০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবুজ দর্শন চর্চায় চবিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস’

সবুজ শুধুমাত্র একটি রং নয়, সজীবতা ও প্রাণোচ্ছলতার প্রতীকও বটে। সেই প্রতীকী অর্থ ধারণ করেই সবুজ দর্শন বা সবুজ ফিলোসোফি গঠিত৷ পরিবেশ বিপর্যয়কে রুখে দেওয়া, পরিবেশ বান্ধব স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে ‘আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস’ নামে একটি নতুন সংগঠন।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।
সংগঠনটির ভিশন নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবেশ ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি টেকসই, সবুজ ও ন্যায়বিচারপূর্ণ পৃথিবী গড়াই এই ক্লাবের লক্ষ্য। সবুজ দর্শন, নৈতিকতা ও শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র গঠনে এই সংগঠনের সদস্যরা ভূমিকা রাখবে।
‘মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধান’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ২০২৫ সালের কার্যনির্বাহী পর্ষদ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পরিচালনা পর্ষদে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জানে আলম, সহ-সভাপতি শেখ রফিকউজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দীকা কলি।
এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যবস্থাপনা বিভাগের তাসনোভা তাসরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের মো. আলিম খান এবং কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদক বিভাগের মো. মোজাহিদুল ইসলাম। সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা চবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এই কমিটির অনুমোদন করেছেন।
সংগঠনটি পাঁচটি পৃথক টিমের সমন্বয়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। টিমগুলো হলো–ইকো কমিউনিটি এন্ড এডমিন, গ্রীন ক্যাম্পাস ইনিশিয়েটিভ, গ্রীন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রীন স্টোরি টেলার্স এবং ইকো ব্ল‍্যান্ডিং।
গ্রিন ক্যাম্পাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংগঠন সভাপতি মো. জানে আলম বলেন, মানুষ হিসেবে আমরা এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলে ফেলি যা পরিবেশের অন্য উপাদানগুলোকে ভীষণ ঋতিগ্রপ্ত করে। এই সংগঠন পরিবেশের মাঝে সমতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি বাক্তির পরিবর্তনেই সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তন হতে পারে।
সহ-সভাপতি শেখ রফিকউজ্জামান বলেন, আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস প্রকৃতির সাথে দানুষের যে আধ্যাত্মিক যোগসূত্র আছে সেটি মেরামতের কাজ করবে। সুস্থ শান্তিময় বিশ্ব তখনই বিনির্মাণ সম্ভব হবে যখন আমাদের ব্যক্তিক পর্যায়ে ইতিবাচক বদল ঘটবে, আর ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে সবুজ দর্শনের মাধ্যমে।
নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রীন ক্যাম্পাস প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য একটি উদ্দ্যোগ। ও সবুজ শিষ্কার কয়েকটি জ্বর আমরা চিহ্নিত করি। প্রথমত আমরা গুরুত্ব দেবো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনকে সবুজ শিক্ষার প্রতি সচেতনতা তৈরি করতে। আমাদের দর্শন হবে সবুজ দর্শন। আমাদের নৈতিকতা হবে সবুজ নৈতিকতা। আমাদের সংস্কৃতি হবে সবুজ সংস্কৃতি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা হবে সবুজ শিক্ষা। যার মাধ্যমে আমরা তৈরি করব আমাদের সবুজ ক্যাম্পাস, আমাদের সবুজ ভবিষ্যৎ তরিতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ দূষণ রোধ করতে আমরা বিভিন্ন পদষ্কেস গ্রহণ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমির কারিকুলামে সবুজ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটে দেখতে আসবেন প্রায় ৫০০ বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক: ইসি সচিব আখতার

সবুজ দর্শন চর্চায় চবিতে আত্মপ্রকাশ করলো ‘আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস’

আপডেট সময় : ১১:৩৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
সবুজ শুধুমাত্র একটি রং নয়, সজীবতা ও প্রাণোচ্ছলতার প্রতীকও বটে। সেই প্রতীকী অর্থ ধারণ করেই সবুজ দর্শন বা সবুজ ফিলোসোফি গঠিত৷ পরিবেশ বিপর্যয়কে রুখে দেওয়া, পরিবেশ বান্ধব স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গঠন, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবেলা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে ‘আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস’ নামে একটি নতুন সংগঠন।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতির মাধ্যমে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।
সংগঠনটির ভিশন নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবেশ ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি টেকসই, সবুজ ও ন্যায়বিচারপূর্ণ পৃথিবী গড়াই এই ক্লাবের লক্ষ্য। সবুজ দর্শন, নৈতিকতা ও শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র গঠনে এই সংগঠনের সদস্যরা ভূমিকা রাখবে।
‘মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধান’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ২০২৫ সালের কার্যনির্বাহী পর্ষদ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পরিচালনা পর্ষদে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জানে আলম, সহ-সভাপতি শেখ রফিকউজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দীকা কলি।
এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যবস্থাপনা বিভাগের তাসনোভা তাসরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের মো. আলিম খান এবং কোষাধ্যক্ষ ও দপ্তর সম্পাদক বিভাগের মো. মোজাহিদুল ইসলাম। সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা চবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন এই কমিটির অনুমোদন করেছেন।
সংগঠনটি পাঁচটি পৃথক টিমের সমন্বয়ে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। টিমগুলো হলো–ইকো কমিউনিটি এন্ড এডমিন, গ্রীন ক্যাম্পাস ইনিশিয়েটিভ, গ্রীন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, গ্রীন স্টোরি টেলার্স এবং ইকো ব্ল‍্যান্ডিং।
গ্রিন ক্যাম্পাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংগঠন সভাপতি মো. জানে আলম বলেন, মানুষ হিসেবে আমরা এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলে ফেলি যা পরিবেশের অন্য উপাদানগুলোকে ভীষণ ঋতিগ্রপ্ত করে। এই সংগঠন পরিবেশের মাঝে সমতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। আমরা বিশ্বাস করি বাক্তির পরিবর্তনেই সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তন হতে পারে।
সহ-সভাপতি শেখ রফিকউজ্জামান বলেন, আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস প্রকৃতির সাথে দানুষের যে আধ্যাত্মিক যোগসূত্র আছে সেটি মেরামতের কাজ করবে। সুস্থ শান্তিময় বিশ্ব তখনই বিনির্মাণ সম্ভব হবে যখন আমাদের ব্যক্তিক পর্যায়ে ইতিবাচক বদল ঘটবে, আর ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে সবুজ দর্শনের মাধ্যমে।
নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রীন ক্যাম্পাস প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ শিক্ষা প্রবর্তনের জন্য একটি উদ্দ্যোগ। ও সবুজ শিষ্কার কয়েকটি জ্বর আমরা চিহ্নিত করি। প্রথমত আমরা গুরুত্ব দেবো বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনকে সবুজ শিক্ষার প্রতি সচেতনতা তৈরি করতে। আমাদের দর্শন হবে সবুজ দর্শন। আমাদের নৈতিকতা হবে সবুজ নৈতিকতা। আমাদের সংস্কৃতি হবে সবুজ সংস্কৃতি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা হবে সবুজ শিক্ষা। যার মাধ্যমে আমরা তৈরি করব আমাদের সবুজ ক্যাম্পাস, আমাদের সবুজ ভবিষ্যৎ তরিতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ দূষণ রোধ করতে আমরা বিভিন্ন পদষ্কেস গ্রহণ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমির কারিকুলামে সবুজ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।