০১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবীতে ইবিতে মানববন্ধন

পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব না দেয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে পর্দানশীন নারীদের ১৬ বছর যাবত নাগরিকত্ব না দেয়ার প্রতিবাদে এবং জড়িত স্বৈরাচারদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দানশীন নারী শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে এই কর্মসূচী পালন করে তারা। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা মানবতাবিরোধী অপরাধ; কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মুখচ্ছবি দেখে পরিচয় যাচাই মূর্খতার লক্ষণ; ছিঃ ইসি ছিঃ শুধুমাত্র পর্দা করার কারণে আমার নাগরিকত্ব কেড়ে নিলে? আমার চেহারা আমি দেখাবো না, এটা আমার প্রাইভেসির অধিকার; পরিচয় যাচাইয়ে ছবি দুর্নীতিবান্ধব, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দুর্নীতিরোধক; ১৬ বছর পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা স্বৈরাচারীদের বিচার চাই ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, অসংখ্য পর্দানশীন নারী এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি যাদের পিতা-মাতা বাংলাদেশী এবং নিজেরাও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন; শুধুমাত্র পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বঞ্চিত হয়ে আসছেন। গত ১৬ বছর যাবত ইসির সাবেক কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুখচ্ছবি না তোলার অজুহাতে পর্দানশীন নারীকে নাগরিকত্ব আটকে রেখেছে। এতে পর্দানশীন নারীরা মৌলিক ও নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ কষ্টে পতিত হয়েছেন। অনেক পর্দানশীন নারী অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন, কিন্তু এনআইডি ছাড়া ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছেন না। অনেক পর্দানশীন নারীর বাড়িঘর দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে গেছে, কিন্তু এনআইডি ছাড়া ত্রাণ নিতে পারছেন না। অনেক বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা পর্দানশীন নারী এনআইডির অভাবে বাসাভাড়া নিতে পারছেন না, বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করতে পারছেন না। পর্দার সাথে কোন চাকুরী করে জীবন নির্বাহ করতে পারছেন না। গত ১৬ বছর যাবত ইসির সাবেক কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা পর্দানশীন নারীদের যে কষ্ট দিয়েছে, তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, একজন নারী ছবি তুললে ২টি গুনাহ হয়। একটি ছবি তোলার গুনাহ, অন্যটি বেপর্দা হওয়ার গুনাহ। পর্দানশীন নারীরা সেই গুনাহ থেকে বাঁচতে চান। অথচ নাগরিকত্ব আটকে রেখে তাদেরকে গুনাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন। আবার একজন পর্দানশীন নারী তার চেহারা কাউকে দেখাতে চান না, এটা তার প্রাইভেসির অধিকার। ফলে দুই দিক থেকেই পর্দানশীন নারীদের এ দাবী মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিলো বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। গত ১৬ বছর শুধুমাত্র পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে নারীদের সাথে যে বৈষম্য হয়েছে, আমরা তার সমাপ্তি চাই। অবিলম্বে পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখে এনআইডি প্রদান করা হোক। এছাড়াও, এনআইডির মুখচ্ছবি পরিবর্তনযোগ্য। এতে প্রমাণিত হয়, মুখচ্ছবি পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নয়। অথচ সেই মুখচ্ছবির অজুহাতেই পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ছবি দিয়ে সনাক্তকরণ দুর্নীতিবান্ধব পদ্ধতি, অপরদিকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সনাক্তকরণ দুর্নীতিরোধক পদ্ধতি। যেমন- আগে ব্যাংকগুলোতে ছবি দেখে পরিচয় যাচাইয়ের সময় এক ব্যক্তির একাধিক পরিচয়ে ঋণ উত্তোলন মত প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এ প্রতারণা রুখতে বর্তমানে ব্যাংক ঋণ উত্তোলনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবার ছবি দেখে পরিচয় যাচাইয়ে একজন ব্যক্তির একাধিক এনআইডি তৈরীর মত ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে দ্বৈত এনআইডির সমস্যাও দূর হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে। আবার একটা সময় বাংলাদেশীদের সাথে চেহারার মিলকে পূজি করে প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশী পাড়ি জমায়, কিন্তু যখনই তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে যাচাই শুরু হয়, তখনই রোহিঙ্গাদের প্রতারণা ধরা পড়ে এবং সমস্যার সমাধান হয়।