ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চুরি-ডাকাতি বেড়েছে বলে একধরনের গুজব-অপপ্রচার চলছে বলে জানিয়েছেন নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদ আহমেদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত হিসেবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই একটি চক্র দেশের পরিস্থিতিকে অশান্ত করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ নামে-বেনামে নানা ফেসবুক আইডির মাধ্যমে নান্দাইলে চুরি-ডাকাতি ও মারামারি-হানাহানি বেড়েছে বলে প্রচার করে যাচ্ছেন। এমন অসংখ্য অভিযোগ নান্দাইল থানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে, যা নিয়ে একাধিক টিম কাজ করছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।
নান্দাইল নতুন বাজার এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নান্দাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য কোন সময়ের তুলনায় এখন ভালো আছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই সরকারের সময়ে চুরি-ডাকাতি বেড়েছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা চায় তাদের সরকারকে আবার ফিরিয়ে আনতে। এজন্য একধরনের একটা ক্যাম্পেইনে আমরা দেখছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এবিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
মানিক মিয়া নামক চন্ডিপাশা এলাকার এক বাসিন্দা চুরি-ডাকাতির বেড়েছে _এমন প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুরি-ডাকাতি বাড়েনি বরং কমেছে। যারা বলছে বেড়েছে, কোথায় বেড়েছে এটা একমাত্র তারাই বলতে পারবে। আমরা আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। যারাই এধরণের গুজব চালাবে, আমরা তাদের ধরে পুলিশের হাতে দিব।
এসব প্রসঙ্গে নান্দাইল থানার ওসি ফরিদ আহমেদ বলেন, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া-অসত্য তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এরকম একাধিক তথ্য আমলে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। তারমানে কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
তিনি বলেন, যেসব ফেসবুক আইডি থেকে এসব ভুয়া ও অসত্য তথ্য প্রকাশ-প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করে যারা এইসব আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অসত্য মানহানিকর তথ্য প্রচার করতেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ইনশাআল্লাহ। এসবের পিছনে যারাই জড়িত আছে কিংবা আগামীতে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ আহমেদ গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছে। এমনকি এই অল্প সময়েই নান্দাইলে মাদক উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় জেলার শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার পেয়েছেন ওসি ফরিদ আহমেদ। ইতিমধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।




















