০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার ১২ কারা পরিদর্শকের ৮ জনই বিএনপির নেতা কর্মী

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বেসরকারি কারা পরিদর্শক পদ এবারও ভরেছে দলীয় লোকে। নিয়োগ পাওয়া ১২
জন কারা পরিদর্শকের মধ্যে ১০ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এর মধ্যে আছেন একসময়ে
কারাগারে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারও। বাকিদের একজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক,
অন্যজন সমাজকর্মী।
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে এই পদে ছিলেন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও তাদের সমমনা লোকজন। তারা বন্দী-বাণিজ্য, কারাগারে দলীয় নেতাকর্মীদের
বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, কারাভ্যন্তরে মাদক সরবরাহসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত
ছিলেন।
গতবছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আগের পরিদর্শকরা গা-ঢাকা দেন। এরপরই এসব শূন্য পদে
নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়। অলাভজনক এই পদে বসতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এবং অনান্য
রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, ব্যবসায়ী, সমন্বয়ক ও মানবাধিকারকর্মী
পরিচয়ে শতাধিক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ১২ জন কারাপরিদর্শক নিয়োগ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড.
মো. জিয়াউদ্দীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়া বেসরকারি কারা পরিদর্শক জোবাইরুল আলম মানিক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ভিপি নুরের গণঅধিকার
পরিষদের দক্ষিণ জেলার দায়িত্বেও ছিলেন একসময়। তবে তার বর্তমান রাজনৈতিক পদ-পরিচয় জানা সম্ভব
হয়নি।
এছাড়া মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তৌহিদ যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য,
মোজাম্মেল হক দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন যুবদলের
বিলুপ্ত হওয়া নগর কমিটির সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, আতাউল্লাহ সম্রাট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের
সাবেক সদস্য, মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি, জাফর আহম্মদ চট্টগ্রাম
নগর বিএনপির সদস্য, উজ্জল বরণ বিশ্বাস হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলার সাধারণ
সম্পাদক এবং কামরুন নাহার লিজা নগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ও নগর মহিলা দলের সাবেক যুগ্ম
সম্পাদক মোহাম্মৎ সুলতানা বেগম।
সৈয়দ আবুল বশর কোতোয়ালী থানার বদরপাতি সড়কের বদরপাতি যুব গোষ্ঠি নামে একটি সংগঠন এবং
মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।
কারাগার সূত্র বলছে, কারাগারে বন্দীদের দেখভালের জন্য দুই বছর পর পর ১২ জনকে এ দায়িত্ব দেন বিভাগীয়
কমিশনার। তার কাছে নামপ্রস্তাব সুপারিশ করেন জেলা প্রশাসক। সমাজের ভদ্র, গণ্যমান্য, শিক্ষিত ও
মানুষের কল্যাণে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরাই কারা পরিদর্শক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
বিএনপি সরকার আমলে কারাগারে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার ছিলেন নগর যুবদলের বিলুপ্ত হওয়া নগর
কমিটির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। ২০ বছর পর বেসরকারি
কারাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেলেন তিনি।
কারাগারের খাদ্য সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ২০ বছর আগে আমি
দরপত্রে নিয়ম অনুযায়ী অংশ নিয়ে কারাগারের ভেতরে খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারির দায়িত্বে ছিলাম।’

কারাভ্যন্তরে বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে কারাগারের পরিবেশ, খাবারের মান পরীক্ষা, মাদক সমস্যা, অসুস্থতায়
বন্দীদের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে কি না, শাস্তির অপপ্রয়োগ হচ্ছে কি না, কোনো বন্দী মিথ্যা মামলায়
আটক আছে কি না, বিনামূল্যে সরকারি খরচে অসহায় বন্দীদের মামলা চালানোর পদ্ধতি সম্পর্কে
জানানো, কারাগারের ব্যবস্থাপনার খোঁজ নেয়াসহ বন্দীদের কল্যাণে কাজের দায়িত্ব থাকে বেসরকারি কারা
পরিদর্শকদের।
আওয়ামী লীগের আমলে বেসরকারি কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেতেন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,
যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তি ও তাদের সমমনা লোকজন। তারা বন্দী-বাণিজ্য,
কারাগারে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, কারাভ্যন্তরে মাদক সরবরাহ সহ
নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
কারা পরিদর্শক হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তবে এদের মধ্যে
অনেকেই জানেন না কারা পরিদর্শকের কাজ বা দায়িত্ব কী। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ‘রাজনৈতিক
বিবেচনায়’ নিয়োগপ্রাপ্তরা বন্দীদের অধিকার রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পাওয়া নগর মহিলা দলের যুগ্ম
সম্পাদক কামরুন নাহার লিজা বলেন, ‘আমার সাথে আরও ১১ জন নিয়োগ পেয়েছেন। আমরা সবাই
বসবো, এরপর কি করতে হবে না করতে হবে আলোচনা করবো। আমি আগে এই পদে তো কখনো ছিলাম
না ভাই, তাই অভিজ্ঞতা নেই। তবে সামাজিক কাজকর্ম করেছি। নিশ্চয়ই ভালো কিছু করবো।’
কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পাওয়া নগর যুবদলের বিলুপ্ত হওয়া নগর কমিটির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক
সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ‘দায়িত্ব এবং কর্তব্য এখনো জানেন না’ জানিয়ে বলেন, ‘আসলে
এ বিষয়ে আমার পূর্বের অভিজ্ঞতা নেই। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমার উদ্দেশ্য আছে—স্বচ্ছতা,
জবাবদিহিতা এবং সততার মাধ্যমে আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য
সম্বন্ধে আমি আগে ভালো করে জেনে নিই।’
যদিও খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারির বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ্#৩৯;কারাগারের ভেতরে খাদ্য
সরবরাহের ঠিকাদারির দিক দিয়ে আবার আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
তবে চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক জোবাইরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমি এটিকে একটি চ্যালেঞ্জ
হিসেবে নিব। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে কারাগারে যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিরীহ
আছেন। তাদের জন্য কাজ করবো। এছাড়া কারাগারের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবো। এছাড়া
গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিগত সময়ে যে যে অভিযোগ ছিল তা জেনে সেসকল অভিযোগ নিরসনে
কাজ করবো।’
অতীতে কারা পরিদর্শক হয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বদলে দুনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কথা স্মরণ
করিয়ে দিয়ে পরিবর্তন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা
সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী।
তিনি বলেন, ্#৩৯;কারা পরিদর্শক পদে দলীয় নিয়োগ আমরা আগেও দেখেছি। এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি,
শুধু চেহারা ছাড়া। নিয়মতান্ত্রিক যে পরিবর্তন দরকার তা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আমরা।’
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের দল আর নিজেদের সুনামের জন্য ভালো কিছু করার আহ্ববান জানিয়ে তিনি আরো
বলেন, ‘কারাগার কিন্তু শুধু বন্দীখানা নয়, এটি বন্দীদের সংশোধনাগার। আমরা আগেও দেখেছি দলীয়
পরিচয়ে কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা কারা কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রতিরোধের বদলে নিজেরাই দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়েছে। আমরা আশাবাদী এবার যারা নিয়োগ
পেয়েছেন তারা নিজের এবং দলের সুনামের জন্য ভালো কিছু করবেন।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ধসঢ়; ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আইনজীবী এ এম জিয়া হাবিব আহসান বলেন,
‘কারা পরিদর্শক এখন পলিটিক্যাল পদ হয়ে গেছে। কারাগার, মানবাধিকার এবং কারাবন্দীদের নিয়ে যারা
কাজ করে যাদের পরিকল্পনা আছে; তাদের কাউকে রাখা হয়নি। আমি মনে করেছিলাম বৈষম্যবিরোধী সরকার

একজন মানবাধিকারকর্মী অথবা একজন সাংবাদিককে ওখানে রাখবেন। যেন আমরা তথ্য এবং সমস্যা
জানতে পারি। সমাধানের পথ খুঁজতে পারি। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিষয়। নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাইলে
এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কারাগারে অনেকসময় অপ্রাপ্তয়স্ক শিশুকে বয়স বাড়িয়ে দিয়ে
সাধারণ আসামিদের সাথে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এটি যার অভিজ্ঞতা নেই সে বুঝবে না। কোন
কারাবন্দী লিগ্যাল এইড পাচ্ছেন না এটিও তিনি বুঝবেন না। এই জাতির কপাল থেকে রাজনৈতিক
মতান্ধ দূর হবে বলে মনে হয় না।’
পরিদর্শক নিয়োগের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘বেসরকারি
কারা পরিদর্শক পদে কারা থাকবেন এটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করে দেন। আমি শুধু অনুমোদন
দিয়েছি। কারা কীভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তা উনিই ভালো বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া
দেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার ১২ কারা পরিদর্শকের ৮ জনই বিএনপির নেতা কর্মী

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বেসরকারি কারা পরিদর্শক পদ এবারও ভরেছে দলীয় লোকে। নিয়োগ পাওয়া ১২
জন কারা পরিদর্শকের মধ্যে ১০ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এর মধ্যে আছেন একসময়ে
কারাগারে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারও। বাকিদের একজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক,
অন্যজন সমাজকর্মী।
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে এই পদে ছিলেন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও তাদের সমমনা লোকজন। তারা বন্দী-বাণিজ্য, কারাগারে দলীয় নেতাকর্মীদের
বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, কারাভ্যন্তরে মাদক সরবরাহসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত
ছিলেন।
গতবছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আগের পরিদর্শকরা গা-ঢাকা দেন। এরপরই এসব শূন্য পদে
নিয়োগের তোড়জোড় শুরু হয়। অলাভজনক এই পদে বসতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এবং অনান্য
রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, ব্যবসায়ী, সমন্বয়ক ও মানবাধিকারকর্মী
পরিচয়ে শতাধিক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ১২ জন কারাপরিদর্শক নিয়োগ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড.
