল সকালে তুহিকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে আমার স্ত্রীসহ আমি বাধা দিই। আত্মীয়স্বজন নিয়ে এলে যেতে দেব বলার পর মেহেদী চলে যায়।
পরে জুমার নামাজ চলাকালীন দুপুর দেড়টার দিকে মেহেদী অতর্কিত এসে তুহি ও তার মাকে উপর্যুপরী ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে জুমার নামাজ শেষে এসে তাদের আহত অবস্থায় দেখে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুহিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই নিহত উম্মে হাফসা তুহি আর ঘাতক মেহেদীর একটি কাপল ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত ছবি দেখে ঘাতক মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে ক্যাম্পের অফিসার ইনচার্জ জামিল আহমেদ বলেন, আসামি’কে লামা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।




















