০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুল চিকিৎিসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায়
প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালে লাশ রেখে
পালিয়েছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ জানুয়ারি বৃহ¯পতিবার রাত ১১টার
দিকে প্রথমে নবজাতক মেয়ে শিশু ও পরে রাত ১২টার দিকে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়। নিহত
প্রসূতি মা শিরিন আক্তার (২৬) ফুলছড়ি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার কছের সরদারের মেয়ে ও সবুজ
মিয়ার স্ত্রী। নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, বৃহ¯পতিবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে শিরিন
আক্তারকে বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক
প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে শিরিন আক্তার মেয়ে সন্তান
প্রসব করে। রাত ১১টার দিকে নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর রাতেই স্থানীয়রা হাসপাতাল
ভাঙচুর করলে চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ ভয়ে পালিয়ে যায়। এরপর প্রসূতি মায়ের রক্তের প্রয়োজন দেখা
দিলে হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে রাত ১২টার
সময় প্রসূতি মা শিরিন আক্তারের মৃত্যু হয়। শিরিন আক্তারের স্বামী সবুজ মিয়া বলেন,
হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকলেও শিরিন আক্তারের সিজারিয়ান
অপারেশন করা হয়। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে মা ও
নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরআগেও বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে একাধিক নবজাতক ও
প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, সঠিকভাবে
সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে হামলা করলে ভয়ে চিকিৎসক ও
নার্সরা পালিয়ে যায়। এ কারণে প্রসূতি মা রক্ত ও চিকিৎসার অভাবে মারা যান। সাঘাটা উপজেলা
নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনোরঞ্জন কুমার বর্মণ বলেন, ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদশা আলম বলেন, ভুক্তভোগী
পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

ভুল চিকিৎিসায় প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায়
প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর হাসপাতালে লাশ রেখে
পালিয়েছেন চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২৩ জানুয়ারি বৃহ¯পতিবার রাত ১১টার
দিকে প্রথমে নবজাতক মেয়ে শিশু ও পরে রাত ১২টার দিকে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়। নিহত
প্রসূতি মা শিরিন আক্তার (২৬) ফুলছড়ি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার কছের সরদারের মেয়ে ও সবুজ
মিয়ার স্ত্রী। নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, বৃহ¯পতিবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে শিরিন
আক্তারকে বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক
প্রসূতি মায়ের অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে শিরিন আক্তার মেয়ে সন্তান
প্রসব করে। রাত ১১টার দিকে নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর রাতেই স্থানীয়রা হাসপাতাল
ভাঙচুর করলে চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ ভয়ে পালিয়ে যায়। এরপর প্রসূতি মায়ের রক্তের প্রয়োজন দেখা
দিলে হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে রাত ১২টার
সময় প্রসূতি মা শিরিন আক্তারের মৃত্যু হয়। শিরিন আক্তারের স্বামী সবুজ মিয়া বলেন,
হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকলেও শিরিন আক্তারের সিজারিয়ান
অপারেশন করা হয়। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে মা ও
নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরআগেও বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে একাধিক নবজাতক ও
প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, সঠিকভাবে
সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতালে হামলা করলে ভয়ে চিকিৎসক ও
নার্সরা পালিয়ে যায়। এ কারণে প্রসূতি মা রক্ত ও চিকিৎসার অভাবে মারা যান। সাঘাটা উপজেলা
নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনোরঞ্জন কুমার বর্মণ বলেন, ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে হাসপাতালের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদশা আলম বলেন, ভুক্তভোগী
পরিবারের কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হবে।