মো. জিয়াউদ্দীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ পাওয়া বেসরকারি কারা পরিদর্শক জোবাইরুল আলম মানিক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ভিপি নুরের গণঅধিকার
পরিষদের দক্ষিণ জেলার দায়িত্বেও ছিলেন একসময়। তবে তার বর্তমান রাজনৈতিক পদ-পরিচয় জানা সম্ভব
হয়নি।
এছাড়া মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তৌহিদ যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য,
মোজাম্মেল হক দক্ষিণ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন যুবদলের
বিলুপ্ত হওয়া নগর কমিটির সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, আতাউল্লাহ সম্রাট কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের
সাবেক সদস্য, মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি, জাফর আহম্মদ চট্টগ্রাম
নগর বিএনপির সদস্য, উজ্জল বরণ বিশ্বাস হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলার সাধারণ
সম্পাদক এবং কামরুন নাহার লিজা নগর মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ও নগর মহিলা দলের সাবেক যুগ্ম
সম্পাদক মোহাম্মৎ সুলতানা বেগম।
সৈয়দ আবুল বশর কোতোয়ালী থানার বদরপাতি সড়কের বদরপাতি যুব গোষ্ঠি নামে একটি সংগঠন এবং
মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান।
কারাগার সূত্র বলছে, কারাগারে বন্দীদের দেখভালের জন্য দুই বছর পর পর ১২ জনকে এ দায়িত্ব দেন বিভাগীয়
কমিশনার। তার কাছে নামপ্রস্তাব সুপারিশ করেন জেলা প্রশাসক। সমাজের ভদ্র, গণ্যমান্য, শিক্ষিত ও
মানুষের কল্যাণে কাজ করেন এমন ব্যক্তিরাই কারা পরিদর্শক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
বিএনপি সরকার আমলে কারাগারে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার ছিলেন নগর যুবদলের বিলুপ্ত হওয়া নগর
কমিটির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। ২০ বছর পর বেসরকারি
কারাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেলেন তিনি।
কারাগারের খাদ্য সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ২০ বছর আগে আমি
দরপত্রে নিয়ম অনুযায়ী অংশ নিয়ে কারাগারের ভেতরে খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারির দায়িত্বে ছিলাম।’

কারাভ্যন্তরে বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে কারাগারের পরিবেশ, খাবারের মান পরীক্ষা, মাদক সমস্যা, অসুস্থতায়
বন্দীদের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে কি না, শাস্তির অপপ্রয়োগ হচ্ছে কি না, কোনো বন্দী মিথ্যা মামলায়
আটক আছে কি না, বিনামূল্যে সরকারি খরচে অসহায় বন্দীদের মামলা চালানোর পদ্ধতি সম্পর্কে
জানানো, কারাগারের ব্যবস্থাপনার খোঁজ নেয়াসহ বন্দীদের কল্যাণে কাজের দায়িত্ব থাকে বেসরকারি কারা
পরিদর্শকদের।
আওয়ামী লীগের আমলে বেসরকারি কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেতেন ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,
যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তি ও তাদের সমমনা লোকজন। তারা বন্দী-বাণিজ্য,
কারাগারে দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, কারাভ্যন্তরে মাদক সরবরাহ সহ
নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
কারা পরিদর্শক হিসেবে নতুন নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তবে এদের মধ্যে
অনেকেই জানেন না কারা পরিদর্শকের কাজ বা দায়িত্ব কী। তাই প্রশ্ন উঠেছে, ‘রাজনৈতিক
বিবেচনায়’ নিয়োগপ্রাপ্তরা বন্দীদের অধিকার রক্ষায় কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পাওয়া নগর মহিলা দলের যুগ্ম
সম্পাদক কামরুন নাহার লিজা বলেন, ‘আমার সাথে আরও ১১ জন নিয়োগ পেয়েছেন। আমরা সবাই
বসবো, এরপর কি করতে হবে না করতে হবে আলোচনা করবো। আমি আগে এই পদে তো কখনো ছিলাম
না ভাই, তাই অভিজ্ঞতা নেই। তবে সামাজিক কাজকর্ম করেছি। নিশ্চয়ই ভালো কিছু করবো।’
কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পাওয়া নগর যুবদলের বিলুপ্ত হওয়া নগর কমিটির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক
সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ‘দায়িত্ব এবং কর্তব্য এখনো জানেন না’ জানিয়ে বলেন, ‘আসলে
এ বিষয়ে আমার পূর্বের অভিজ্ঞতা নেই। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমার উদ্দেশ্য আছে—স্বচ্ছতা,
জবাবদিহিতা এবং সততার মাধ্যমে আমি আমার দায়িত্ব পালন করবো। আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য
সম্বন্ধে আমি আগে ভালো করে জেনে নিই।’
যদিও খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদারির বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ্#৩৯;কারাগারের ভেতরে খাদ্য
সরবরাহের ঠিকাদারির দিক দিয়ে আবার আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে।’
তবে চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক জোবাইরুল ইসলাম মানিক বলেন, ‘আমি এটিকে একটি চ্যালেঞ্জ
হিসেবে নিব। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে কারাগারে যারা আছেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিরীহ
আছেন। তাদের জন্য কাজ করবো। এছাড়া কারাগারের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করবো। এছাড়া
গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিগত সময়ে যে যে অভিযোগ ছিল তা জেনে সেসকল অভিযোগ নিরসনে
কাজ করবো।’
অতীতে কারা পরিদর্শক হয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বদলে দুনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কথা স্মরণ
করিয়ে দিয়ে পরিবর্তন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা
সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী।
তিনি বলেন, ্#৩৯;কারা পরিদর্শক পদে দলীয় নিয়োগ আমরা আগেও দেখেছি। এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি,
শুধু চেহারা ছাড়া। নিয়মতান্ত্রিক যে পরিবর্তন দরকার তা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আমরা।’
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের দল আর নিজেদের সুনামের জন্য ভালো কিছু করার আহ্ববান জানিয়ে তিনি আরো
বলেন, ‘কারাগার কিন্তু শুধু বন্দীখানা নয়, এটি বন্দীদের সংশোধনাগার। আমরা আগেও দেখেছি দলীয়
পরিচয়ে কারা পরিদর্শক পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা কারা কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রতিরোধের বদলে নিজেরাই দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়েছে। আমরা আশাবাদী এবার যারা নিয়োগ
পেয়েছেন তারা নিজের এবং দলের সুনামের জন্য ভালো কিছু করবেন।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ধসঢ়; ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আইনজীবী এ এম জিয়া হাবিব আহসান বলেন,
‘কারা পরিদর্শক এখন পলিটিক্যাল পদ হয়ে গেছে। কারাগার, মানবাধিকার এবং কারাবন্দীদের নিয়ে যারা
কাজ করে যাদের পরিকল্পনা আছে; তাদের কাউকে রাখা হয়নি। আমি মনে করেছিলাম বৈষম্যবিরোধী সরকার

একজন মানবাধিকারকর্মী অথবা একজন সাংবাদিককে ওখানে রাখবেন। যেন আমরা তথ্য এবং সমস্যা
জানতে পারি। সমাধানের পথ খুঁজতে পারি। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিষয়। নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাইলে
এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’
অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কারাগারে অনেকসময় অপ্রাপ্তয়স্ক শিশুকে বয়স বাড়িয়ে দিয়ে
সাধারণ আসামিদের সাথে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এটি যার অভিজ্ঞতা নেই সে বুঝবে না। কোন
কারাবন্দী লিগ্যাল এইড পাচ্ছেন না এটিও তিনি বুঝবেন না। এই জাতির কপাল থেকে রাজনৈতিক
মতান্ধ দূর হবে বলে মনে হয় না।’
পরিদর্শক নিয়োগের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘বেসরকারি
কারা পরিদর্শক পদে কারা থাকবেন এটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করে দেন। আমি শুধু অনুমোদন
দিয়েছি। কারা কীভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তা উনিই ভালো বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমকে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া
দেননি।