জামালপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিচারের দাবীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।
রবিবার (২৬ জানুয়ারী) দুপুরে শহরের ফৌজদারী মোড় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দয়াময়ী মোড়ে এসে রাস্তা অবরোধ করে শ্লোগান দিতে থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্ররা শহরের দয়াময়ী চত্তরে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখলে যাত্রীদের চলাফেরায় ভোগান্তি তৈরী হয়। সদর থানার ওসি এসে অবরোধ উঠিয়ে নিতে অনুনয়-বিনয় করলেও শিক্ষার্থীরা রাস্তা না ছেড়ে শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় রাস্তার তিনদিকেই ইট ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে রেখে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক খন্দকার রেদোয়ান মাহিন বলেন, আমাদের এই আন্দোলন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরোদ্ধে। যারা ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। গত কয়েকদিন যাবৎ আমরা লক্ষ্য করতেছি জামালপুরে পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় মিছিল করছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ। অথচ প্রশাসন না দেখার ভান করছে। এপর্যন্ত পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে তাদেরও আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। আমরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা ভয়-ভীতি এবং আতংকে মধ্যে আছি। এজন্য আজকে আমাদের এই আন্দোলন।
জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস বলেন, গত কয়েকদিন যাবৎ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ বিভিন্ন নামে শহরে এবং বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করছে। এছাড়া পুলিশ যাদের গ্রপ্তার করেছে তাদেরও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে বলবো গ্রেপ্তারকৃতদের ছয় মাসের আগে ছাড়া যাবে না। আর পুলিশের সামনে দিয়ে কিভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগ মিছিল করে এর জবাব দিতে হবে প্রশাসনকে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মেজিস্ট্রেট আমাদের সাথে না বসা পর্যন্ত আমরা অবরোধ তুলে নিবো না। তানা হলে সড়কের পাশাপাশি আমরা রেল অবরোধ করবো।
বিকেল ৪টায় জেলা অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এ.কে.এম আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনায় বলেন, এই আন্দোলনের আমি জানতে পারলাম যে জামালপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ মিছিল করেছে। আমরা প্রশাসন আপনাদের কথাগুলি শুনতে চাই। এজন্য আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে আগামীকাল জেলা প্রশাসন, পুলিশ আপনাদের সাথে বসবে। যারা মিছিল করে এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের তালিকা লিখিত আকারে আমাদের কাছে এবং পুলিশের কাছে দেন। আমরা আপনাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিবো কিভাবে কি করা যায়। যারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়েও আমাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া মামুন, সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক, জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মীর ইসহাক হাসান ইখলাস, সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আবিদ সৌরভসহ নেতৃবৃন্দ।
প্রশাসন এবং ছাত্র নেতৃবৃন্দের আলোচনার পরে বিকেল ৪টায় শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা ছাত্র-ছাত্রীরা সড়ক ছেড়ে দেয়। এসময় আন্দোকারীরা বলেন, আমরা আগামীকাল পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করলাম। প্রশাসনের আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে আমরা সড়কসহ রেল অবরোধ করবো এবং কঠিন আন্দোলনের ডাক দিবো।




















