০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমরা ফিরে পেতে চাই সাংবাদিক সুলতানকে, প্রয়োজন সহযোগিতা

জামালপুরে অর্থ কষ্ট আর উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিনক্ষন গুনছেন দি বাংলাদেশ টুডে’র সাংবাদিক এম. সুলতান আলম। দীর্ঘ কর্ম জীবনে সংবাদের পেছনে ছুটেছেন শহর থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম ও দূর্গম চরাঞ্চলে। তার সেই ছুটে চলা প্রানবন্ত দেহটি এখন নিথর হয়ে পড়ে আছে ভাঙ্গাচোড়া বসত ঘরে। সদা হাস্যোজ্জ্বল নিঃসন্তান একজন জৈষ্ঠ্য সাংবাদিকের এমন অবস্থা দেখে কাঁদছে জেলার পুরো সাংবাদিক সমাজ।

ক্যান্সার আক্রান্ত সাংবাদিক এম. সুলতান আলম জামালপুর শহরের লাঙ্গলজোড়া গ্রামের মৃত. জয়নাল আবেদীনের সন্তান। ব্যক্তি জীবনে সাংবাদিক এম. সুলতান আলমের স্ত্রী শাহিদা আক্তার মলিকে নিয়ে বাস করেন ভাঙ্গা-চোড়া একটি দোচালা ঘরে। ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সাংবাদিকতায় শেষ করেছেন নিজের ৩০টি বছর।

সাংবাদিক এম. সুলতান আলমের ভাতিজা শাহরিয়ার হাসান উল্লাস জানান, ২০২৪  সালের ১২ ডিসেম্বর হঠাৎ কাকা শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচন্ড পেট ব্যাথা নিয়ে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও কোনো সমাধান না পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী ঢাকাতে। সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৩১ ডিসেম্বর গলব্লাডার ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর ধীরে ধীরে আরো শারীরিক অবনতি হয় সাংবাদিক এম. সুলতান আলমের। বর্তমানে অর্থের অভাব, উন্নত চিকিৎসার অভাব ও শারীরিক জটিলতার জন্য নিজ বাড়িতেই ধুকে ধুকে দিন পার করছেন তিনি। এখন তিনি কিছুই খেতে পারেন না। আর তার কথা গুলো স্পষ্ট হচ্ছে না। একদম শুকিয়ে গেছেন।

সাংবাদিক এম. সুলতান আলম স্ত্রী শাহিদা আক্তার মলি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব অর্থ সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। যা ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা করানোর পর এখন আমাদের হাত শূণ্য। এখন অর্থের অভাবে আমরা তার চিকিৎসা করতে পারছি না। তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে আমাদের চোখের সামনে দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে লোকটি।’

শাহিদা আক্তার মলি আরো বলেন, ‘তার চিকিৎসার জন্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন। সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমরা খুব উপকৃত হবো। যে কেউ চাইলে আমাদের ব্যাংক হিসাব বা বিকাশে টাকা দিতে পারেন। ব্যাংক হিসাব- এম সুলতানা আলম, হিসাব নং-১৫৬০১০১০৭০৬৬৬, পূবালী ব্যাংক, জামালপুর শাখা। আর বিকাশ নাম্বার হলো- ০১৭১৬৫১৭৩৩৫।’

প্রেসক্লাব জামালপুরের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন-‘আমাদের মফস্বল সাংবাদিকদের শেষ জীবন এমনটাই হয়। সাংবাদিক সুলতান আলম সৎ সাংবাদিক হিসেবে আমাদের কাছে একটি দৃষ্টান্ত। অসুস্থতার পর থেকেই আমরা তার পাশে দাড়িয়েছি। তবে এর পরিমান খুবই সামান্য। কারন তার চিকিৎসাটি খুবই ব্যয়বহুল। এখন সরকার আর সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি যদি তার পাশে না দাড়ায়। তাহলে আমরা অসময়ে একজন ভালো সাংবাদিককে হারাবো। আমরা চাই সবাই এগিয়ে এসে এই নির্ভীক সাংবাদিককে আবারো বাঁচিয়ে তুলি। তার লেখায় যেনো আমরা আবারো সমৃদ্ধ হই। আমরা আবার ফিরে পেতে চাই সাংবাদিক সুলতান আলমকে এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের এবং হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা।’

