০৩:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইবিতে তুচ্ছ ঘটনায় লঙ্কাকাণ্ড

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স বাসের স্টাফদের সাথে বাকবিতণ্ডা এবং ক্যাম্পাস গেটে বাস আটকাতে যেয়ে এক শিক্ষার্থী আহত এবং পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২২ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় গেট সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাফিজ, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী, আহতের বন্ধুবান্ধব এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের একদল শিক্ষার্থী বাসে ওঠে। তাদের দেখাদেখি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসে উঠতে গেলে স্টাফেরা বাধা দেয় এবং এতলোক নিলে বাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে দুর্ব্যবহার করে তাদের নেমে যেতে বলে। স্টাফদের কথা মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে গেলেও বিষয়টি তারা ক্যাম্পাসে থাকা সহপাঠীদের জানায়। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ক্যাম্পাসে ও আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা জবাব চাওয়ার উদ্দেশ্যে মেইন গেট থেকে বাস আটকে দেয়। এসময় বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে বাসের দরজা না খোলায় শিক্ষার্থীরা বাসের দরজার নীচের অংশের কাঁচ ভেঙে দেয়। হট্টগোলের সময় হঠাৎই মোস্তাফিজ তার ডান পায়ের পেছন দিক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখে উপস্থিত অন্যান্যদের জানালে দ্রুত তাকে ইবি মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তার পা কাঁচে কাটেনি, তার উপর উপর ধারালো কিছু দিয়ে হামলা করা হয়েছে।

এদিকে, আহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা এসবি সুপার ডিলাক্সের দুইটি বাস আটকে দেয়। পরবর্তীতে অসুস্থ রোগী ও বিদেশগামী যাত্রী থাকায় শিক্ষার্থীরা একটি বাস ছেড়ে দিলেও অপর একটি বাস আটকে রাখে। এসময় আহত শিক্ষার্থী মোস্তাফিজের অবস্থা খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এরই প্রেক্ষিতে তার বিক্ষুব্ধ বন্ধুরা এসে মেইন গেটে আটকে রাখা বাসে ইটপাটকেল ছুঁড়ে কাঁচ ভাংচুর করে। এসময় শিক্ষার্থীদের থামাতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিষদের সদস্যদের সাথে শিক্ষার্থীদের হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত শিক্ষার্থী, নিরাপত্তাকর্মী ও সমন্বয়কদের সহযোগীতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাসের বাস না থাকায় এসবির বাসে আসতে চেয়েছিলেন তারা। শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে তুললেও বাকীদের পরিবেশ নষ্ট হবে বলে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করে স্টাফেরা। এসময় শিক্ষার্থীদের একজন স্টুডেন্টদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে ক্যাম্পাসে বাস আটকানো হয় বললে সুপারভাইজার আপনারা যা পারেন কইরেন’ বলে চলে যায়। পরবর্তীতে বাসটি ক্যাম্পাসের গেটে আসার আগেই শেখপাড়ার কাউন্টার মাস্টার ক্যাম্পাসের সামনে এসে অবস্থান নেয়। দরজার কাঁচ ভাংচুরের সময় কেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পেছন থেকে আঘাত করেছে।

ইবি মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, ধারালো কিছুর আঘাতে এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তেমন গুরুত্বর ক্ষত না। প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছিলো, আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্ত বন্ধ ও ক্ষত সেলাই করে দিয়েছি।

ইবি সহ-সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, এসবি কোম্পানির একটি বাসের স্টাফেরা কুষ্টিয়া থেকে কিছু শিক্ষার্থীর সাথে দুর্ব্যবহার করে বলে জানতে পারি। এরপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বাস আটকাতে গেলে এক শিক্ষার্থী আহত হয় এবং পরে ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী ঐ গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা তাদেরকে থামিয়ে দেয়। এসময় দু’পক্ষই উত্তেজিত হলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টর স্যার হাজির হয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পুরো ঘটনাটিতে যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই বাসস্টাফদের সাথে শিক্ষার্থীদের এমন মুখোমুখি অবস্থান কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, এই সম্পদ গুলো জনগণের সম্পদ, এই ক্ষতির মূল্য অনেক। সামান্য কারণে যেকোন সমস্যা হতেই পারে কিন্তু সমস্যা হওয়ার সাথে সাথেই তা সমাধানের জন্য আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি আছে, সিকিউরিটি টিম আছে। গাড়ি কে ভাংচুর করেছে অবশ্যই তাকে বের করতে হবে। এধরণের ঘটনা আমাদের কাম্য না। যত দ্রুত সম্ভব আমরা বসে এই বিষয়টি সমাধান করবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

