০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে জুলাই আন্দোলনে নিহত হত্যামামলার বাদীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

Oplus_131072

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রিপন মিয়া হত্যা মামলার বাদী আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (১৮ জানুয়ারী) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে হত্যা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার বাদী আকতার হোসেন চাঁদাবাজি করছেন মর্মে অভিযোগ করেন নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম।

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম বলেন, রিপন মিয়া ঢাকায় সেলসম্যান হিসেবে কাজ করত। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট গ্রামের বাড়ি বাট্টাজোড় পানাতিয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আমি মামলা করার প্রস্তুতি নিতে থাকি। কিন্তু আমাকে কিছু না জানিয়ে ওই ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন আমার দেবর আকতার হোসেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৮ জনের নামোল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা দুইশত জনকে আসামি করা হয়। নামীয় ১৮ জন আসামীর মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান ও সমাজসেবক হাজী আমানুল্লাহসহ বকশীগঞ্জের ১৩ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।

নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম আরও বলেন, চাঁদাবাজি করার জন্যই আমাকে না জানি সুকৌশলে আক্তার হোসেন মামলার বাদী হয়েছে। রিপন হত্যা ঘটনার সঙ্গে বকশীগঞ্জের কোনো মানুষ জড়িত না। কারণ সে মারা গেছে ঢাকার উত্তরা এলাকায়। মামলা করার আগেই আক্তার হোসেন রিপনের লাশকে পুঁজি করে হত্যা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্তত দুই শতাধিক নিরীহ মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করেছে।

খাদিজা বেগম আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের আগে আকতার হোসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকত একটি কুঁড়েঘরে। পত্রিকার হকারি করাসহ মানুষের কাছে হাত পেতে চালাত সংসার। কয়েক মাসের ব্যবধানে আকতার হোসেন মামলা-বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। পাকা বিল্ডিং করেছে। নামি-দামি আসবাবপত্রসহ কিনেছেন নতুন মোটরসাইকেল। এছাড়াও আক্তার সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষদের টার্গেট করে প্রতিদিন তার ফেসবুক আইডি থেকে একেক জনের ছবি পোষ্ট করে মামলায় আসামি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মামলায় আসামি করার হুমকি দেয়। সরকারি-বেসরকারি কয়েক লাখ টাকা অনুদান পেয়ে আত্মসাত করেছেন চাঁদাবাজ আকতার। রিপন নিহত হওয়ার একমাস পরেই বাড়ি থেকে আমাকে বের করে দিয়েছে আক্তার। বাধ্য হয়ে গার্মেন্টে চাকুরী করে কোনো রকম জীবন-যাপন করছি। আকতারের চাঁদাবাজি বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্ঠাসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আকতার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় রিপন মিয়া আমার ছোট ভাই। সেই কারণেই রিপন হত্যার বিচার চেয়ে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। আমি চাঁদাবাজ নাকি ভালো মানুষ সেটা, এলাকাবাসী জানেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

জামালপুরে জুলাই আন্দোলনে নিহত হত্যামামলার বাদীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা রিপন মিয়া হত্যা মামলার বাদী আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

গত শনিবার (১৮ জানুয়ারী) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে হত্যা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার বাদী আকতার হোসেন চাঁদাবাজি করছেন মর্মে অভিযোগ করেন নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম।

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম বলেন, রিপন মিয়া ঢাকায় সেলসম্যান হিসেবে কাজ করত। গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনি। পরদিন ৬ আগস্ট গ্রামের বাড়ি বাট্টাজোড় পানাতিয়াপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আমি মামলা করার প্রস্তুতি নিতে থাকি। কিন্তু আমাকে কিছু না জানিয়ে ওই ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন আমার দেবর আকতার হোসেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ১৮ জনের নামোল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা দুইশত জনকে আসামি করা হয়। নামীয় ১৮ জন আসামীর মধ্যে বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান ও সমাজসেবক হাজী আমানুল্লাহসহ বকশীগঞ্জের ১৩ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।

নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম আরও বলেন, চাঁদাবাজি করার জন্যই আমাকে না জানি সুকৌশলে আক্তার হোসেন মামলার বাদী হয়েছে। রিপন হত্যা ঘটনার সঙ্গে বকশীগঞ্জের কোনো মানুষ জড়িত না। কারণ সে মারা গেছে ঢাকার উত্তরা এলাকায়। মামলা করার আগেই আক্তার হোসেন রিপনের লাশকে পুঁজি করে হত্যা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্তত দুই শতাধিক নিরীহ মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করেছে।

খাদিজা বেগম আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের আগে আকতার হোসেন পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকত একটি কুঁড়েঘরে। পত্রিকার হকারি করাসহ মানুষের কাছে হাত পেতে চালাত সংসার। কয়েক মাসের ব্যবধানে আকতার হোসেন মামলা-বাণিজ্য করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। পাকা বিল্ডিং করেছে। নামি-দামি আসবাবপত্রসহ কিনেছেন নতুন মোটরসাইকেল। এছাড়াও আক্তার সমাজের ধনী শ্রেণির মানুষদের টার্গেট করে প্রতিদিন তার ফেসবুক আইডি থেকে একেক জনের ছবি পোষ্ট করে মামলায় আসামি করার ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মামলায় আসামি করার হুমকি দেয়। সরকারি-বেসরকারি কয়েক লাখ টাকা অনুদান পেয়ে আত্মসাত করেছেন চাঁদাবাজ আকতার। রিপন নিহত হওয়ার একমাস পরেই বাড়ি থেকে আমাকে বের করে দিয়েছে আক্তার। বাধ্য হয়ে গার্মেন্টে চাকুরী করে কোনো রকম জীবন-যাপন করছি। আকতারের চাঁদাবাজি বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্ঠাসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী আকতার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় রিপন মিয়া আমার ছোট ভাই। সেই কারণেই রিপন হত্যার বিচার চেয়ে আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। আমি চাঁদাবাজ নাকি ভালো মানুষ সেটা, এলাকাবাসী জানেন।