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর জন্য চেহারার ছবি দেখে অপরাধীকে ধরা কষ্টসাধ্য। অনেক সময় চেহারার মিল থাকায় নিরাপরাধ ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে ধরে পরে যায়। এলিট ফোর্স র‍্যাব ফিঙ্গারপ্রিন্টের OIVS প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, পুলিশের সিআইডি ফিঙ্গারপ্রিন্টের AFIS প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ নির্ভুল যাচাইয়ের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট এখন সর্বাধুনিক ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম। উল্লেখ্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর যুগে ছবির অপব্যবহার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক ছবি একাধিক লোক ব্যবহারের প্রযুক্তিও আবিষ্কার হয়েছে। এসব কারণে আধুনিক বিশ্ব মুখচ্ছবি দেখে পরিচয় যাচাই বর্জন করেছে।

পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০ এবং ২০২৩-এ পরিচয় সনাক্তে চেহারার ছবির কথা উল্লেখ নাই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, বায়োমেট্রিক যাচাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশনকেও বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কিন্তু স্বৈরাচারী মনোভাব থেকেই পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করে রেখেছিলো সাবেক ইসি কর্মকর্তারা। পর্দানশীন নারীরা চান, নতুন ইসি কর্মকর্তারা আর সেই পথে না হাটুক। পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখেই অবিলম্বে তাদের এনআইডি প্রদান করুক। এসময় পর্দানশীন নারীদের পেশকৃত তিনটি দাবী হচ্ছে: বিগত ১৬ বছরে যে সমস্ত সাবেক ইসি কর্মকর্তা পর্দানশীন নারীদের মানবাধিকার হরণ করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা; ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখেই অবিলম্বে এনআইডি প্রদান এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ায় মহিলা অফিস সহকারী বাধ্যতামূলক করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার দাবীতে ইবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০২:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব না দেয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে পর্দানশীন নারীদের ১৬ বছর যাবত নাগরিকত্ব না দেয়ার প্রতিবাদে এবং জড়িত স্বৈরাচারদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দানশীন নারী শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে এই কর্মসূচী পালন করে তারা। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা মানবতাবিরোধী অপরাধ; কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মুখচ্ছবি দেখে পরিচয় যাচাই মূর্খতার লক্ষণ; ছিঃ ইসি ছিঃ শুধুমাত্র পর্দা করার কারণে আমার নাগরিকত্ব কেড়ে নিলে? আমার চেহারা আমি দেখাবো না, এটা আমার প্রাইভেসির অধিকার; পরিচয় যাচাইয়ে ছবি দুর্নীতিবান্ধব, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দুর্নীতিরোধক; ১৬ বছর পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা স্বৈরাচারীদের বিচার চাই ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, অসংখ্য পর্দানশীন নারী এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি যাদের পিতা-মাতা বাংলাদেশী এবং নিজেরাও বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন; শুধুমাত্র পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বঞ্চিত হয়ে আসছেন। গত ১৬ বছর যাবত ইসির সাবেক কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুখচ্ছবি না তোলার অজুহাতে পর্দানশীন নারীকে নাগরিকত্ব আটকে রেখেছে। এতে পর্দানশীন নারীরা মৌলিক ও নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ কষ্টে পতিত হয়েছেন। অনেক পর্দানশীন নারী অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন, কিন্তু এনআইডি ছাড়া ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারছেন না। অনেক পর্দানশীন নারীর বাড়িঘর দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে গেছে, কিন্তু এনআইডি ছাড়া ত্রাণ নিতে পারছেন না। অনেক বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা পর্দানশীন নারী এনআইডির অভাবে বাসাভাড়া