ইবিতে তুচ্ছ ঘটনায় লঙ্কাকাণ্ড

আপডেট সময় : ০১:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স বাসের স্টাফদের সাথে বাকবিতণ্ডা এবং ক্যাম্পাস গেটে বাস আটকাতে যেয়ে এক শিক্ষার্থী আহত এবং পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বাস ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২২ জানুয়ারী) রাত সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয় গেট সংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাফিজ, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী, আহতের বন্ধুবান্ধব এবং বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের একদল শিক্ষার্থী বাসে ওঠে। তাদের দেখাদেখি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসে উঠতে গেলে স্টাফেরা বাধা দেয় এবং এতলোক নিলে বাসের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে দুর্ব্যবহার করে তাদের নেমে যেতে বলে। স্টাফদের কথা মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীরা বাস থেকে নেমে গেলেও বিষয়টি তারা ক্যাম্পাসে থাকা সহপাঠীদের জানায়। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ক্যাম্পাসে ও আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা জবাব চাওয়ার উদ্দেশ্যে মেইন গেট থেকে বাস আটকে দেয়। এসময় বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে বাসের দরজা না খোলায় শিক্ষার্থীরা বাসের দরজার নীচের অংশের কাঁচ ভেঙে দেয়। হট্টগোলের সময় হঠাৎই মোস্তাফিজ তার ডান পায়ের পেছন দিক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখে উপস্থিত অন্যান্যদের জানালে দ্রুত তাকে ইবি মেডিকেলে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তার পা কাঁচে কাটেনি, তার উপর উপর ধারালো কিছু দিয়ে হামলা করা হয়েছে।

এদিকে, আহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা এসবি সুপার ডিলাক্সের দুইটি বাস আটকে দেয়। পরবর্তীতে অসুস্থ রোগী ও বিদেশগামী যাত্রী থাকায় শিক্ষার্থীরা একটি বাস ছেড়ে দিলেও অপর একটি বাস আটকে রাখে। এসময় আহত শিক্ষার্থী মোস্তাফিজের অবস্থা খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার করেন। এরই প্রেক্ষিতে তার বিক্ষুব্ধ বন্ধুরা এসে মেইন গেটে আটকে রাখা বাসে ইটপাটকেল ছুঁড়ে কাঁচ ভাংচুর করে। এসময় শিক্ষার্থীদের থামাতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিষদের সদস্যদের সাথে শিক্ষার্থীদের হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত শিক্ষার্থী, নিরাপত্তাকর্মী ও সমন্বয়কদের সহযোগীতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাসের বাস না থাকায় এসবির বাসে আসতে চেয়েছিলেন তারা। শিক্ষার্থীদের কয়েকজনকে তুললেও বাকীদের পরিবেশ নষ্ট হবে বলে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করে স্টাফেরা। এসময় শিক্ষার্থীদের একজন স্টুডেন্টদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে ক্যাম্পাসে বাস আটকানো হয় বললে সুপারভাইজার আপনারা যা পারেন কইরেন’ বলে চলে যায়। পরবর্তীতে বাসটি ক্যাম্পাসের গেটে আসার আগেই শেখপাড়ার কাউন্টার মাস্টার ক্যাম্পাসের সামনে এসে অবস্থান নেয়। দরজার কাঁচ ভাংচুরের সময় কেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পেছন থেকে আঘাত করেছে।

ইবি মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, ধারালো কিছুর আঘাতে এই ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তেমন গুরুত্বর ক্ষত না। প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছিলো, আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্ত বন্ধ ও ক্ষত সেলাই করে দিয়েছি।

ইবি সহ-সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, এসবি কোম্পানির একটি বাসের স্টাফেরা কুষ্টিয়া থেকে কিছু শিক্ষার্থীর সাথে দুর্ব্যবহার করে বলে জানতে পারি। এরপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা বাস আটকাতে গেলে এক শিক্ষার্থী আহত হয় এবং পরে ক্ষুব্ধ কিছু শিক্ষার্থী ঐ গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা তাদেরকে থামিয়ে দেয়। এসময় দু’পক্ষই উত্তেজিত হলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে প্রক্টর স্যার হাজির হয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পুরো ঘটনাটিতে যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই বাসস্টাফদের সাথে শিক্ষার্থীদের এমন মুখোমুখি অবস্থান কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দায়িত্ব নিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, এই সম্পদ গুলো জনগণের সম্পদ, এই ক্ষতির মূল্য অনেক। সামান্য কারণে যেকোন সমস্যা হতেই পারে কিন্তু সমস্যা হওয়ার সাথে সাথেই তা সমাধানের জন্য আমাদের প্রক্টরিয়াল বডি আছে, সিকিউরিটি টিম আছে। গাড়ি কে ভাংচুর করেছে অবশ্যই তাকে বের করতে হবে। এধরণের ঘটনা আমাদের কাম্য না। যত দ্রুত সম্ভব আমরা বসে এই বিষয়টি সমাধান করবো।