০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোকসানে পড়েছেন মাঘের মেলার ভাণ্ডারী মুলা ব্যবসায়ীরা

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করে শখের বসে করেছেন জাপানি জাতের মুলা চাষ। হালদা নদীর উর্বর পলিমাটিতে মুলার বাম্পার ফলন হয়। মূলত এ মুলা বিক্রি উপযোগী হয় বাংলার মাঘ মাসে। এ মাসের ১০ তারিখ উপমহাদেশে প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল হজরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর বার্ষিক ওরশ শরীফকে ঘিরে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে মাঘের মেলা। এ মেলায় ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজনের মুলাগুলো বিক্রি করে থাকেন সাইফুদ্দিনের মত মুলা চাষী এবং পাইকাররা৷ সাইফুদ্দিন ফটিকছড়ির পূর্ব সুয়াবিল সৈয়দ পাড়া এলাকায় হালদা নদীর বিস্তৃত চরে মুলা চাষ করেছেন৷ চার ট্রাকে ৪ হাজারটি মুলা বিক্রির জন্য ওরশের মেলায় আনেন তিনি। একেকটি মুলার ওজন ৫ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত। এ মুলা গড় প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রয় করা হয়৷ তবে দুঃখজনক হলো, আরো তিন হাজারটি মুলা বিক্রি করতে পারেননি তিনি। এখানে অন্তত ৩ লক্ষ টাকার মুলা পড়ে আছে। চাষাবাদ থেকে মাইজভাণ্ডার আনার পরিবহন খরচ, মেলার ৩০ হাজার টাকা জায়গা ভাড়া, ১৬ জন কর্মচারীর বেতন সহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও মাত্র ১ লক্ষ টাকার মুলা বিক্রি করতে পরেছেন তিনি।
তুলনামূলক ভাবে এবার মাইজভান্ডারের প্রধান দিবস ১০ মাঘের মেলায় রেকর্ড পরিমাণ আশেক-ভক্ত, অনুরক্তের ঢল নামে। এ মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জাপানি জাতের এ ভাণ্ডারী মুলা। মেলায় এবার কয়েক লাখ ভক্তের ঢল নামলেও মুলার দোকান বসেছে বেশি। যার ফলে, ব্যবসায়ীরা বিক্রিতে সুবিধা করতে পারেনি৷
সরজমিনে দেখা গেছে, নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে মাইজভাণ্ডার দরবার পর্যন্ত রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ভাণ্ডারী মুলা। জয়নাল আবেদীন নামের এক যুবক ৯ পিস মুলা মাত্র ৫শত টাকা দিয়ে কিনে পিকআপ ভ্যানে তুলে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। এছাড়াও মুলার স্তূপ থেকে যার প্রয়োজন মত মুলা নিয়ে যাচ্ছেন বিনামূল্যে।
এ বিষয়ে নাজিরহাট ঝংকারের মুলা ব্যবসায়ী সেকান্দর বলেন, গতকাল ১০০ টাকায় যে মুলা বিক্রি করিনি, সে মুলাগুলো এখন জোড়া দশ টাকায়ও বিক্রি করতে পাচ্ছিনা।
মতি ভাণ্ডার গেইটের মুলা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুর নবী বলেন, আমরা মূলত পাইকার ব্যবসায়ী। ২ লক্ষ টাকার মুলা মাত্র ৫ শত টাকায় বিক্রি করে খালি হাতে বাড়ি ফিরছি।
মাইজভান্ডার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী ইসমাইল হোসেন দুলাল বলেন, এবারের ওরশে মুলা ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের যানবাহন খরচ, জায়গা ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, নিজের পরিশ্রম, সব বৃথা। বলতে গেলে মুলা চাষী ও ব্যবসায়ীরা এখর দিশেহারা। ভবিষ্যতে সর্তক হওয়ার বিকল্প নেই ।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

লোকসানে পড়েছেন মাঘের মেলার ভাণ্ডারী মুলা ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৫
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করে শখের বসে করেছেন জাপানি জাতের মুলা চাষ। হালদা নদীর উর্বর পলিমাটিতে মুলার বাম্পার ফলন হয়। মূলত এ মুলা বিক্রি উপযোগী হয় বাংলার মাঘ মাসে। এ মাসের ১০ তারিখ উপমহাদেশে প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল হজরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারীর বার্ষিক ওরশ শরীফকে ঘিরে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসে মাঘের মেলা। এ মেলায় ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজনের মুলাগুলো বিক্রি করে থাকেন সাইফুদ্দিনের মত মুলা চাষী এবং পাইকাররা৷ সাইফুদ্দিন ফটিকছড়ির পূর্ব সুয়াবিল সৈয়দ পাড়া এলাকায় হালদা নদীর বিস্তৃত চরে মুলা চাষ করেছেন৷ চার ট্রাকে ৪ হাজারটি মুলা বিক্রির জন্য ওরশের মেলায় আনেন তিনি। একেকটি মুলার ওজন ৫ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত। এ মুলা গড় প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে বিক্রয় করা হয়৷ তবে দুঃখজনক হলো, আরো তিন হাজারটি মুলা বিক্রি করতে পারেননি তিনি। এখানে অন্তত ৩ লক্ষ টাকার মুলা পড়ে আছে। চাষাবাদ থেকে মাইজভাণ্ডার আনার পরিবহন খরচ, মেলার ৩০ হাজার টাকা জায়গা ভাড়া, ১৬ জন কর্মচারীর বেতন সহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও মাত্র ১ লক্ষ টাকার মুলা বিক্রি করতে পরেছেন তিনি।
তুলনামূলক ভাবে এবার মাইজভান্ডারের প্রধান দিবস ১০ মাঘের মেলায় রেকর্ড পরিমাণ আশেক-ভক্ত, অনুরক্তের ঢল নামে। এ মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জাপানি জাতের এ ভাণ্ডারী মুলা। মেলায় এবার কয়েক লাখ ভক্তের ঢল নামলেও মুলার দোকান বসেছে বেশি। যার ফলে, ব্যবসায়ীরা বিক্রিতে সুবিধা করতে পারেনি৷
সরজমিনে দেখা গেছে, নাজিরহাট ঝংকার মোড় থেকে মাইজভাণ্ডার দরবার পর্যন্ত রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ভাণ্ডারী মুলা। জয়নাল আবেদীন নামের এক যুবক ৯ পিস মুলা মাত্র ৫শত টাকা দিয়ে কিনে পিকআপ ভ্যানে তুলে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। এছাড়াও মুলার স্তূপ থেকে যার প্রয়োজন মত মুলা নিয়ে যাচ্ছেন বিনামূল্যে।
এ বিষয়ে নাজিরহাট ঝংকারের মুলা ব্যবসায়ী সেকান্দর বলেন, গতকাল ১০০ টাকায় যে মুলা বিক্রি করিনি, সে মুলাগুলো এখন জোড়া দশ টাকায়ও বিক্রি করতে পাচ্ছিনা।
মতি ভাণ্ডার গেইটের মুলা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুর নবী বলেন, আমরা মূলত পাইকার ব্যবসায়ী। ২ লক্ষ টাকার মুলা মাত্র ৫ শত টাকায় বিক্রি করে খালি হাতে বাড়ি ফিরছি।
মাইজভান্ডার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী ইসমাইল হোসেন দুলাল বলেন, এবারের ওরশে মুলা ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের যানবাহন খরচ, জায়গা ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, নিজের পরিশ্রম, সব বৃথা। বলতে গেলে মুলা চাষী ও ব্যবসায়ীরা এখর দিশেহারা। ভবিষ্যতে সর্তক হওয়ার বিকল্প নেই ।