জনপ্রিয় সংবাদ

বেতন বাড়ানোর প্রস্তাবে উপদেষ্টাদের অসন্তোষ

আমরা ফিরে পেতে চাই সাংবাদিক সুলতানকে, প্রয়োজন সহযোগিতা

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫

জামালপুরে অর্থ কষ্ট আর উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর দিনক্ষন গুনছেন দি বাংলাদেশ টুডে’র সাংবাদিক এম. সুলতান আলম। দীর্ঘ কর্ম জীবনে সংবাদের পেছনে ছুটেছেন শহর থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম ও দূর্গম চরাঞ্চলে। তার সেই ছুটে চলা প্রানবন্ত দেহটি এখন নিথর হয়ে পড়ে আছে ভাঙ্গাচোড়া বসত ঘরে। সদা হাস্যোজ্জ্বল নিঃসন্তান একজন জৈষ্ঠ্য সাংবাদিকের এমন অবস্থা দেখে কাঁদছে জেলার পুরো সাংবাদিক সমাজ।

ক্যান্সার আক্রান্ত সাংবাদিক এম. সুলতান আলম জামালপুর শহরের লাঙ্গলজোড়া গ্রামের মৃত. জয়নাল আবেদীনের সন্তান। ব্যক্তি জীবনে সাংবাদিক এম. সুলতান আলমের স্ত্রী শাহিদা আক্তার মলিকে নিয়ে বাস করেন ভাঙ্গা-চোড়া একটি দোচালা ঘরে। ৫৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সাংবাদিকতায় শেষ করেছেন নিজের ৩০টি বছর।

সাংবাদিক এম. সুলতান আলমের ভাতিজা শাহরিয়ার হাসান উল্লাস জানান, ২০২৪  সালের ১২ ডিসেম্বর হঠাৎ কাকা শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচন্ড পেট ব্যাথা নিয়ে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও কোনো সমাধান না পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী ঢাকাতে। সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৩১ ডিসেম্বর গলব্লাডার ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর ধীরে ধীরে আরো শারীরিক অবনতি হয় সাংবাদিক এম. সুলতান আলমের। বর্তমানে অর্থের অভাব, উন্নত চিকিৎসার অভাব ও শারীরিক জটিলতার জন্য নিজ বাড়িতেই ধুকে ধুকে দিন পার করছেন তিনি। এখন তিনি কিছুই খেতে পারেন না। আর তার কথা গুলো স্পষ্ট হচ্ছে না। একদম শুকিয়ে গেছেন।

সাংবাদিক এম. সুলতান আলম স্ত্রী শাহিদা আক্তার মলি বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব অর্থ সম্পত্তি বলতে কিছুই নেই। যা ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা করানোর পর এখন আমাদের হাত শূণ্য। এখন অর্থের অভাবে আমরা তার চিকিৎসা করতে পারছি না। তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসার অভাবে আমাদের চোখের সামনে দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে লোকটি।’

শাহিদা আক্তার মলি আরো বলেন, ‘তার চিকিৎসার জন্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন। সরকার বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমরা খুব উপকৃত হবো। যে কেউ চাইলে আমাদের ব্যাংক হিসাব বা বিকাশে টাকা দিতে পারেন। ব্যাংক হিসাব- এম সুলতানা আলম, হিসাব নং-১৫৬০১০১০৭০৬৬৬, পূবালী ব্যাংক, জামালপুর শাখা। আর বিকাশ নাম্বার হলো- ০১৭১৬৫১৭৩৩৫।’

প্রেসক্লাব জামালপুরের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন-‘আমাদের মফস্বল সাংবাদিকদের শেষ জীবন এমনটাই হয়। সাংবাদিক সুলতান আলম সৎ সাংবাদিক হিসেবে আমাদের কাছে একটি দৃষ্টান্ত। অসুস্থতার পর থেকেই আমরা তার পাশে দাড়িয়েছি। তবে এর পরিমান খুবই সামান্য। কারন তার চিকিৎসাটি খুবই ব্যয়বহুল। এখন সরকার আর সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি যদি তার পাশে না দাড়ায়। তাহলে আমরা অসময়ে একজন ভালো সাংবাদিককে হারাবো। আমরা চাই সবাই এগিয়ে এসে এই নির্ভীক সাংবাদিককে আবারো বাঁচিয়ে তুলি। তার লেখায় যেনো আমরা আবারো সমৃদ্ধ হই। আমরা আবার ফিরে পেতে চাই সাংবাদিক সুলতান আলমকে এজন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের এবং হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতা।’