নিতে পারছেন না, বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করতে পারছেন না। পর্দার সাথে কোন চাকুরী করে জীবন নির্বাহ করতে পারছেন না। গত ১৬ বছর যাবত ইসির সাবেক কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা পর্দানশীন নারীদের যে কষ্ট দিয়েছে, তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, একজন নারী ছবি তুললে ২টি গুনাহ হয়। একটি ছবি তোলার গুনাহ, অন্যটি বেপর্দা হওয়ার গুনাহ। পর্দানশীন নারীরা সেই গুনাহ থেকে বাঁচতে চান। অথচ নাগরিকত্ব আটকে রেখে তাদেরকে গুনাহ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন। আবার একজন পর্দানশীন নারী তার চেহারা কাউকে দেখাতে চান না, এটা তার প্রাইভেসির অধিকার। ফলে দুই দিক থেকেই পর্দানশীন নারীদের এ দাবী মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিলো বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। গত ১৬ বছর শুধুমাত্র পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে নারীদের সাথে যে বৈষম্য হয়েছে, আমরা তার সমাপ্তি চাই। অবিলম্বে পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখে এনআইডি প্রদান করা হোক। এছাড়াও, এনআইডির মুখচ্ছবি পরিবর্তনযোগ্য। এতে প্রমাণিত হয়, মুখচ্ছবি পরিচয় যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম নয়। অথচ সেই মুখচ্ছবির অজুহাতেই পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া ছবি দিয়ে সনাক্তকরণ দুর্নীতিবান্ধব পদ্ধতি, অপরদিকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সনাক্তকরণ দুর্নীতিরোধক পদ্ধতি। যেমন- আগে ব্যাংকগুলোতে ছবি দেখে পরিচয় যাচাইয়ের সময় এক ব্যক্তির একাধিক পরিচয়ে ঋণ উত্তোলন মত প্রতারণার ঘটনা ঘটে। এ প্রতারণা রুখতে বর্তমানে ব্যাংক ঋণ উত্তোলনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবার ছবি দেখে পরিচয় যাচাইয়ে একজন ব্যক্তির একাধিক এনআইডি তৈরীর মত ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে দ্বৈত এনআইডির সমস্যাও দূর হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে। আবার একটা সময় বাংলাদেশীদের সাথে চেহারার মিলকে পূজি করে প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশী পাড়ি জমায়, কিন্তু যখনই তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে যাচাই শুরু হয়, তখনই রোহিঙ্গাদের প্রতারণা ধরা পড়ে এবং সমস্যার সমাধান হয়।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর জন্য চেহারার ছবি দেখে অপরাধীকে ধরা কষ্টসাধ্য। অনেক সময় চেহারার মিল থাকায় নিরাপরাধ ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে ধরে পরে যায়। এলিট ফোর্স র‍্যাব ফিঙ্গারপ্রিন্টের OIVS প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, পুলিশের সিআইডি ফিঙ্গারপ্রিন্টের AFIS প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ নির্ভুল যাচাইয়ের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট এখন সর্বাধুনিক ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম। উল্লেখ্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর যুগে ছবির অপব্যবহার অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এক ছবি একাধিক লোক ব্যবহারের প্রযুক্তিও আবিষ্কার হয়েছে। এসব কারণে আধুনিক বিশ্ব মুখচ্ছবি দেখে পরিচয় যাচাই বর্জন করেছে।

পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০ এবং ২০২৩-এ পরিচয় সনাক্তে চেহারার ছবির কথা উল্লেখ নাই জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, বায়োমেট্রিক যাচাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশনকেও বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কিন্তু স্বৈরাচারী মনোভাব থেকেই পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করে রেখেছিলো সাবেক ইসি কর্মকর্তারা। পর্দানশীন নারীরা চান, নতুন ইসি কর্মকর্তারা আর সেই পথে না হাটুক। পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখেই অবিলম্বে তাদের এনআইডি প্রদান করুক। এসময় পর্দানশীন নারীদের পেশকৃত তিনটি দাবী হচ্ছে: বিগত ১৬ বছরে যে সমস্ত সাবেক ইসি কর্মকর্তা পর্দানশীন নারীদের মানবাধিকার হরণ করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা; ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখেই অবিলম্বে এনআইডি প্রদান এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ায় মহিলা অফিস সহকারী বাধ্যতামূলক করা।